ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

রাজনৈতিক ঐক্যে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ এবারের সম্মেলন

আমাজন-বাণিজ্য ইস্যুতে উত্তপ্ত জি-৭ সামিট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ, ব্রেক্সিট, আবহাওয়া সঙ্কট, আমাজনের আগুন, নানা বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত হতে চলেছে ফ্রান্সের বিয়ারিসে আয়োজিত এবারের জি-৭ সম্মেলন। এত মতভিন্নতা নিয়ে কখনোই শীর্য সম্মেলনে বসেনি জি-৭। সম্মেলন শেষে বিশ্বনেতারা এই সব ইস্যুতে একমত হবেন এমন আশা নিয়েই গত শনিবার উত্তর ফ্রান্সে শুরু হয়েছে এ বছরের জি-৭ সম্মেলন। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন, এবারের সম্মেলনই হতে পারে রাজনৈতিক একতায় পৌঁছানোর শেষ সুযোগ। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে টাস্ক বলেন, মুক্ত বিশ্ব ও এর নেতৃবৃন্দের জন্য এবারের সম্মেলন এক কঠিন পরীক্ষা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে তার অন্যতম লক্ষ্য সব নেতাদের এটা বোঝানো যে, পারস্পরিক উত্তেজনা বিশেষ করে বাণিজ্য সঙ্কট সব দেশের জন্যই ক্ষতিকর। সম্মেলনে আমন্ত্রিত জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্থোনিয় গুঁতেরেজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনেই কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি।

এদিকে প্রতি বছরের মতোই এবারও সম্মেলনস্থলের বাইরে জড়ো হয়েছেন প্রতিবাদকারীরা। বিয়ারিসের পাশের শহর হেনদায়েতে জি-৭ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক ও পরিবেশ নীতি পাল্টানোর দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। আবহাওয়া পরিবর্তন ও অন্যান্য ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তাদের। সম্মেলনে যোগ দিতে বিমানে ওঠার আগে ফ্রান্সকে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ডিজিটাল কর বসানোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি মদের ওপর নতুন কর বসানোর হুমকি দেন। টাস্ক দ্রুত পাল্টা জবাবে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার হুমকি বাস্তবায়ন করলে ইইউ পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে এরই মধ্যে ফ্রান্সে পৌঁছেছেন ট্রাম্প। শনিবার বিকেলে ট্রাম্প ও তার স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সম্মেলনের পূর্বে বিভিন্ন কর বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ চরম রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সঙ্কটকেই পৃথিবীজুড়ে চলতে থাকা অর্থনৈতিক ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আবার অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে হতে পারে পৃথিবীকে। আলোচ্যস‚চিতে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনে জ্বলতে থাকা দাবানলও বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইইউয়ের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আগুন থামাতে এবং পুনরায় বনায়নে শুধু আহ্বানই জানাবে না, আমাজোনিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে সঙ্গে নিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবো। মাক্রোঁর এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলও। তবে সম্মেলনে এ নিয়ে আলোচনা করতে চাইলেও ব্রাজিল-ইইউ মেরকসুর চুক্তি বাতিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ম্যার্কেল। এক ভিডিও বার্তায় জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সহায়তার চেষ্টা করবো। স্পষ্ট বার্তা জানাবো যে, রেইনফরেস্টটিকে বাঁচাতে সাধ্যের সবকিছুই করতে হবে।

ব্রেক্সিটের জন্য বরিস জনসনই যথার্থ ব্যক্তি : ট্রাম্প
ব্রেক্সিটের জন্য যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনই যথার্থ ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল ফ্রান্সে জি সেভেন সম্মেলনের সাইডলাইনে একসঙ্গে সকালের নাস্তা করেন দুই নেতা। পরে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ব্রেক্সিট নিয়ে তার কোনও পরামর্শ আছে কিনা! উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এ কাজের জন্য বরিস জনসন-ই যথার্থ ব্যক্তি। তার কোনও পরামর্শের দরকার নেই। ব্রেক্সিট কার্যকরের পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এটি হবে খুব বড় একটি বাণিজ্য চুক্তি, আমাদের আগের যে কোনও চুক্তির চেয়ে বড়।
দুই নেতার সাক্ষাতের আগে বরিস জনসন জানান, ব্রেক্সিট কার্যকরের পর ব্রিটিশ পণ্যের জন্য মার্কিন বাজার যেন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সেজন্য ট্রাম্পকে চাপ দেবেন তিনি। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি। সূত্র : আল-জাজিরা, গার্ডিয়ান, বিবিসি
ও ডয়েচে ভেলে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন