ঢাকা, রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

ছেলেদের হুমকিতে আতঙ্কে মা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বড় ছেলেদের দেয়া প্রাণনাশের হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটছে এক মায়ের। এ প্রতিবেদকের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে বার বার কেঁদে উঠছিলেন ওই বৃদ্ধ মা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মধুপুর গ্রামে। 

জানা যায়, উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মৃত-জুমর আলীর স্ত্রী সামেরন্নেছা (৮২) ৫ ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জননী। প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে মারা যান স্বামী জুমর আলী।
স্বামী মারা যাওয়ার পর বড় ছেলেদের সাথে ছোট ছেলের বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের জের ধরে বড় ভাই তারা মিয়া, সোবান , সুরুজ আলী ও মোস্তফা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমন করলে দায়ের কোপে ছোট ভাই মোহাম্মদ আলীর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সারা শরীরে এলোপাথারি কোপানো হয়। ওই সময় ছোট ছেলের পাশে দাঁড়ান মা সামেরন্নেছা। তার নিজ নামে ক্রয় করা ২০শতক জমি বিক্রি করে ছোট ছেলের চিকিৎসা করান।
ওই ঘটনায় বড় ভাইদের আসামী করে মোহাম্মদ আলী বাদি হয়ে থানায় মামলা করে। মামলায় সাজা হওয়ার ভয়ে মায়ের পা’য়ে পড়ে ক্ষমা চান বড় ছেলেরা।
বিষযটি মিমাংসা করতে বড় ছেলেদের অনুরোধে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি¡র প্রাপ্য হিস্যা লিখেদেন ছোট ছেলে মোহাম্মদ আলীকে। তারপর থেকেই ছোট ভাই ও মায়ের প্রতি তারা ক্ষিপ্ত। মায়ের লিখে দেওয়া জমিটুকুও এখন বেদখল করে রেখেছে বড় ছেলেরা। ওই জমি ছেড়ে দিতে বললে মা ও ছোট ভাইকে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়।
মা সামেরন্নেছা বলেন, থানায় মামলা করলে বড় ছেলেরা তাকে ও তার ছোট ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে হুমকী দিয়েছে। এর আগেও ছোট ছেলেকে মেরে ফেলতে চেয়েছে। স্বামীর দেয়া হিস্যা টুকু ছোট ছেলেকে লিখে দিলেও ভয়ে জমিতে চাষ করতে যেতে পারে না। অনেক সময় খাই অনেক সময় উপোস থাকি বড় ছেলেরা জিজ্ঞাসাও করে না। আমি এই বিচার আল্লার কাছে রাখছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে মোস্তফা বলেন, মা ক্ষেতে ক্ষেতে দাগে দাগে হিস্যা পান। কোন এক দাগে লিখি দিলে তো হবে না। আর মা যে জমিটুকু লিখে দিয়েছে সেটা রাস্তার পাশে। এটার মূল্য বেশি । তাই জায়গা বেদখল দিয়েছি। আর প্রাণ নাশের হুমকী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মামুন বলেন, ঘটনাটি সত্য বড় ছেলেরা দাঙ্গাবাজ, ছোট ছেলে মোহাম্মদ আলীর সারা শরীর কুপিয়ে পুঙ্গ করে দিয়েছে। মাকে তো দেখার প্রশ্নই আসে না। এরা এতোই ভয়ঙ্কর যে আমিও ওদের কাছ থেকে নিরাপদ নই। যে কোন সময় আমাকেও ওরা কোপাতে পারে। মোহাম্মদ আলী আইনগত সহায়তা চাইলে আমি তাকে সহ যোগিতা করবো।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহাম্মেদ কবীর জানান, এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন