ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার পাবে

জাতীয় স্কুল মিলনীতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম

গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


প্রাথমিক শিক্ষার হার বাড়ানো এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নীতির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০৪টি উপজেলার ১৫,৩৪৯টি বিদ্যালয়ে এই খাবার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি উপজেলায় রান্না করা খাবার দেয়া হচ্ছে। বাকিগুলোতে বিস্কুট দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে প্রায় ৬৬ হাজার। শফিউল আলম বলেন, এ ছাড়া আজকের বৈঠকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী কমপক্ষে ৭৫ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হলে প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই শেষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত (বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক সরকারি অনুদান) করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে এ ধরনের যে প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলো যদি এই নীতিমালা অনুযায়ী না হয় তাহলে সেগুলো চলতে পারবে না। এ ছাড়া আজকের সভায় চাঁদপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আইনি খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চাঁদপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল যেভাবে হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়েও সেভাবে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর থাকবেন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, সিন্ডিকেটের গঠন সম্পর্কে বলা আছে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, সরকার কর্তৃক মনোনীত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, সরকার কর্তৃক মনোনীত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন প্রতিনিধি এবং চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত তিনজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ থাকবেন।

এ ছাড়াও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া অনুমোদনসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, খাবার দেয়ার ফলে দেখা যাচ্ছে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। এর মধ্যে রান্না করা খাবার দিলে ১১ শতাংশ উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। আর বিস্কুট দিলে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারি পরিকল্পনা হলো, যে এলাকায় যে ধরনের খাবারের প্রয়োজন সে ধরনের খাবার দেয়া হবে। প্রতিদিন একই খাবার না দিয়ে খাবারে বৈচিত্র্য থাকবে। তিনি জানান, ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বর্তমানে ১০৪টি স্কুলে ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্প চলবে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা দেখেছি রান্না করা খাবার দিলে ১১ শতাংশ উপস্থিতির হার বাড়ে। শুধু বিস্কুট দিলে উপস্থিতির হার বাড়ে ৬ শতাংশ। কর্মসূচির আওতাধীন এলাকায় ঝরে পড়ার হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক অবস্থারও অনুকূল পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছি। রান্না করা খাবার এলাকায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিস্কুট দেয়া এলাকায় রক্তস্বল্পতা কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই বিবেচনায় জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি অনুমোদিত হয়েছে মন্ত্রিসভায়।

স্কুল মিল কর্মসূচির কার্যক্রমের ধরন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গাইডলাইন সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে নিশ্চিত করা হবে, যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছরের ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্ধদিবস স্কুলের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজন অনুপুষ্টিকণার চাহিদা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ, জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০ শতাংশ চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চর, হাওর এলাকায় প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী উপ-পরিচালক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সম্পৃক্ত থাকবেন।

এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের অংশ হিসেবে কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত থাকবেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড নামে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন একটি সরকারি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির নীতিগত অনুমোদন প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোম্পানিটির সার্বিক প্রয়োজনীয়তা এবং যুগোপযোগিতা বিবেচনা করে এর নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (11)
অমি ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৪ এএম says : 0
নিম্ন মধ্যবিত্তের সন্তানেরাও যাবে না এ ব্যাবস্হায়
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৫ এএম says : 0
ওরে বাবা, ২০২৩ সাল ! আরো পাক্কা চার বছরের উপরে। দিলেন তো কমিটির লোকের দীর্ঘদিনের ঘুম হারাম করে।
Total Reply(0)
Maruf Ahmed-Dhaka ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৫ এএম says : 1
নতুন ফন্দি। এইগুলি বাদ দিয়ে বেকার সমস্যার সমাধান করেন।
Total Reply(0)
Maruf ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৫ এএম says : 0
This is an good opportunity for the child but very careful about the quality of food.
Total Reply(0)
Newpol Roy ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 0
তেইশ সালে কি হবে সেটা তেইশ সালে দেখা যাবে। এখন কি হচ্ছে, সরকার এখন কি করছে সেটা বলুন।
Total Reply(0)
Amir Hossain Sardar ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 0
এই খাবার কি শুধু মাস্টারদের জন্য প্রযোজ্য নাকি ছাত্রছাত্রীরাও কিছু খেতে পারবে,মনে করেন যদি কোন ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে স্কুলে না আসে,তাহলে সেই খাবার কি স্যারেরা খেয়ে ফেলবে।
Total Reply(0)
Emdadul Haque ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 0
Not a good decision at all!! It will open new chapter of corruption. Rather allowance can be given to children of poor families so that they don't miss classes and continue study.
Total Reply(0)
Abdul Hameed ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
দুর্নীতিবান্ধব প্রকল্প না নিয়ে শিক্ষা বান্ধব নীতি নেয়া হোক। উপবৃত্তি বন্ধ করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বইখাতা প্রদানসহ বিনাবেতনে লেখা পড়া করার সুযোগ দেয়া হোক। একই সঙ্গে হতদরিদ্র ও দরিদ্র শ্রমজীবিদের কথা বিবেচনা করে মিলের পরিবর্তে রেশনের( চাল,আটা,তেল,ডাল,চিনি) সুবিধা দেয়া হোক।
Total Reply(0)
Suza Malitha ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
" জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০২৯" খসড়া মন্ত্রীসভায় অনুমোদন দিলেন বেশ ! ফাইনালি অনুমোদনের আগে মন্ত্রীসভাকে অবশ্যই ভাবতে হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ নিয়ে। কেননা, এমনিতেই উপবৃত্তি সহ সকল অফিসিয়াল কাজ শিক্ষকদের করতে হয় ছাত্রছাত্রী পড়িয়েও তার উপর আবার মিল ব্যাবস্থার মতো জটিল বিষয়।
Total Reply(0)
Syed Kamal Uddin ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশ্বসেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরও একটি যুগান্তকারী সিদ্বান্ত।
Total Reply(0)
Sifat Bin Shahid ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
খুবই ভালো উদ্যোগ, পুষ্টির দিকে জোর দেয়া উচিৎ...সবার জন্য ফ্রি না করে যারা সামর্থ্যবান তাদের ছোট এমাউন্ট হলেও পে করানো উচিৎ...এক এলাকায় সব মানুষ গরীব না...এই বাজে সিস্টেম টা বদলান প্লিজ...ধনীর ছেলেও ফ্রি পড়ে, গরীবের ছেলেও ফ্রি পড়ে অথচ ধনীর ছেলে কিছুটা কন্ট্রিবিউশন করলে সেই অর্থ গরীবের সন্তানের পেছনে খরচ করা যেতো...একটা ভারসাম্য ধরে রাখা যেতো..
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন