ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে ঝুঁকিতে কাশ্মীরীদের স্বাস্থ্য

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৪:২৬ পিএম | আপডেট : ৭:৩০ পিএম, ১৯ আগস্ট, ২০১৯

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও খ্যাতনামা ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট গত শনিবার কাশ্মিরের বিষয়ে ‘কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ ঘিরে ভয় ও অনিশ্চয়তা’শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা এই উপত্যকার বিরুদ্ধে নেয়া ভারতের পদক্ষেপকে বিতর্কিত বলে বর্ণনা করেছে এবং এই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘বিতর্কিত’ বলেছে ‘ল্যানসেট’ পত্রিকা। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, কাশ্মীরে কমপক্ষে ২৮,০০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে; রাজধানী শ্রীনগর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে ইন্টারনেটসহ সকল যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং কঠোরভাবে কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। সেনা উপস্থিতি কাশ্মীরী জনগণের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা প্রশ্নে উদ্বেগ গুরুতরভাবে বাড়িয়ে তুলছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মীরের উন্নয়ন হবে। কিন্তু তার আগে দরকার কাশ্মীরবাসীর (মনের) গভীর ক্ষত নিরাময়। দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘর্ষ সেই ক্ষত তৈরি করেছে। কাজেই তাদের হিংসা ও বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেয়া যায় না।

১৯৮৯ সালে কাশ্মীরের বিদ্রোহের পর থেকে, উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘাতে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। গত মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটসের হাই কমিশনারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সেনা বাহিনী ও সশস্ত্র দলগুলি দ্বারা অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সীমান্তের গুলিগোলা, যৌন হিংসা, সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম থেকে শুরু করে কাউকে গায়েব করে দেওয়া— সবই আছে। প্রতিবেদনে বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অব্যাহত ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে শটগানের ছররা-গুলির ব্যবহারের ফলে ১২৫৩ জন মানুষ অন্ধ হয়ে গেছে। এই দীর্ঘায়িত সহিংসতা ভয়াবহ মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কটের দিকে কাশ্মীরবাসীদের পরিচালিত করেছে।

চিকিৎসা বিষয়ক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ)-এর একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। কাশ্মীরের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত দু’টি গ্রামীণ জেলায় চালানো ওই সমীক্ষার ভিত্তিতে এমএসএফ বলেছে, প্রায় অর্ধেক সংখ্যক কাশ্মীরি কদাচিৎ নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। আর হিংসাত্মক ঘটনায় পরিবারের মানুষকে হারানো প্রতি পাঁচ জন মানুষের মধ্যে এক জন স্বচক্ষে মৃত্যু দেখেছেন। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রবন্ধটিতে বলা হয়েছে, আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এই অঞ্চলের মানুষেরা উদ্বেগ, অবসাদ এবং ‘পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ (ভয়াবহ ঘটনার ছায়া থেকে আর বেরোতে না-পারা)-এর শিকার।

তবে এর মাঝে আশার আলোও দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, বহুদিনের অস্থিরতা সত্ত্বেও ২০১৬ সালে কাশ্মীরিদের গড় আয়ু ভারতবাসীর সার্বিক গড় আয়ুর চেয়ে বেশি ছিল। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৬৮.৩ বছর, মহিলাদের ৭১.৮ বছর।

এদিকে সম্পাদকীয়টি প্রকাশ করায় ভারতে সমালোচনার শিকার হয়েছে পত্রিকাটি। অনেকে টুইটারে লিখেছেন, ‘ল্যানসেটের উচিত রাজনীতির বদলে স্বাস্থ্য আর ওষুধে দিকে নজর দেয়া।’ তাদের পর্যবেক্ষণকে ‘একপেশে’ বলে পত্রিকাটিকে বয়কটের ডাকও দিয়েছেন কেউ কেউ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন