ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

হজের পর : হজ-পরবর্তী জীবনের আলোকপ্রদীপ

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম

হজের মওসুম শেষ হয়েছে। আল্লাহর বান্দাগণ দেশে ফিরে আসছেন। একটি ভূখন্ডের জন্য এটা খুবই বরকতের বিষয় যে, এখান থেকে আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আল্লাহর ঘরের দিকে যান, এরপর আল্লাহর বিধান পালন করে সেই ভূখন্ডে প্রত্যাবর্তন করেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, ‘জনপদের অধিবাসীরা যদি জানত তাদের ওপর হজ আদায়কারীদের কী হক, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসে, তাহলে তারা তাদের সওয়ারিগুলোকেও চুমু খেত! এরা তো সকল মানুষের মাঝে আল্লাহর প্রতিনিধিদল।’ -শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৮/৫৩।

হজ আদায়ের সূত্রে আল্লাহর সাথে বান্দার এই যে নিসবত এবং এ নিসবতের এই যে মর্যাদা, তা যেমন অন্যদের উপলব্ধির বিষয়, তেমনি যাদের হজের মতো মর্যাদাবান ইবাদত আদায়ের সৌভাগ্য হয়েছে তাদেরও উপলব্ধির বিষয়। এই মহা নিসবতের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারলেই তো তা রক্ষা করার ব্যাপারে যত্মবান হওয়া যাবে।

জীবনের কোনো কাজকেই হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়। মনুষ্যজীবনের কোনো কিছুই হালকা নয়। কারণ তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এবং সেই মুহূর্তের কাজের বিষয়ে জবাবদিহিতার প্রসঙ্গ আছে। জীবনের কাজগুলো ভালো হোক বা মন্দ, কিছুতেই গুরুত্বহীন নয়; যে কোনো মানুষের ক্ষেত্রেই এ বিষয়টি সত্য এবং মানুষমাত্রেরই এই বাস্তবতা উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

এরপর যাদের আল্লাহ ঈমানের মতো মহা নিয়ামত দান করেছেন, যাদের বুকের ভিতর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ঐশী প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে তো জীবন ও কর্মের মূল্য একেবারেই স্পষ্ট। জীবনের কোনো কথা ও কাজই যে গুরুত্বহীন নয়, প্রতিটি কথা ও কাজের সাথেই যে রয়েছে শেষ পরিণামের ভালো-মন্দের গভীর সম্পর্ক- এ হাকিকত তো তাদের কাছে মোটেই অস্পষ্ট থাকে না। তাদের বিশ্বাস- যে যাররা পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখবে আর যে যাররা পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তা দেখবে। তাহলে জীবনের কাজকর্ম কিভাবে অবহেলাযোগ্য হতে পারে?

মুমিন তো বিশ্বাস করে, প্রত্যেকের জন্য বিশ্বাস ও কর্মের ঐ পথটিই সহজ করে দেয়া হয়, যে পথের শেষ পরিণামের জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই সে যখন পুণ্য ও ভালোর পথে চলার তাওফিকপ্রাপ্ত হয় তখন তার মনে উত্তম পরিণামের প্রত্যাশা জন্ম নেয়। তার মন আনন্দে ভরে ওঠে এবং এই পথে অটল থাকার চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করে।

পক্ষান্তরে যখন পাপ ও মন্দের পথে চলে তখন তার মনে অশুভ পরিণামের আশঙ্কা জাগে এবং দ্রুত সে ওই পথ থেকে ফিরে আসে এবং ভালোর পথে চলা শুরু করে। আশা ও ভয়ের মাঝে আশার পাল্লা ভারী করার চেষ্টা মুমিনের কাজকর্মের নিয়ন্ত্রক ও পরিচালক হয়ে দাঁড়ায়।

কাজেই কোনো ভালো কাজের তাওফিক হলে সেটার গুরুত্ব ও মর্যাদা উপলব্ধি করা এবং সেই মর্যাদা ও গুরুত্ব রক্ষা করা অতি প্রয়োজন। ছোট-বড় সকল ভালো কাজের ব্যাপারেই এ কথা। হজ তো বড় কাজগুলোর মধ্যেও ওপরের দিকের বড় কাজ। এটি একটি ফরজ আমল, ইসলামের অন্যতম প্রধান রোকন। কাজেই এই আমলের মর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা অবশ্যকর্তব্য।

হজ এবং অন্যান্য ইবাদত ও নেক আমলের মর্যাদা রক্ষার সাধারণ উপায় হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও ইতায়াতের পথে অবিচল থাকা। নিজের বিশ্বাস ও কর্মের মুহাসাবা করে ত্রুটিগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা। বর্তমান দ্বীনদারি রক্ষা করা এবং প্রতিদিন কিছু পরিমাণে হলেও উন্নতির চেষ্টা করা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
সাইফুল্লাহ ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৫:৪৭ এএম says : 0
আসলে করণীয় ও বর্জনীয় দুটি একই জিনিস। করণীয় যদি আমরা জানতে পারি, বর্জনীয়ও আমরা খুব সহজে জানতে পারব। প্রথম কথা হচ্ছে, হজে গিয়ে হাজিরা যেই তালবিয়া পাঠ করেছেন, সেই তালবিয়ার মূল যে দাবি আছে, সেটাকে পূরণ করতে হবে। সর্বপ্রথম হচ্ছে তাওহিদ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের তাওহিদকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাওহিদের পরিপন্থী কোনো কাজ একজন আল্লাহর বান্দা, আর যদি তিনি হাজি সাহেব হয়ে থাকেন, তাঁর জন্য করা জায়েজ নেই। তাওহিদের পরিপন্থী কাজগুলো প্রত্যেকটাই মূলত ব্যক্তির ইমান, আমল ও তাঁর সব কৃতকর্মকে ধ্বংস করে দেয়। সেটা হচ্ছে শিরক। দ্বিতীয় হচ্ছে, নিজের ব্যক্তিগত জীবনে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণকে প্রাধান্য দেবেন। তিনি সুন্নাহ অনুযায়ী বাকি জীবনটি কাটানোর চেষ্টা করবেন। তৃতীয় পয়েন্টটি হচ্ছে, আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা বলেছেন, ‘হজ করার পরে যদি সত্যিকার হাজি মাবরুর করে থাকেন, তাহলে তাঁর অবস্থা হচ্ছে, তিনি নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এলেন।’ নিষ্পাপ ব্যক্তি যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন তিনি তাঁর এই হজটাকে পরবর্তী জীবনে ধরে রাখার জন্য, যাতে করে তিনি এ অবস্থায় থাকতে পারেন। স্বেচ্ছায় যাতে কোনো অপরাধ, অন্যায়, কোনো জুলুমের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত না করেন। কারণ, হজ করার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অবাধ্যতার সঙ্গে যদি নিজেকে সম্পৃক্ত করে নেন, এর অর্থ হচ্ছে তিনি আসলেই জান্নাতের কাছে গিয়েও জান্নাতে পৌঁছাতে পারেননি। যেহেতু আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, কিন্তু তিনি সেই ক্ষমার ওপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখতে পারেননি। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চতুর্থ মৌলিক বিষয়টি হচ্ছে সালাত, যেটা রাসূল (সা.) বলেছেন, ইমানের প্রতিরক্ষা, নিয়মিত সালাতের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দেখা যায়, অনেকেই খামখেয়ালি করে থাকেন। পঞ্চম বিষয় হচ্ছে, অন্যের হক নষ্ট করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখা। আমরা চেষ্টা করব এই কাজগুলো যদিও বলতে খুব সহজ, কিন্তু প্রতিটি কাজই অনেক বিশাল এবং জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমানদার ব্যক্তি যখন হজ করবেন তাঁকে এটাই খেয়াল রাখতে হবে যে আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। আমি এই স্বীকৃতি দিয়েছি যে আল্লাহ আমি হাজির হয়েছি, অপরাধের বিষয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের স্বীকৃতি দিয়ে ক্ষমা নিয়ে এসেছি।
Total Reply(0)
নাহিয়ান ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৫:৪৭ এএম says : 0
নামাজ, রোজা থেকে হজের বিধানটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা, এটি মুসলমানের ওপর প্রতিদিন অথবা প্রতি বছর ফরজ হয় না। বরং জীবনে মাত্র এক বারই ফরজ হয়ে থাকে। হজের সফরের পূর্ণ সময়টা মূলত মানুষের জীবনে তাকওয়া ও খোদাভীতি অর্জনের এক মোক্ষম সময়।
Total Reply(0)
নাহিয়ান ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৫:৪৮ এএম says : 1
হজের স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণে একজন মানুষ নিজেকে পরিপূর্ণ মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলে। তাই দেশে ফিরেও যেন সেই তাকওয়া অটুট থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। আর হজের সফরের আগে থেকে পেশাগত অথবা অন্য কোনো কারণে কোনো প্রকার গুনাহর কাজে জড়িত থাকলে হজ সফরের পূর্বেই তা থেকে সম্পূর্ণভাবে পৃথক হয়ে যাওয়া এবং হজের সময় জুড়ে আল্লাহর কাছে বারংবার কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থণা করতে থাকা জরুরি।
Total Reply(0)
দবির শেখ ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৫:৪৮ এএম says : 0
হজ শেষে দেশে ফিরে সব রকমের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। এজন্য আল্লাহ ওয়ালাদের সংস্পর্শে থাকা উচিত। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যনিষ্ঠদের সঙ্গে থাক।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১১৯)
Total Reply(0)
তাইজুল ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৫:৪৯ এএম says : 1
একজন হাজি সাহেবের হজের পরে কিছু কিছু অভ্যাসও এমন করা উচিত যা তার সারা জীবন চলমান থাকবে। আর তা হল এই যে, ১. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কিছু পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত করা। ২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে আদায়ের চেষ্টা করা। ৩. প্রতিদিনের ফরজ ও সুন্নত নামাজের পাশাপাশি কিছু পরিমাণ নফল নামাজেরও অভ্যাস গড়ে তোলা। ৪. তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার চেষ্টা করা। ৫. প্রতিদিন দুরুদ শরিফ, ইস্তেগফার ও অন্যান্য দুয়া জিকির ইত্যাদি পাঠ করা। এইভাবে চলতে পারলে আমাদের হজ পরবর্তী জীবন স্বার্থক হবে, আমাদের জীবন ধন্য হবে এবং আমরা সফলতা অর্জন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ ।
Total Reply(0)
কাবের ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৫:৪৯ এএম says : 0
আল্লাহ আমাদের সকলকে কবুল করুন।(আমিন)
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন