ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

আইন ভাঙতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫:০৬ পিএম

ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগের পক্ষে ও বিপক্ষে নানা শক্তি কাজ করছে৷ তবে, সংসদের উদ্যোগে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে আইন প্রায় চূড়ান্ত হলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তা উপেক্ষা করতে পারেন৷

ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে৷ গত সপ্তাহে সংসদের দুই কক্ষ চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে যে প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল, সোমবারই রানির স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা আইনে পরিণত হবার কথা৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজের অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছেন৷ তিনি কোনো অবস্থাতেই ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিটের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিতে চান না৷ শেষ মুহূর্তে বোঝাপড়া না হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে তিনি সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করতে নারাজ৷ ‘দ্য ডেলি টেলিগ্রাফ’ সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী রোববার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা আইনি পথে ব্রিটিশ সংসদের উদ্যোগ বানচাল করতে শলাপরামর্শ করেছেন৷ তাদের পরিকল্পনার আওতায় ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চিঠিতে জানানো হবে, যে ব্রিটিশ সরকার ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়াতে চায় না৷

তবে সংসদকে উপেক্ষা করে বরিস জনসন নিজস্ব পথে এগোতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে৷ তিনি ১৫ই অক্টোবর আগাম নির্বাচন চাইলেও সংসদে বিরোধী পক্ষ সোমবার সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে৷ তারা জনসনের উপর আস্থা রাখতে পারছে না৷ চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়ানোর উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হবার আগে তাই আগাম নির্বাচন চাইছে না বিরোধীরা৷

টোরি দলের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন কমে চলেছে৷ সংসদে সরকারের বিরোধিতার কারণে ২১ জন সংসদ সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ বরিস জনসনের ভাইয়ের পর আর এক জন মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন৷ এই অবস্থায় কোণঠাসা প্রধানমন্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হবে কিনা, সে বিষয়েও জল্পনাকল্পনা চলছে৷ তবে রোববার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন৷

ব্রিটিশ সংসদ চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে সময়সীমা পেছানোর উদ্যোগ নিলেও ইইউ সেই আবেদন মঞ্জুর করবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে৷

জার্মানির ‘ডেয়ার স্পিগেল’ পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নীতিগতভাবে ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে৷ তবে আগের মতোই যুক্তরাজ্যকে সেই আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে৷ তবে ফ্রান্সের মতো কিছু দেশ বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না৷ বলা বাহুল্য, সে ক্ষেত্রে বরিস জনসনেরই সুবিধা হবে৷ ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেট’ সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী তিনি প্রয়োজনে ইউরোপীয় কমিশনে ব্রিটেনের কমিশনার না পাঠিয়ে এমন অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারেন, যার ফলে ইইউ ৩১শে অক্টোবরের পর ব্রিটেনকে বিদায় জানাতে বাধ্য হয়৷

সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন৷ আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার বিকল্প নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবার কথা৷ এখনো পর্যন্ত জনসন কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প পেশ করতে পারেন নি৷ সোমবার দুই নেতার আলোচনায় কোনো সমাধানসূত্র উঠে এলে আগামী ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে তা চূড়ান্ত হতে পারে, যদিও তার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন ভারাদকার৷ সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন