ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটে দেখা দিতে পারে খাদ্য সঙ্কট, অরাজকতা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম


 যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিতের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ‘বেআইনি’ এবং এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা উচিত বলে রায় দিয়েছে স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ দেওয়ানী আদালত। জনসনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানানো একদল রাজনীতিবিদের পক্ষে বুধবার এ রায় দিয়েছে তিন বিচারকের একটি প্যানেল। বিচারকরা বলেছেন, ব্রেক্সিটের আগে পার্লামেন্টের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা আটকাতেই প্রধানমন্ত্রী একাজ করেছেন। বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার এমপি’দের অভিনব প্রতিবাদে নজিরবিহীন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়। আগামী ১৪ অক্টোবর নতুন অধিবেশন শুরু হবে। অন্যদিকে, আগামী ৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যেতে (ব্রেক্সিট) হবে। বেক্সিট নিয়ে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করেছেন বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু বিরোধীরা বলছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের আটকাতে কৌশল খাটিয়ে এ কাজ করেছেন। যেন ব্রেক্সিট নিয়ে তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে এমপি’রা একজোট হতে না পারে। বিবিসি জানায়, তাই জনসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির আইনপ্রণেতা জোয়ানা চেরির নেতৃত্বে একদল রাজনীতিবিদ আদালতে যান। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকার যে ‘নো ডিল’ বা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পরিকল্পনা করছে তাতে সমুদ্রে পণ্য পরিবহন রুটে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা এবং সুনির্দিষ্ট ধরনের টাটকা খাবার ও ওষুধ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ব্রিটিশ সরকারেরই এক প্রাকম‚ল্যায়ন নথিতে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর হলে দেশজুড়ে পক্ষে বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলেও এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বৃধবার প্রকাশিত‘অপারেশন ইয়োলোহ্যামার’ নামের এ প্রাকম‚ল্যায়ন নথিটি বরিস জনসন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নয় দিন পর, গত ২ অগাস্ট প্রস্তুত হয়েছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। জনসনের পরিকল্পনার সাপেক্ষে ৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্য ‘নো ডিল ব্রেক্সিটের’ মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে যে পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, তার ধারণা পেতেই এ ম‚ল্যায়ন তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কীভাবে ব্রেক্সিট কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক বিভ্রান্তির কারণে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের প্রস্তৃতি একেবারেই নিম্নতম পর্যায়ের। ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ হলে পণ্যবাহী লরিগুলোর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে আড়াই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের ইইউ সীমান্ত চৌকিগুলোতে অধিকতর তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে বলেও নথিটিতে ধারণা দেওয়া হয়েছে। “সুনির্দিষ্ট ধরনের টাটকা খাদ্যের সরবরাহ কমে আসবে। তখন আতঙ্কিত মানুষজনের বেশি খাদ্য ক্রয়ের ঝুঁকিও থাকছে, যা খাদ্য ঘাটতির কারণ হতে পারে,” প্রকাশিত নথিতে এমনটাই বলা হয়েছে। চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পর প্রথম দিনই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া যানবাহনের সংখ্যা এখনকার তুলনায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ব্রেক্সিট কার্যকরের পর এমন বাজে পরিস্থিতি তিন মাস পর্যন্ত থাকতে পারে বলেও এতে ধারণা দেওয়া হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন