ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ফের বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পুনর্নির্বাচন দাবি

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ১৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনর্নিবাচন দাবি ও সম্প্রতি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ফের বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। উক্ত দাবিতে ইতিমধ্যে তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি। এই তিনটি সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের বিপুল সংখ্যক জমায়েত নিয়ে বিএনপির তৃণমূল উজ্জীবিত। এভাবে বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে চায় দলটি। কুরবানী ঈদের আগেই সব বিভাগের সমাবেশ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। কিন্তু রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জেলাগুলোয় বন্যা কবলিত হওয়ায় বিভাগীয় সমাবেশ শেষ করতে পারেনি দলটি। বরং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায় দলটি। সারাদেশের বন্যাকবলিত এলাকা চিহ্নিত করে ৫ টি কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিমের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগ প্রকট আকার ধারণ করায় তা নিয়েও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপি। ঢাকা মহানগরীর প্রায় প্রতিটি থানা এবং ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। দেশের জেলা ও উপজেলায়ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাবের উদ্যোগে ডেঙ্গু পরামর্শ কেন্দ্র ও হটলাইন চালু করা হয়েছে। এখন বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশগুলো শেষ করতে চায় বিএনপি। একইসাথে দল পুনর্গঠনের কাজও অব্যাহত রেখেছে দলটি। গত মঙ্গলবার নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মুক্তি এবং অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবি ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, অব্যাহত গুম-খুন-ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতির প্রতিবাদে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আমানতকারীসহ ব্যাংকিং তথা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বেহাল দশার বিষয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেয়া হবে। ইতোমধ্যে গত ১৮ জুলাই বরিশালে, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় সমাবেশ করেছে বিএনপি। এই তিনটি সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের জমায়েত নিয়ে বিএনপির তৃণমূল উজ্জীবিত। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে বাকি বিভাগীয় সমাবেশগুলো দ্রæত শেষ করতে চায় বিএনপি। যদিও ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরগুলোয় সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলের হাইকমান্ড।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সারাদেশে বন্যা ও ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ আপাতত স্থগিত আছে। তা ঈদের পরে আবার শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদÐ দেন ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়া মাঠ প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক। ওইদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একাধিকবার ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি। একইসাথে আইনী লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন দলের সিনিয়র আইনজীবীরা।

বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা। পাশাপাশি আগামী অক্টোবরের মধ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিলের আগে দল পুনর্গঠনের কাজও সেরে নিতে চান তারা। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে শুন্য পদসমূহ পূরণ, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন এবং জেলা কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে। সমাবেশ শেষে জেলা পর্যায়ে সমাবেশেরও চিন্তাভাবনা রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের। কুরবানির ঈদের আগেই সবগুলো বিভাগীয় শহরে সমাবেশ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল কিন্তু বন্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন অবশিষ্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে সমাবেশের তারিখ ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরা আলোচনা করে তারিখ চ‚ড়ান্ত করে কেন্দ্রকে জানাবেন।

জানা যায়, গত ২২ জুন রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি সহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচী দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যার অংশ হিসেবে প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করবে বিএনপি। এরপর ১৩ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির ফের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কর্মসূচী প্রণয়ন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিশদ আলোচনা হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশ করার জন্য ৭ সেপ্টেম্বর প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেটা পরিবর্তন হতে পারে। কেন্দ্রের সাথে পরামর্শ করে সমাবেশের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, উত্তরাঞ্চলে ভারী বর্ষণে বন্যা তৈরি হওয়ায় রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এখন ওই এলাকায় বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়াকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আমরা ২৯ জুলাই রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। আশা করি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী বিভাগে বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ করা হবে।

তিন সমাবেশের পর উজ্জীবীত তৃণমূল: এদিকে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের পর বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরো উজ্জীবিত হয়েছেন। হামলা-মামলা উপেক্ষা করেও সমাবেশগুলোতে যেভাবে মানুষের ঢল নেমেছিল সেটা তারই বহি:প্রকাশ। গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দী ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। খুলনার সমাবেশে তার নির্বাচনী এলাকার সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ফিরোজ বলেন, বৃষ্টি উপক্ষো করে খুলনার সমাবেশে যেভাবে হাজারো দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছিল তাতেই প্রমাণিত হয় বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায়। আমরা এই সরকারের হুমকি আর মামলাকে পরোয়া করিনা। আশা করি এই সরকার খুব বেশিদিন টিকতে পারবেনা। জনগণের ভালোবাসায় একটি গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে। এক্ষেত্রে বিএনপির ওপরই সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।###

 

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
Naim Uddin ১৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৪৩ পিএম says : 0
আশা করি এই সরকার খুব বেশিদিন টিকতে পারবেনা। জনগণের ভালোবাসায় একটি গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে।
Total Reply(0)
মাসুদ খান নিরব ১৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৪৩ পিএম says : 0
Allah tumi rahmat koro
Total Reply(0)
মোঃ আজগর হোসেন সুমন ১৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৪২ পিএম says : 0
শুভ কামনা
Total Reply(0)
জাহিদ ১৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৩৫ পিএম says : 0
এবাবে প্রতিটি জেলা কমিটি করে আন্দোলনের ঢাকদিন দেখবেন আন্দোলনের সফল হবেই
Total Reply(0)
Kibria Sohel ১৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৪১ পিএম says : 0
লাভ কি সমাবেশ করে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন