ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

সন্ত্রাসে ভারতের মদদ, পাকিস্তান প্রমাণ দিলো

কাশ্মীর-আসাম নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

ভারতের চাপ সৃষ্টি করতে আর্ন্তজাতিক মহলে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রও জাতিসংঘে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বক্তৃতা করবেন মোদি-ইমরান। তার আগেই ভারত যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদদ দিচ্ছে তার প্রমাণ দিল্লির কাছে পাঠিয়ে দিল ইসলামাবাদ। তাতে তুলে ধরা হয়েছে, সীমান্ত পারে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদদ দিচ্ছে মোদি সরকার। যদিও এই দাবিকে ‘মিথ্যের জাল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এদিকে, কাশ্মীর-আসাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন।

বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে, গত সপ্তাহে ভারতের হাতে একটি ডসিয়ার তুলে দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানে নাশকতায় ভারতের বিভিন্ন এজেন্সি মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে সেই ডসিয়ারে। যদিও দিল্লির দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে প্রচারকে উসকে দিতে এই অভিযোগ করছে পাকিস্তান।

জানা গিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর করতারপুর করিডর নিয়ে বৈঠকে প্রতিবেশী দেশটির হাতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদদ দেয়ার তথ্য প্রমাণ সম্বলিত ডসিয়ার তুলে দেয় পাকিস্তান। তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে ভারতীয় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের যেতে পাকিস্তান অনুমতি না-দেওয়ায় গত সপ্তাহে করতারপুর বৈঠকে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বক্তৃতা করতে উঠবেন নরেন্দ্র মোদি এবং ইমরান খান। কাশ্মীর নিয়ে গত এক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং বাক্-যুদ্ধের মধ্যে এই ‘সম্মুখযুদ্ধ’ কৌত‚হলের কেন্দ্রে আসতে চলেছে এ মাসের শেষে। তার আগে ভারতকে চাপে রাখবে এই ডসিয়ার। কাশ্মীর ইস্যুতে এক দিকে মোদি যেমন আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন, অন্য দিকে, ইমরান খানও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। এই ইস্যুতে গত এক মাসে বার বারই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনকে পাশে পেয়েছেন। জাতিসংঘে নিজেকে কাশ্মীরিদের ‘প্রতিনিধি’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে বিশ্বের দরবারে উপত্যকার মানুষদের কথা তুলে ধরবেন বলেও আগেই মন্তব্য করেছিলেন ইমরান। অন্য দিকে, কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই রাশিয়া ও ফ্রান্সের সমর্থন পেয়েছে ভারত। এবং এটি যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তা বার বারই বলে আসছে মোদি সরকার। ফলে সে দিনের সাধারণ সভায় ভারত-পাক, দু’দেশই যে কাশ্মীর প্রসঙ্গে নিজেদের পক্ষ সমর্থনে জোরালো যুক্তি তুলে ধরবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডসিয়ারের কারণে জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি জোরালো হবে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদতের অভিযোগ করে আসলেও তেমন কোন প্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি। কিন্তু পাকিস্তান নিজেদের ডসিয়ারকে হাতিয়ার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর ৩৫ দিনে পড়ল অধিকৃত কাশ্মীরের অচলাবস্থা। এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ ও ইন্টারনেট স্বাভাবিক হয়নি সেখানে। এই অবস্থায় কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করল জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিতর্কিত হয়েছে ভারত। একমাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের হিউম্যানস রাইটস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল ৪২তম অধিবেশনে তার ওপেনিং স্টেটমেন্টে কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরিদের মানবাধিকার নিয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তিত। সেখানে যে ভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সম্মেলন করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং স্থানীয় নেতাদের আটক করে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’ কাশ্মীরের মানুষকে তাদের সাধারণ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন মিশেল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কাশ্মীরের জনগণের ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতে তাদের পরামর্শ নেওয়া এবং নিযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি এনআরসি-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আসাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি ভারত সরকারকে আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নির্বাসন বা আটক না রাখা এবং মানুষকে রাষ্ট্রহীনতার হাত থেকে রক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছেন। সূত্র : টিওআই, ডেকান হেরাল্ড।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (11)
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
এটাই আসল সত্য কেননা ভারত একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র
Total Reply(0)
Pasha Pic ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
Good saying
Total Reply(0)
Hasan Mahmud ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
এটাই চিরন্তন সত্য!!তবে শুধু পাকিস্তান নই পুরো এশিয়ার সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক এই ভারত
Total Reply(0)
স্বপন ভৌমিক ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 3
নিজের ঘর ঠিক না করতে পারে অন্যের উপর দোষ দিচ্ছে।
Total Reply(0)
Md Nasir ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
ভারতিও গুয়েন্দারা আমাদের দেশের ভিতরেও সন্ত্রাসি কাজে জরিত এরা সারা দক্ষিণ এশিয়ায় বিপদজনক
Total Reply(0)
Khayes Uddin ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
সারা জীবন শুধু উদ্বেগ কথা শুনি এরি নাম জাতি সংঘ
Total Reply(0)
Zakir Hossain ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
গভির উদ্বেগ প্রকাশ করে হবে হবে ম্যাডাম??? ভারত, আমেরিকা,ইস্রাইল যা বলবে তাই শুনতে হবে।।।
Total Reply(0)
Oshomapte Oshomapto ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
গভীর উদ্বেগ ছাড়া আর কিছুই করার নাই।
Total Reply(0)
anisul ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩:২৭ পিএম says : 1
দাদা গুগল এ গিয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ গুলো তে সার্চ মারুন তাহলে বুজবেন করা জড়িত .... উটপাখির মতন বালিতে মাথা গুঁজে ভারত কে দোষ দেবেন না
Total Reply(0)
Shadab ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮:৪১ পিএম says : 0
Anisul bishal pundit
Total Reply(1)
anisul ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৫৩ পিএম says : 0
হ্যাঁ .... তো ?
Jahangir ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:১৩ পিএম says : 0
Paid employee what can do ? They make a eye wash we are working but they do nothing bcs they are lion with out teeth.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন