ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

তিতা করলায় মিষ্টি হাসি

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

তিতকুটে স্বাদের করলা এখন সাপাহার উপজেলার চাষীদের মুখে মিষ্টি হাসি এনে দিয়েছে। এ উপজেলার উৎপাদিত করলা এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারাহ হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে চাষীরা।

আমের পরে সবজি চাষেও এবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চিনবে সাপাহারকে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপজেলার চাষীরা করলা সবজি চাষে উৎসাহিত হয়ে তাদের হাইব্রীড আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে করলা চাষ করে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা লাভ করত। পরবর্তীতে সাপাহারে করলা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে সবজি ব্যবসায়ীরা ছুটে চলে আসেন সাপাহারে। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার করল্যা চাষীদের সেন্টার হিসেবে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের বাহাপুর মোড়ে গড়ে ওঠে মৌসুমী প্রতি দিনের জন্য ৩/৪ঘন্টার এক অস্থায়ী বাজার।

ভার হলেই বিভিন্ন এলাকার চাষীরা তাদের উৎপাদিত করলা নিয়ে চলে আসে এই বাজারে এবং ক্রেতারা তাদের নিকট বিভিন্ন দামে করলা ক্রয় করে মিনি ট্রাক যোগে সকাল ১০টার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে যায় নিজ গন্তব্যে। বর্তমানে প্রতি মণ করলা হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে ওই অস্থায়ী বাজারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় হয়তো করলার বাজার কিছুটা বৃদ্ধি পবে বলেও অনেক করলাচাষী মনে করছেন। প্রতিবছর আগষ্ট এর ১৫তারিখ হতে অক্টোবরের ১৫/২০তারিখ পর্যন্ত চলে এই মৌসুমী অস্থায়ী বাজার। এ বছর আগষ্টের ১২ তারিখ ঈদ-উল আজহা পালিত হওয়ায় কয়েক দিন হল বাজারটি জেঁকে বসেছে এবং রাজধানী ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীগণ আসতে শুরু করেছে এই বাজারে। মঙ্গলবারে সরেজমিনে ওই বাজারে গিয়ে প্রতিমণ করলা এক হাজার থেকে বারশ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। করলার অস্থায়ী এই বাজারে এসে ঢাকার কাওরান বাজারের আনোয়ার হোসেন নামের এক সবজি ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, সাপাহারের করলার গুণগত মান ভাল ও এখান থেকে করলা কিনে লাভ ভাল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার করলা রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারে সরবরাহ করছেন।

এলাকার স্থানীয় করল্যা চাষী উকিলবাবু, আনারুল, ছয়ফুল ও আব্দুল মালেকসহ বেশ কিছু করলা চাষীর সাথে কথা হলে তারা জানান যে, অস্থায়ীভাবে উপজেলা সদরের বাহিরে এই স্থানে করলার বাজার গড়ে না উঠলে এখানকার া চাষীরা এই হারে করলা চাষা করতেন না। এখন করলা চাষ করে বিক্রি করার তাদের কোন ভয় নেই। বর্তমানে তারাসহ অনেকেই এখন করল্যা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। অস্থায়ী ওই বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাগন জানান যে, প্রতিদিন এই অস্থায়ী কয়েক ঘন্টার বাজার হতে প্রায় ১শ’ থেকে ১৫০টন করলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: আতাউর রহমান সেলিম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, কয়েক বছর ধরে করল্যা চাষ এ উপজেলায় চাষীদের মাঝে এক নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
আসলাম ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৮:৪৪ এএম says : 0
খুব ভালো খবর
Total Reply(0)
Suvro ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৯:৫৬ এএম says : 0
Sure khub valo laglo
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন