ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ কোটি টাকা

মন্ত্রিসভার বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বিমান পরিবহনে কোনো যাত্রী মারা গেলে বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে প্রথম ধাপেই এক লাখ এসডিআরের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল নির্ধারিত মান) সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। ক্ষতিপূরণ না দিলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে অনধিক ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। এমন বিধান রেখে আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন, ১৯৯৯) আইন, ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এছাড়া সরবরাহকারী ও রফতানিকারকদের ঋণ সুবিধা বা প্রণোদনার সুযোগ রেখে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৯- এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা।

গতকাল সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন ও প্রণোদনার বিষয়টি নীতিমালায় রয়েছে। চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, পরিবেশ রক্ষা, অধিকতর পরিচ্ছন্ন উৎপাদন এবং অবকাঠামো বিষয়ক প্রকল্প গ্রহণ করা সমীচীন। রফতানি বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রক্রিয়া উন্নয়ন উন্নত করতে হবে। সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব আছে কি না- প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরবরাহকারী ও রফতানিকারকদের জন্য কিছু প্রণোদনার বিষয় আছে। জেনারেলি প্রণোদনার ১৭টি প্রস্তাব দেয়া আছে। যেমন- সবুজ প্রযুক্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ঋণ আকর্ষণ করা এবং সেগুলো ফলপ্রসূ হবে ব্যবহার করা এবং খাতভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া যাবে। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একটি পুঁজিবাজার তৈরি করা এবং দেশি-বিদেশি মূলধন সংগ্রহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পরিবেশগত কম্পালায়েন্সকে উৎসাহ দেয়ার জন্য কম্পালায়েন্স কার্যক্রম গ্রহণকারী চামড়া শিল্প ট্যানারিগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রণোদণামূলক অর্থ দেয়া। উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান যারা আরো পরিচ্ছন্ন উৎপাদনে আগ্রহী তাদের বিনিয়োগ প্রকল্পসমূহকে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া। তবে ছোট ব্যবসায়ীর জন্য আলাদা করে কিছু বলা নেই।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উন্নত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতকে প্রতিযোগিতায় সক্ষমকরণ। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষম পণ্য উৎপাদনে ব্যবসাবান্ধব ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, দক্ষ ও কার্যকর শিল্পায়নের জন্য উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, নতুন নতুন উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও উদ্যম অনুশীলন করার বিষয়ে উৎসাহ দেয়া ও প্রতিপালনসহ নীতিমালায় নয়টি উদ্দেশ্য বলে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চামড়া শিল্পখাতের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা পরিপালন, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন নিশ্চিতকরণ, ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ তৈরির জন্য দুই ধরনের কমিটির কথা বলা হয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা সমন্বয়ক পরিষদে শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৪১ সদস্যের কমিটি এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন পরিষদে ২০ সদস্যের কমিটির প্রধান শিল্প সচিব। দুই জায়গাতেই সরকারি ও বেসরকারি খাতের লোক আছেন। নীতিমালার মূল ফোকাস হলো, চামড়া শিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। আমাদের টার্গেট ২০২৪ সাল নাগাদ এ খাত থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, এটা যেন আমরা অর্জন করতে পারি। মোটামুটিভাবে বিনিয়োগবান্ধব একটা প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলন, যাত্রী সুরক্ষায় ক্ষতিপূরণ বাড়াতে আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন, ১৯৯৯) আইন, ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। আমাদের যে বিমান ব্যবস্থাপনা তা আন্তর্জাতিক অনেকগুলো সংস্থার বিভিন্ন কনভেনশন ও প্রটোকলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। মন্ট্রিল কনভেনশন হলো বিশেষত যাত্রীদের অধিকার সম্পর্কে। বিমানে আরোহণকারী যাত্রীর মালামাল পরিবহন, মৃত্যুর কারণ ও যাত্রীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হলে সেই ব্যবস্থা। এগুলো মন্ট্রিল কনভেনশন ডিল করবে। এটার জন্য এ পর্যন্ত আমাদের কোনো আইন নেই। আইন না থাকায় আমরা সুবিধাটা পেতে পারি না। তিনি বলেন, আমরা মন্ট্রিল কনভেনশন সিগরেটরি কিন্তু বিষয়টি আইনে পরিণত করা হয়নি। তাই যাত্রীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই আইনের মধ্যে মোটামুটিভাবে মন্ট্রিল কনভেনশনের প্রভিশনগুলো নিয়ে আসা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের মূল ফোকাসটা হচ্ছে বিমানযোগে যাত্রী, ব্যাগেজ ও কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে যদি যাত্রীর মৃত্যু হয়, আঘাতপ্রাপ্ত হয়, ব্যাগেজ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হয় বা হারিয়ে যায় বা ক্ষয়ক্ষতি হয়, কার্গো প্রাপ্তিতে বিলম্ব, হারানো বা ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে এই আইনের মাধ্যমে আমরা প্রতিকার পেতে পারি।
তিনি বলেন, নেপালে বাংলাদেশের পরিচালনার বিমান ইউএস-বাংলার একটা বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছিল। তারা যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তা খুবই সামান্য, এটা কনভেনশনের আওতায় হলে অনেকগুণ, কমপক্ষে জনপ্রতি এক কোটি ৪০ লাখ টাকার মতো পেতেন। কিন্তু ১২ হাজার ডলারের মতো পেয়েছে। এই পরিবর্তনটা আসবে আমরা যদি বাংলাদেশে আইনটি চালু করি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আকাশপথে যাত্রী-ব্যাগেজ এবং কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর দায়দায়িত্ব খসড়া আইনে সুস্পষ্ট করা হয়েছে। আঘাতে যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ এক লাখ এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস বা আইএমএফের নিজস্ব মুদ্রা), যা এক লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এটি ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নির্ধারিত। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে দুই লাখ ৫০ হাজার ফ্রাঙ্ক (এক ফ্রাঙ্ক সমান ৯০০ সহস্রাংশ বিশুদ্ধতার সাড়ে ৬৫ মিলিগ্রাম স্বর্ণের মূল্য)। মোটামুটি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের সাড়ে ৬৫ মিলিগ্রামের মূল্যমান হচ্ছে এক ফ্রাঙ্ক। এটা দুই লাখ ৫০ হাজার দিয়ে গুণ দিয়ে যা হয় তা পাবে। এছাড়া ব্যাগেজের ক্ষেত্রে আগে প্রতি কেজি ছিল ২৫ ডলার এখন তা ৭০ ডলার করা হচ্ছে। কার্গোর ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ২৫ ডলারের পরিবর্তে হচ্ছে ২৭ ডলার। এসব ক্ষতিপূরণ এয়ারলাইন্সকে দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ পেতে এয়ারলাইন্সকে যাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স করতে হবে। তারা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো ব্যক্তি আইন বা আইনের অধীনে প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অপরাধ হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা অর্থদন্ড দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যাত্রীর মৃত্যু হলে এয়ারলাইন্সগুলো যদি ঠিকমতো ক্ষতিপূরণ না দেয় তবে তাদের ওপর এই জরিমানাটা আরোপ করা হবে। দেশি-বিদেশি যত এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের ভূখন্ডে চলাচল করবে তারা এই আইনের আওতায় আসবে। আকাশপথে পরিবহন আইনটির ফলে বিমান ভাড়া বাড়বে কি না এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিমান ভাড়ার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এটা যাত্রীকে সুরক্ষিত করার জন্য এ আইন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে হাউজ লোন (বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ) নিলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদন্ড বা ৫ লাখ টাকা করে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন আইন, ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
তিনি জানান, দি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন অর্ডার ১৯৭৩-এর অধীনে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন গঠন করা হয়েছিল। ওই অর্ডারটি পরিমার্জন করে নতুন আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগের শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। ৩২ ধারায় বলা ছিল কর্পোরেশনের কাছ থেকে কেউ যদি ঋণ গ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণী দেন বা জেনেশুনে মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেন বা কর্পোরেশনে যে কোনো ধরনের জামানত গ্রহণে প্রবৃত্ত করেন, তাহলে ২ বছর কারাদন্ড, ২ হাজার পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এখন সেটাকে বৃদ্ধি করে ৫ বছর কারাদন্ড বা জরিমানা ৫ লাখ পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্পোরেশনের লিখিত সম্মতি ছাড়া যদি কেউ নাম প্রসপেক্টাসে বা বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেন তাহলে তার জন্য শাস্তি আগে ৬ মাস ছিল এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা ছিল, প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ মাস ও ৫০ হাজার টাকা। আগে ১১০ কোটি ছিল অনুমোদিত মূলধন ও পরিশোধিত মূলধন ছিল ১১০ কোটি টাকা। এক হাজার কোটি টাকা হচ্ছে অনুমোদিত ম‚লধন ও ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখানে কর্পোরেশন শব্দ এবং হাউজ শব্দের বানান হেরফের করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ নতুন সংযোজন করা হয়েছে। কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও পরিচালক শব্দ নতুনভাবে ইনসার্ট করা হয়েছে। এ কর্পোরেশনের অফিস হবে ঢাকাতে তা সংযোজন করা হয়েছে।
সভার শুরুতে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা পুস্তক আকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ও সচিব মো. আকরাম-আল- হোসেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন