ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

স্বাস্থ্য

ফুসফুসের ক্যান্সার

| প্রকাশের সময় : ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০৩ এএম


ফুসফুস ক্যান্সার হল এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। এর অনেক ধরনের চিকিৎসা আছে। তবে এক্ষেত্রে রোগীর জন্য কোন চিকিৎসাটি সবচেয়ে উপযুক্ত তা নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঘাতক ব্যাধি ফুসফুস ক্যান্সারের কি কোন চিকিৎসা আছে?
বিশ্ব জুড়ে ক্যান্সার একটি প্রাণনাশক ব্যাধি হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর চিকিৎসা আছে এবং মধ্য ও পরিনত পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রোগীরা ঠিক কতটুকু সুস্থ হবেন তা নির্ভর করে তাদের শারীরিক অবস্থা এবং যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতির উপর। মধ্য এবং পরিণত পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন ইত্যাদি।
ফুসফুস ক্যান্সারের কি কি চিকিৎসা আছে?
প্রাথমিক পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারের প্রধান ট্রিটমেন্ট হল সার্জারি। অন্যান্য প্রচলিত চিকিৎসা গুলি হল রেডিওথেরাপি, কেমথেরাপি,ইমিউনোথেরাপি, ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন ইত্যাদি ও আধুনিক হোমিও চিকিৎসা।
১. সার্জারিঃ ফুসফুসের টিউমার অপসারনের জন্য সার্জারি করা হয়। ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে সার্জারির মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ টিউমার অপসারণ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সারের মধ্য পর্যায়েও সার্জারি করা হয়। তবে ফুসফুস ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৪০% এরও কম রোগীকে সার্জারি করা হয়।
ফুসফুস ক্যান্সারের জন্য সার্জারি হল অন্যতম প্রধান চিকিৎসা তবে সার্জারির ধরণ নির্ভর করে টিউমারের ধরণ, আকৃতি, অবস্থান এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর।
২.রেডিয়েশন থেরাপিঃ দুই ধরনের রেডিয়েশন থেরাপির মধ্যে রয়েছে ইরেডিয়েশন ইন ক্যাভিটি, ইর্িেডয়েশন ইন ভিট্র। এক্সরে মেশিন, কোবাল্ট মেশিন, এক্সিলেরেটর প্রভৃতির সাহায্যে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া হয়। রেডিয়েশন পদ্ধতির সর্বাধুনিক সংযোজন হল “ফোটন নাইফ” পদ্ধতি।
সার্জারির পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী চিকিৎসা হিসেবেও রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। স্কোয়াস সেল কারসিনোমার ক্ষেত্রে সার্জারি করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রেও রেডিওথেরাপি ব্যবহৃত হয়।
রেডিওথেরাপিকে দুইভাগে ভাগ করা যায় সিম্পল রেডিওথেরাপি এবং কম্প্রিহেন্সিভ রেডিওথেরাপি। সিম্পল রেডিওথেরাপির মধ্যে রয়েছে র‌্যাডিক্যাল রেডিওথেরাপি এবং প্যালিয়েটিভ রেডিওথেরাপি। কোন ধরনের থেরাপি দেওয়া হবে তা নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা, টিউমারের ধরণ, অবস্থান ইত্যাদির উপর। কম্প্রিহেন্সিভ রেডিওথেরাপিতে সার্জারি এবং কেমোথেরাপির সাথে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। একক ট্রিটমেন্টের তুলনায় এগুলোর সমন্বয় করে ট্রিটমেন্ট করা হলে কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়।
পরিণত পর্যায়ের ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসাঃ
পরিণত পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাইমারি ক্যান্সার এবং মেটাস্টাটিক লিম্ফ নোড অপসারনের জন্য সার্জারির সাথে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি প্রভৃতি দেওয়া হয় ।
উপরের আলোচনায় যেসব বিষয়গুলো অবতারন করা হলো তারমধ্যে অন্যতম বিষয় হলো সর্বদা ধূমপান মুক্ত থাকা । তাই ফুসফস ক্যান্সার থেকে বাচঁতে হলে সুন্দর পরিবেশে বসবাস ও ধুমপানমুক্ত থাকাই শ্রেয় ।

ডাঃ মাহমুদুল হাসান সরদার
ক্যান্সার চিকিৎসক
সরদার হোমিও হল, ২১ গ্রীণ কর্ণার, গ্রীন রোড, ঢাকা।
সেল -০১৭৪৭৫০৫৯৫৫।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন