ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

জটের চাপে চট্টগ্রাম বন্দর

ছুটির ফাঁদে কমেছে পণ্য ডেলিভারি পরিবহন

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

জটের চাপে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। কন্টেইনার এবং জাহাজের দ্বিমুখী জট তৈরি হয়েছে। ঈদুল আজহার টানা ছুটির ফাঁদে প্রায় থমকে গেছে পণ্য খালাসের পর স্বাভাবিক গতিতে ডেলিভারি কার্যক্রম। আমদানি পণ্যসামগ্রী খালাসের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে ডেলিভারি পরিবহন। আমদানি পণ্যবাহি কন্টেইনার জাহাজ ও খোলা সাধারণ মালামাল বোঝাই জাহাজবহরের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল। বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের মালামাল লাইটারিং খালাস কাজ হচ্ছে ব্যাহত। সিডিউল অনুযায়ী একের পর এক জাহাজের আগমন এবং আমদানি পণ্য খালাসের সাথে সাথে আরও কয়েকদিন জট বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে পণ্য জাহাজীকরণ এবং ডেলিভারি পরিবহনে বন্দর সবমসয়ই প্রস্তুত ও সচল বলে জানান কর্মকর্তারা। আমদানিকারক, ব্যবসায়ী মহল তথা বন্দর ব্যবহারকারি অনেকেরই ঈদের সময় ডেলিভারি নিতে না আসার কারণে কন্টেইনার মজুদ বেড়ে যাচ্ছে।

গতকাল (বুধবার) বন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে কন্টেইনার মজুদ ছিল ৪২ হাজার ২৪০ টিইইউএস (২০ ফুট আকারের ইউনিট হিসাবে)। একদিন আগে মঙ্গলবার মজুদ ছিল ৪১ হাজার ৬৪৫ টিইইউএস কন্টেইনার। বন্দরের ধারণক্ষমতা হচ্ছে ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউএস। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে পৌনে ৭ হাজার টিইইউএস কম। এক সপ্তাহ আগে গত ৭ আগস্ট বন্দরে কন্টেইনার মজুদ ছিল ৩৫ হাজার ১৪৪ টিইইউএস। এর মধ্যে বেড়ে গেছে ৭ হাজার ৯৬ টিইইউএস কন্টেইনার। সামনের কয়েকদিনে জট আরও বাড়তে পারে। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে ছুটির আমেজ কেটে গেলে বন্দর কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি ফিরবে আশা করা হচ্ছে।

কন্টেইনার জটের পাশাপাশি বন্দরে জাহাজ জট সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বন্দরে অবস্থানরত ১১০টি কর্মোপযোগী জাহাজবহরের বিপরীতে পণ্যসামগ্রী খালাস ও শিপমেন্টের কাজ চলেছে ৩৯টি জাহাজে। এক সপ্তাহ আগে ৬৭টি জাহাজে কাজ চলে। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি পরিবহনের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। বন্দর থেকে গত ৭ আগস্ট যেখানে একদিনে ৪ হাজার ৯৭৬টি কন্টেইনার ডেলিভারি হয়, সেখানে গতকাল হয়েছে ১১৫২টি। মঙ্গলবার কোনো কন্টেইনার ডেলিভারি হয়নি।

তাছাড়া বৈরী আবহাওয়া এবং ঈদের ছুটির আমেজ মিলিয়ে বহির্নোঙরে আমদানিকৃত শিল্পের কাঁচামাল, নিত্যপণ্য, খাদ্যপণ্য বোঝাই জাহাজবহর পণ্য খালাসের অপেক্ষায় অলস বসে আছে। বন্দরের মালামাল পরিবহনের জন্য স্বাভাবিক সময়ে ৪ থেকে ৫ হাজার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ছুটে চলে। বর্তমানে তার চার ভাগের একভাগও নেই। পরিবহন শ্রমিক ও এজেন্টরা ঈদের টানা ছুটিতে নিজেদের বাড়িঘরে চলে গেছেন।

দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। বন্দরে আমদানি পণ্য খালাসের হারের তুলনায় ডেলিভারি পরিবহন কমে গেছে। ডেলিভারি পরিবহনের সাথে জড়িত ট্রান্সপোর্ট এজেন্ট, ঠিকাদার, শ্রমিক-কর্মচারীরা ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িঘরে ছুটে গেছেন। শিপিং-কাস্টসম, সিএন্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস, গার্মেন্টস খাত, বিভিন্ন শিল্প-কারখানা মালিক ও কাঁচামাল আমদানিকারক, কনসাইনিসহ আমদানি-রফতানিকারকসহ স্টেক হোল্ডারগণ বেশিরভাগই অনুপস্থিত। তাদের স্বাভাবিক কর্মকান্ডের ওপর বন্দরের সচল থাকা নির্ভর করে।

অন্যদিকে বন্দর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোগুলো (আইসিডি) বা অফডকে কন্টেইনারের জট এখন তীব্র। ১৮টি ডিপোতে প্রায় ৭০ হাজার কন্টেইনার জমে গেছে। বন্দর থেকে প্রতিদিন ডিপোগুলোতে যাচ্ছে আরও আমদানি কন্টেইনার। ঈদের ছুটির আমেজ এবং বৈরী আবহাওয়া পুরোপুরি কেটে যাওয়া পর্যন্ত কন্টেইনার ও জাহাজ জটের কারণে বন্দরের ভেতরে-বাইরে পণ্যসামগ্রী মজুদ, হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি পরিবহনের ক্ষেত্রে বেসামাল অবস্থা তৈরি হতে পারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন