ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

‘মিথ্যা ফ্লাগ অপারেশন’ করতে পারে ভারত

সতর্কতা ইমরান খানের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গতকাল অধিকৃত কাশ্মীরে ‘ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে দৃষ্টি ফেরাতে’ ভারতীয় নেতৃত্বের একটি সম্ভাব্য ‘মিথ্যা পতাকা অপারেশন’ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে সতর্ক করেছেন।
টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে সতর্ক করতে চাই যে, ভারতীয় নেতৃত্ব সমস্ত সম্ভাব্যতার সাথে আইওজেকে [ভারতীয় অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর] এর বিশাল মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব অবরুদ্ধকরণ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার জন্য সম্ভাব্য মিথ্যা পতাকা অভিযানের চেষ্টা করবে। টুইটারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী
তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘আমরা ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি শুনছি যে, আফগানিস্তান থেকে কিছু সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করেছে, আবার কেউবা দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এই দাবিগুলি আইওজেকে ভারতের জাতিগত নির্মূলকরণ ও গণহত্যার এজেন্ডার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়ার পূর্বাভাস,’ তিনি আরো বলেন। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফ্রান্স সফর করার সময় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এমন মন্তব্য আসে।
এপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মোদির সাথে বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমমানুয়েল ম্যাখোঁ অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্কট নিয়ে পাকিস্তানের সাথে সংলাপের জন্য চাপ দিয়েছেন। তার তিন-দেশ সফরের অংশ হিসাবে মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনও সফর করবেন। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোদিকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান, দি অর্ডার অফ জায়েদ-এ ভ‚ষিত করা হবে। মোদি বাহরাইন সফরকারী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এর আগে বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী ইমরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য অধিকৃত কাশ্মীরে একটি প্রতারণামূলক ‘মিথ্যা ফ্লাগ অপারেশন’ গ্রহণ করতে পারে এবং পাকিস্তান জবাব দিতে বাধ্য হবে বলেও জানান।
তিনি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এবং তারপরে আপনি দুটি পরমাণু-সজ্জিত দেশ চোখের বলের দিকে নজর রেখেছেন এবং যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমার উদ্বেগ হ’ল এটি আরো বাড়তে পারে এবং দুটি পারমণু-সমৃদ্ধ দেশের জন্য এটি এখন বিশ্বের জন্য উদ্বেগজনক হওয়া উচিত’।
পাকিস্তানের বাহিনীর গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত
জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে রাজীব থাপা নামে ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত নিহত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির বাসিন্দা রাজীব থাপা গোর্খা রাইফেলসের জওয়ান ছিলেন। কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাকিস্তানি সেনারা গতকাল গুলিবর্ষণ করলে ওই সেনা সদস্য নিহত হন।
কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ, তিনি নৌশেরওয়া সেক্টরে কালসিয়া এলাকায় এক অগ্রবর্তী সেনা চৌকিতে মোতায়েন ছিলেন। গতকাল ভোরে সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাক বাহিনীর গুলিবর্ষণের কবলে পড়েন রাজীব। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক সামরিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তিনি মারা যান।
মৃত্যুপুরী কাশ্মীর
অধিকৃত কাশ্মিরে গতকাল নিরাপত্তার কড়াকড়ি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে ভারত। জাতিসঙ্ঘ অফিসমুখী একটি বিক্ষোভের ঘোষণার পর তা ঠেকাতে অঞ্চলটি একরকম অচল করে দেয় ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা। কিছু জায়গায় রাস্তায় ব্যারিকেডও দেয়। ফলে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উপত্যকা।
শুক্রবার শ্রীনগরে জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক সংস্থার অফিসমুখী একটি বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়া হয় কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের পক্ষ থেকে। ৫ আগস্টের পর থেকে কাশ্মিরে আরোপিত কড়াকড়ি এ সপ্তাহে কিছুটা শিথিল করা হলেও বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়ার পর শুক্রবার সকাল থেকেই আবারও অচল করে দেয়া হয় জম্মু।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই কাশ্মিরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছিল ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে। এসময় পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গানের গুলিতে আহত হয়েছে দেড়শ’র বেশি কাশ্মিরী। সরকারের এই দমন নীপিড়নের ফলে কাশ্মিরের হাসপাতালগুলোতে ছিল আহতদের ভিড়
শুক্রবার সকাল থেকেই জাতিসঙ্ঘের পর্যক্ষেক সংস্থার অফিসমুখী সড়কে দুই জায়গায় প্রতিবন্ধকতা(বেড়িকেড) সৃষ্টি করে ভারতেীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া নগরীর অন্যান্য স্থানেও সড়কে কাঁটাতারের বেড়িকেড সৃষ্টি করে পুলিশ। বেশিরভাগ দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে পুলিশের গাড়ি ছাড়া অন্যান্য গাড়ি চলতে দেখা যায়নি। পুলিশের গাড়ি থেকে কারফিউয়ের ঘোষণা দিয়ে নাগরিকদের বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়। বিখ্যাত পর্যটন স্পট ডাল লেক ছিলো পর্যটকশূন্য। পুলিশ লেকের পানিতে বোট নিয়ে ছিল পাহারায়। সূত্র : ডন, বিবিসি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৬ এএম says : 0
ইমরান ঠিকই বলেছে। আসলেই ভারত এই ব্যাপারে একরোখা ও গোঁয়াড়। হায়দ্রাবাদ ও সিকিমের মত কাশ্মীরকেও তারা দখল করে নিলো। ভারতের এই নাক উঁচা ভাব তার প্রতিবেশীদের তো বটেই নিজের রাজ্যগুলোকেও বিক্ষিপ্ত করে তুলবে।
Total Reply(0)
Sky ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৬ এএম says : 1
এই ট্রাম্প মাথা মোঠা লোকটির কারণেই ভারত আচমকাই কাশ্মীরের শায়িত্বশাসন কেঁড়ে নিলো। কিছুদিন আগেই এই লোকটি ইমরান খানের সাথে বসে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্ততা করার প্রস্তাব দিছিলো এবং এর কয়েকদিন পরেই ইন্ডিয়া এই ঘটনাটা ঘটালো।কাশ্মীর বাসীর বর্তমান দুর্যোগের জন্য এই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইমরান খান দায়ী।
Total Reply(0)
মিছিল রিয়াসাত ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৭ এএম says : 1
ভারত যদি যুদ্ধ চায় পাকিস্তান পিছপা হবে না। বায়ুসেনা অভিনন্দনকে জিম্মি করতে যেমন হয়নি।
Total Reply(0)
Tapan Khan ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৮ এএম says : 1
আন্তর্জাতিক সংগঠন, জাতিসংঘের বা রাষ্ট্রগুলোর, পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো উচিত এবং একই সাথে কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য কথা বলা উচিত। তা না হলে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান যেকোনো সময় এটমবোম এর ব্যবহার করলে তখন জাতিসংঘ বা অন্যান্য সংগঠন গুলোর আর বলার কিছু থাকবে না। এটা এখন হাসি খেলার বিষয় নয়, এটা অতিদ্রুত সামাল দেয়ার বিষয়। তা নাহলে এটা মানবতার জন্য একটা মহা বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।
Total Reply(0)
আবু সায়মা ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৯ এএম says : 1
কাশ্মীর ইস্যু, রোহিঙ্গা ইস্যু, আসামের এন আর সি ইস্যু দিন দিন উপমহাদেশ জুড়ে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। আমাদের একটাই গ্রহ আর এই ছোট্ট গ্রহটাকে হাজার বার ধ্বংস করার মতো অস্ত্রপাতিও এখন আমাদের কব্জায়। একটা শক্তিশালী জাতিসংঘ বিধায়ক হিসেবে কর্তৃত্ব নিয়ে কাজ করতে না পারলে মহাবিপদে পড়তে হতে পারে সমগ্র মানবজাতিকে।
Total Reply(0)
Taspriya Tabassum ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৯ এএম says : 1
কাশ্মীরের এই সমস্যায় মুসলিম দেশ গুলি সহযোগীতা করলে পরিস্হিতি হয়তো ভালো কিছু হতে পারতো!
Total Reply(0)
Hassan Khan ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১:১০ এএম says : 1
কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলবে পাকিস্তানের পারমানবিক বোমা
Total Reply(0)
hhp ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৮:৪৪ এএম says : 0
The only way forward for Pakistan is to stop the trade war between China and USA. Pakistan had successfully established the trade relation between China and USA during Mr. Zulfikar Bhutto's tenure as Foreign minister that had revolutionized the Chinese economy. China still thanks Pakistan for that. Time has come for Pakistan again to show sheer diplomacy to minimize the US-China trade war and to maximize the US-EU trade war. Success in the former case will strengthen Pakistan and the later case will weaken India. Then take on Kashmir and see how this hungry india can survive..
Total Reply(0)
Omar Faruq ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৩:০৪ পিএম says : 0
ইমরান খানের উচিত ভারত কে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়া ।
Total Reply(0)
Suruj ali ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১০:১৩ পিএম says : 0
ইমরান খানের উচিত ভারতীয় পুরোপুরি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে তুলে দেওয়া
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন