ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

সৈয়দপুরে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:২১ এএম


নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলভূমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ না করে বরাদ্দ কিংবা বন্দোবস্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। রেলভূমিতে বসবাসকারীদের সংগঠন অধিকারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা পুলিশ ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেলভূমিতে বসবাসকারীদের সংগঠন অধিকারের সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় নীলফামারীর সৈয়দপুর মূলত একটি রেলওয়ে শহর। বিগত ১৮৭০ সালে এখানে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা গড়ে উঠে। আর ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তের পর পাশের দেশ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক উর্দূভাষী (বিহারী) ও বাঙালি এসে সৈয়দপুর কারখানা চাকরির নেয়। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র শিল্প-কলকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তোলেন। সময়ের পরিক্রমায় সৈয়দপুরে রেলওয়ে জমিতে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নানা রকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন, মো. রফিককুল ইসলাম বাবু, হাজী তাসলিম উদ্দিন, আশরাফুল হক বাবু, আনোয়ার হোসেন বাঙালি প্রমুখ।


অনুমোদনের অপেক্ষায় ভোলা জেনারেল হাসপাতাল
২০ লাখ মানুষ পাবেন উন্নত চিকিৎসাসেবা
জহুরুল হক, ভোলা থেকে

ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের অবকাঠামো সকল কাজ সম্পন্ন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট ভবন হস্তান্তর। প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলে যেকোনো সময় এ হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটি চালু হলেই জেলার ২০ লাখ মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন। আধুনিক চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা অথবা বরিশাল যেতে হবে না। নিজ জেলাতেই পাওয়া যাবে চিকিৎসার সেবার সকল সুযোগ-সুবিধা।

ভোলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দ্বীপজেলা ভোলার মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবার কথা বিবেচনা করে ভোলার জেলার মানুষের আপনজন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমদের একান্ত প্রচেষ্ঠায় ২০১৪ সালে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের ডিকলারেশন পেলে গণপুর্ত বিভাগ কাজটি শুরু করে। এরপর সদর হাসপাতাল চত্বরের ১৪ একর জমির ওপর ২০১৪ সালের দিকে ৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে ভবনের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হলে ভোলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট হস্তান্তর করেন গণপুর্ত বিভাগ। যা অনুমোদন পেলে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা যায়, হাসপাতালে রয়েছে আধুনিক লিফট সুবিধা। রোগী আনা-নেওয়ার জন্য থাকবে ২টি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও নতুন করে ৫৮ চিকিৎসক এবং ৮০ জন নার্সের পদ সৃষ্ট করা হবে। ২টি মেডিসিন, ২টি সার্জারি এবং একটি করে অর্থপেডিক্স, নাক, কান ও গলা, শিশু, স্ক্যানো, গাইনি, পোস্ট অপারেটিভ, ডায়রিয়া ও কার্ডিওলজি বিভাগ সহ থাকবে নানা চিকিৎসা সুবিধা। থাকবে হাসপাতালে নিজস্ব জেনারেটর ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। হাসপাতালে গাইনি, জেনারেল সার্জারি, অর্থপেডিক্স, চক্ষু ও নাক, কান গলার অপারেশনের ব্যবস্থা।

জানা গেছে, এতোদিন ভোলার ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ছিলো ১০০ শয্যার সদর হাসপাতাল। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক ও নার্স সংকট লেগেই থাকতো। যার কারনে মানুষ সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অনেক ভোগান্তির স্বীকার হত। তাই বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বরিশাল গিয়ে চিকিৎসা নিতে হত। এছাড়া নানা জটিলতা ও আধুনিক সরঞ্জাম না থাকায় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো না।

এতে একদিকে যেমন কস্ট অন্যদিকে রোগীদের অর্থনৈতিক ও দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। কিন্তু নতুন ২৫০ শয্যার এ হাসপাতাল চালু হলে মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না বলে আশা করছেন ২০ লাখ ভোলাবাসী।

স্থানীয়রা মনে করছেন, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি চালু হলে খুব সহজেই চর চরাঞ্চল, দূর-দূরান্তের রোগীরা ঢাকা বরিশাল না গিয়ে ভোলাতে সহজেই চিকিৎসা নিতে পারবে। এটি তখন ভোলার মানুষের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থলে পরিণত হবে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্র নাথ মজুমদার ইনকিলাবকে জানান, ভোলা জেলা স্বাস্থ বিভাগ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর পরেই উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম। আর সে মহেন্দ্রক্ষনের অপেক্ষায় রয়েছে ২০ লক্ষ ভোলাবাসী।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন