ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন : আমাদের এখানে এক হুজুর হেলিকপ্টার দিয়ে ওয়াজ করতে এলেন। উনাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হেলিকপ্টার ভাড়াসহ দেয়া হলো। অথচ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ভাড়া বাসে ১৫০-২২০ টাকা, ট্রেনে ১০০-১৮০ টাকা, সেখানে হুজুর ৫০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে হেলিকপ্টার নিয়ে এলেন। এত টাকা অপচয়ের জবাব আল্লাহর কাছে তিনি কিভাবে দেবেন? আমরা জানি, অপচয়কারী শয়তানের ভাই।

শারীফ সাবিনা
ই-মেইল থেকে

প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৭:০২ পিএম

উত্তর : অপচয়কারী শয়তানের ভাই। এটা কোরআন শরীফের আয়াত। এখানে অপচয় অর্থ হারাম পথে ব্যয় করা, যার নাম ‘তাবযীর’। হালাল ক্ষেত্রে অপচয় গুনাহের কাজ, যাকে শরীয়ত ‘ইসরাফ’ বলে থাকে। তবে অপচয় কোনটাকে বলে তা শরীয়ত থেকে প্রত্যেককে শিখতে হবে। আমার দৃষ্টিতে যা অপচয়, অপরের দৃষ্টিতে তা প্রয়োজন বিবেচিত হতে পারে। এটি আপেক্ষিক বিষয়। যদি কেউ নিজের সময় সুবিধা ও শৃঙ্খলার জন্য বৈধ পথে জীবনযাপন চিকিৎসা কিংবা যাতায়াতে অধিক ব্যয় করেন, তাহলে এটিকে এক কথায় অপচয় বলে দেয়া ঠিক নয়। আলোচ্য বক্তাকে যারা দাওয়াত করেন সম্পূর্ণ দায় তাদের। কেননা, কোনো বক্তা কাউকে বাধ্য করেননি তাকে লাখ টাকা খরচ করে নিতে। অনেকে আছেন, নিজের জানমাল ও সময় খরচ করে ওয়াজ করেন, কিন্তু মানুষ তার ওয়াজ মন দিয়ে শোনে না। অনেকে আছেন, ন্যূনতম ভাড়া নেন, কেউ কেউ মানুষ যা দেয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন। অনেকে ওয়াজ করতে গিয়ে সারাজীবনই ভর্তুকি দেন। কেউ হয়তো শৃঙ্খলা ও সময় ঠিক রাখতে এবং দাওয়াতকারীদের নানারকম অবিবেচনামূলক আচরণ থেকে রক্ষা পেতে একটু কড়া হয়ে যান। টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলে নেন। এসবই পরিস্থিতির বিচারে ভালো বা মন্দ বিষয়। নিয়ত অনুপাতে এর বিচার করতে হবে। তবে ১০০ টাকায় যেখানে যাওয়া যায়, সেখানে ৩০০ টাকা দিয়ে এসি গাড়িতে যাওয়া, ৫০০০ টাকা দিয়ে প্রাইভেটকারে যাওয়া, সুবিধা থাকলে বিমানে যাওয়া, প্রয়োজনে লাখ টাকা খরচ করে অন্য কোনো যানবাহনে যাওয়া, যদি বৈধপথে যুক্তিসঙ্গত কারণে হয়ে থাকে তাহলে একে সরলভাবে অপচয় বলা হয় না। শুধু ওয়াজের ক্ষেত্রে দাওয়াতকারীদের সম্মত হওয়ার কারণে কোনো বক্তা হেলিকপ্টারে গেলে তাকে কোনোভাবেই দায়ী করা যায় না। তাকে নিলেই তিনি যান, না নিলে কেন যাবেন। এখানে অপচয়ের বিধান প্রযোজ্য হলে দাওয়াতকারীদের ওপর হবে। বক্তার ওপর হবে না। কারণ, তিনি নিজের টাকায় যান না। কাউকে নিতে বাধ্যও করেন না।

সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Rasel Amin ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৮:২৪ পিএম says : 1
আমার মনেহয় হুজুর থেকেও দোশ আমাদের বেশি।আমরা জদি এই দরনের দুনিয়াদার হুজুর দের না আনি তাহলেই তো হয়। কিন্তু আমরা মানুশ কে দেখানোর জন্ন এই সব হুজুর দের কেই নেই।জা দারা না কোন মানুশের উপকার হয় না কোন সমাজের উপকার হয়।আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেতায়েত দান করুন।আমিন
Total Reply(0)
Md Masum Ahmed ২১ আগস্ট, ২০১৯, ১১:৩৫ এএম says : 0
Is there any incident can be found in the life of Sahaba or our beloved prophet (pbuh) any one of them been paid for any boyan or similar effort? So far I can't find any. Then why our so called scholars make this boyan as big business? ??
Total Reply(0)
Md. Modassirul Haque ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ৭:৫৭ এএম says : 0
হুজুরের সাথে আমি একমত।।।
Total Reply(0)
মনোমুগ্ধকর জবাব দেওয়ার জন্য আল্লামা ওবায়দুর রহমান খান নদভী (দাঃ) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
Total Reply(0)
মো: মনিরুল ইসলাম ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩:২১ পিএম says : 0
জনাব! আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আপনি এমন সুন্দরভাবে উত্তর'টা দিয়েছেন" যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না| কারণ... এ থেকে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি! আশা করি আমার মতো আরও অনেকেরই ভুল ভেঙ্গেছে| জাযাকাল্লাহু খইরন|
Total Reply(0)
Ferdous bahadour ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১১:৫১ এএম says : 0
Ami ak mot
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন