ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

মহানগর

সাংবাদিকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী শোভন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮:২৮ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় কর্তৃক সাংবাদিকের থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করা ও সভাপতি শোভন ও নাহিয়ান খান জয় জোর করে গাড়ীতে তুলে ফেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকসহ ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। পাশাপাশি আগামীতে এ ধরণের কোন ঘটনা সংগঠিত হবে না দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে শোভন ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চান। এসময় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবির ও সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম (নিবিড়) সহ সমিতির অন্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনের সামনে শোভনের অনুসারী ছাত্রলীগের দুই সহ সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির ও শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ মারামারি করেন। এতে দুজনই আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক ইনকিলাবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার সাংবাদিক নুর হোসেন ইমন তার মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। এটি দেখে ছাত্রলীগের সহ সভাপিত নাহিয়ান খান জয় ওই সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ডিলেট করে দেয়।

এরপরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ও নাহিয়ান খান জয় জোর করে এ প্রতিবেদককে গাড়ীতে তুলে নেন।

এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শোভন বলেন, 'আমি মূলত তাকে ঘটনাস্থলের মারামারি থেকে বাঁচাতে আমার গাড়িতে তুলেছিলাম। কিন্তু আমি তার প্রতি কোনো আগ্রাসী আচরণ করিনি। আমি এই ঘটনার জন্য দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।'

ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা দিলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন শোভন।
আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, 'আমি আসলে আমার দুই বন্ধুর (জহির ও বিদ্যুৎ) মারামারি দেখে মানসিকতা ঠিক ছিল না। আমি এই ঘটনার জন্য লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবির বলেন, 'আমরা ক্যাম্পাসে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে এর আগেও বাঁধাগ্রস্ত হয়েছি। এসব ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ক্যাম্পাসের সকল ছাত্র সংগঠনের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই আশা করি ভবিষ্যতে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ছাত্রলীগ ইতিবাচক ভুমিকা রাখবে।'

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
মো. আবদুলওয়াহেদতাফহীম ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬:২১ এএম says : 0
সভাপতি হওয়ার আগে যার মানসিকতা ঠিক থাকে না, সভাপতি হওয়ার পর তার কী অবস্থা হবে আল্লাহই ভালো জানেন। আর সাংবাদিককে মারামারি থেকে রক্ষার জন্য নিজ গাড়িতে উঠিয়ে ক্ষমাপ্রার্থী হবেন কেন? আসলে ডাল মে কুচ কালা হে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন