ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

লঘু চাপের প্রভাবে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া নৌযোগাযোগ ব্যাহত

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০১৯, ৬:০৮ পিএম

বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপের প্রভাবে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সহ উপক’লীয় এলাকায় দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বরিশাল সহ দক্ষিনের সব নদী বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ৬০Ñ৮০কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি ও বজ্র-বৃষ্টি সহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবার কথা জানিয়ে ২নম্বর সতর্ক সংকেত জারী করেছে আবহাওয়া বিভাগ। ফলে অনধিক ৬৫ফুট দৈর্ঘের সব নৌযানের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। অপরদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পদ্মায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি স্পীডবোট উল্টে কয়েকজন যাত্রী নিখোজ হবার পরে দুপুর থেকে মওয়া সেক্টরে শিমুলিয়াÑকাঠালবাড়ী রুটে ফেরি চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে দুপুর থেকে ঐ সেক্টরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানী ও সন্নিহিত এলাকার সাথে দেশের দক্ষিন ও দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সংক্ষিপ্ত সড়ক পথে যানবাহন পারাপারে বিপর্যয় নেমে আসে। ঈদ পরবর্তি যানবাহনের চলাচল সিমিত থাকায় মঙ্গলবার সকালের পূর্ববর্তি ২৪ঘন্টায় দেশের ফেরি সেক্টরগুলোতে প্রায় সাড়ে ৩হাজার যানবাহন পারাপার সম্পন্ন হয়। তবে পটুরিয়া ও মাওয়া সেক্টরে যাত্রী পারাপারে বেশী চাপ থাকায় যানবাহন ফেরিতে উঠেতেই বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ফেরি পারপার বিঘœ ঘটায় একদিকে ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলে ফেরা শ্রমজীবী মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে, তেমনি যানবাহন পারপারেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। 

মঙ্গলবার দিনভরই বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চল সহ উপকূলীয় এলাকায় মাঝারী থেকে ভারি বর্ষন অব্যাহত ছিল । সকাল থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত বরিশালে প্রায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনাতে বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল আরো বেশী। মঙ্গলবার সকাল ৬টার পূর্ববর্তি ২৪ঘন্টায় ভোলাতে ৬৫ মিলিমিটার, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২৮ মিলিমিটার এবং বরিশালে ২৪মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখি নৌচলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের মধ্যবর্তি ভাটি মেঘনায় প্রবল শ্রোতের সাথে উত্তাল ঢেউ-এর কারনে নৌযান চলাচল ঝুকিপূূর্ণ রয়েছে। ঈদ পরবর্তি ছুটি কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী মুখি জনশ্রোত শুরু হবে শুক্রবার থেকে । তবে অনেকেই নৌযানসমুহে মাত্রারিক্ত ভীড়ের বিড়ম্বনা ও ঝুকি এড়াতে মঙ্গলবার থেকেই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। নৌযান মালিকরা অবশ্য বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ আশা করছেন। শণিবার সর্বাধীক সংখ্যক যাত্রী রাজধানীতে ফিরবে। তবে আগামী সপ্তাহ যুড়েই দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখি শ্রমজীবী মানুষের ভীড় অব্যাহত থাকবে ।
সে হিসেব করে শুক্রবার থেকে বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী নদী বন্দর থেকে অন্তত ৩০টি নৌযান প্রতিদিন ডবল ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করবে। তবে সব কিছই নির্ভর করছে অনুকুল আবহাওয়ার ওপর।
এদিকে আবহাওয়া বিভাগ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করার কথা জানিয়ে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হবার কথা বলা হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবার কথা জানিয়ে বরিশালের পায়রা সহ সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত
উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চল যুড়ে আগামী ২৪ঘন্টায় মাঝারী থেকে ভারি বর্ষনের কথা জানিয়ে পরবর্তি ৭২ ঘন্টায় পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তনের কথাও বলেছে আবহায়া বিভাগ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন