ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

তরুণদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে

বাড়ি ভাঙচুর খাবার ফেলে দেয়া, চালের বস্তায় তেল ঢেলে দিচ্ছে সেনারা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেওয়ার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে শত শত তরুণকে আটকের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি স‚ত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সেখানে কমপক্ষে চার হাজার মানুষকে বন্দি করা হয়েছে। কাশ্মীরি রাজনীতিবিদ শেহলা রশিদ দিল্লিতে টুইট করে জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রাতে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে তরুণদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘তারা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করছে, খাবার ফেলে দিচ্ছে বা চালের বস্তায় তেল ঢেলে দিচ্ছে এবং শেষে বাড়ির তরুণদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি লিখেছেন, সোপিয়ানের একটি আর্মি ক্যাম্পে চারজন তরুণকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেরা ও নির্যাতনের সময় তাদের সামনে মাইক্রোফোন ধরে রাখা হয়েছিল - যাতে তাদের চিৎকারের আওয়াজ শুনে গোটা এলাকা ভয় পায়। সোপিয়ানের আর্মি ক্যাম্পে কাশ্মীরি তরুণদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তার অডিও মহল্লায় শোনানোর খবর অবশ্য অস্বীকার করেছে ভারতীয় বাহিনী। আর শেহলা রশিদের বক্তব্যকে ‘গুজব’ আখ্যায়িত করে সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দাবি করেছেন আইনজীবী অলক শ্রীবাস্তব। তার দাবি, ‘ওইসব কথিত নির্যাতনের অডিও বা ভিডিও কোথায়? কিংবা নির্যাতিতদের নাম, পরিচয় বা ঘটনা কোথায় ঘটেছে সেগুলোই বা কেন তিনি জানাতে পারছেন না?’ ঠিক দুই সপ্তাহ আগের আরেক সোমবার মোদি সরকার পার্লামেন্টে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে সেখানে এ যাবত কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে একেবারেই মুখ খুলতে রাজি নয় প্রশাসন। সরকারি মুখপাত্র নির্দিষ্টভাবে কোনও সংখ্যা জানাতে অস্বীকার করলেও এএফপি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধৃত করে বলছে, আটকের সংখ্যা কোনও অবস্থাতেই চার হাজারের কম নয়। শ্রীনগর থেকে বিবিসির রিয়াজ মাসরুর এদিন জানান, ‘আজ থেকে আবার স্কুল খোলার ঘোষণা হলেও শহরে তা কার্যকর করা হয়নি।’ তিনি জানান, প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ক্লাস এইট পর্যন্ত শিশুরা স্কুলে আসবে। পরে সেটাকে শুধু ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত শিশুদের জন্য চালুর সিদ্ধান্ত হয়। তবে কারফিউ-র ভেতর বাবা-মায়েরা শেষ পর্যন্ত ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ঝুঁকি আর নেননি।’ ফলে প্রশাসন যা-ই দাবি করুক কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দূরে - আর তারই মধ্যে শত শত তরুণকে আটক করা বা তুলে নেওয়ার খবর যথারীতি আরও আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিবিসি, রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন