ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

এমপি-চেয়ারম্যান দ্বন্দ্ব

সব ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:০৫ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য উভয়ই আওয়ামী লীগ নেতা। স্থানীয়ভাবে দু’জনই প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা কিছু সুবিধা পেলেও কর্মকান্ডে তারা কার্যত ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’। এমপিরাই সর্বময় ক্ষমতা ভোগ করছেন। কিন্তু দুই নেতাই প্রভাবশালী হওয়ায় দ্ব›দ্ব লেগেই আছে। কোনো কোনো জেলায় দ্ব›েদ্বর নেপথ্যে রয়েছে দুর্নীতি-অনিয়ম। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার সচিবের কাছে পরস্পরবিরোধী অভিযোগও জমা পড়েছে। স্থানীয়রা সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও করেছেন। বরিশাল, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদে এ রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদেরকে ছাড় দেবে না সরকার।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা কী ভূমিকা পালন করবেন তা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। আইনে কোনোটাই পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে বিরোধ বাধছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে এমপিদের দ্ব›েদ্বর বিষয়ে, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের র‌্যাংক (পদমর্যাদা) এখনো না দেয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে এমপিদের সঙ্গে দ্ব›েদ্বর বিষয়ে জানি না। অভিযোগ এলে বিষয়টি দেখা হবে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে গঠন করা হয়েছিল জেলা পরিষদ। একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন নারী সদস্য নিয়ে গঠিত জেলা পরিষদ। এই জনপ্রতিনিধিদের কাজ কী হবে সে বিষয়ে তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। কোন কোন কাজ তদারকি করতে পারবেন বা করা উচিত তাও বলা নেই। বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় সারাদেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের দ্ব›দ্ব চরমে।

জেলা পর্যায়ে বর্তমান এমপি ও সাবেক এমপি, জেলা পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা (অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ নেতা) একে অন্যের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়িতে যতটা ব্যস্ত, তাদের ততটা ব্যস্ততা উন্নয়ন কাজে নেই। এমপিদের পাশাপাশি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। উপজেলা চেয়ারম্যানরা বলছেন, তারা এমপিদের কাছে জিম্মি। তাদের ইশারায় সব কিছু চলে। আবার জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাদের পাত্তা দেন না। বর্তমান এমপিদের ত্রিমুখী দ্ব›েদ্বর জেরে অনেক জায়গায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ প্রশাসকদের মধ্যেও কোন্দলের খবর পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাজ কী হবে? তারা কী ভূমিকা পালন করবেন তা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। আইনে কোনোটাই পরিষ্কার করা হয়নি। আইনে তাদের ১২টি ফাংশন আছে। জেলা পর্যায়ে সব উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা। এটা যদি করতে হয়, ডিসির নেতৃত্বে যে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি আছে, সেই ফাংশনটা চেয়ারম্যানের কাছে চলে আসে। তাহলে এটা আদৌ কী হচ্ছে, সেটা দেখতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে এমপিদের দ্ব›েদ্বর বিষয়ে, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের র‌্যাংক (পদমর্যাদা) এখনো দেয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে এমপিদের সঙ্গে দ্ব›েদ্বর বিষয়ে তিনি অবহিত নন। যদি কোনো অভিযোগ আসে তাহলে বিষয়টা দেখবেন। মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় অবকাঠামো তৈরি, সমন্বয় করা, বিদ্যালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান নির্মাণ, কৃষি কাজ সহায়তার জন্য ছোট ছোট খাল তৈরি করবেন। জেলা পরিষদের এ রকম অনেক কাজ করার আছে। কোনো দ্ব›দ্ব তৈরি হতে পারে কি না এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, দ্ব›েদ্বর সম্ভাবনা নেই। জেলা প্রশাসক জেলা পরিষদের কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জেলা পরিষদ থাকলেও ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের অধীন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডকে নতুন আঙ্গিকে পরিণত করে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নামকরণ করা হয়। এ ব্যবস্থায় ১৯৬৩ সালে জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনটিও হয়েছিল স্থানীয় সরকারের নিম্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে। এরপর ১৯৬৬ সালে দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে নির্বাচিত পরিষদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জেলা প্রশাসককে এর প্রশাসক করে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের যাবতীয় কাজ পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা দেয়া এবং ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের স্থলে জেলা বোর্ড নামকরণ করা হয়। ১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং জেলা বোর্ডের নামকরণ করা হয়। পরে এরশাদ সরকারের সময় স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন-১৯৮৮ পাস হয়। ওই আইনেও পাকিস্তান আমলের মতো পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্য নির্বাচনের বিধান করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকার নির্বাচন না করে দলীয় সংসদ সদস্যদের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ওই আইনটি বাতিল করে জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে।

২০০০ সালে জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন সংসদে পাস হয়। পরে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এসে জেলা পরিষদ সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের অন্য জেলায় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসক নিয়োগের ৫ বছরের মাথায় ক্ষমতাসীন এ দলটি পরিষদের নির্বাচনের উদ্যোগ শুরু করে। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানরা শপথ নেন। ওই অনুষ্ঠানে মানুষের সেবা ও উন্নয়নে জেলা পরিষদের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল জেলা পরিষদ। এদিকে বাংলাদেশ জেলা পরিষদ ফোরামের পক্ষ থেকে এলজিআরডি মন্ত্রীকে বিভিন্ন দাবি সংবলিত আবেদন তুলে ধরা হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে কর্মপরিধি নির্ধারণ করা, জেলা পরিষদের বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা পরিষদ ফোরামের মতবিনিময়ের ব্যবস্থা, জেলা পরিষদ আইন-২০০০ অনুযায়ী জেলার সব উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনার দায়িত্ব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করা, জেলা পরিষদকে উপজেলা ও পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা, জেলা পর্যায়ের সব দফতরকে জেলা পরিষদের আওতায় এনে সুসমন্বয়ের মাধ্যমে দফতরগুলোর কার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা, এডিপির সাধারণ বরাদ্দের কত শতাংশ সংসদ সদস্যরা পাবেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের জন্য বাসভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা, জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অধিকতর বিকাশের লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের ওপর ন্যস্ত করা, জেলা পরিষদের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর বিদ্যমান ১ ভাগ থেকে ৫ ভাগে উন্নীত করা এবং একই সঙ্গে জেলা পরিষদের অনুকূলে এডিপির বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অভিপ্রায় অনুযায়ী একান্ত সচিব বা সহকারী সচিবের পদ সৃষ্টি, চেয়ারম্যানের নিরাপত্তার জন্য গ্যানমানের পদ সৃষ্টি এবং জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকান্ড যথাযথভাবে বামস্তবায়ন ও তদারকির জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ সৃষ্টি করা, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন বা দেশি-বিদেশি প্রকল্প জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

বাংলাদেশ জেলা পরিষদ ফোরামের আহ্বায়ক ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন ইনকিলাবকে বলেন, আমরা এলজিআরডি মন্ত্রীর কাছে জেলা পরিষদের বিদ্যমান সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলীর সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসের সঙ্গে দা- কুমড়া সম্পর্ক। তবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কুড়িগ্রামের আওয়ামী লীগে দীর্ঘ দিন ধরে চাঙ্গা করে রেখেছেন। তার সঙ্গে জেলার সকল উপজেলার চেয়ারম্যান ও দলীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ভাওলা সম্পর্ক। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দলীয় নেতাদের সম্পর্ক তেমন নেই বললে চলে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাজেদুর রহমানের সঙ্গে স্থানীয় চার এমপির সম্পর্ক অনেকটা নড়বড়ে। তার মধ্যে নাটোর-২ (সদর) আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজানের সম্পর্ক দা-কুমড়া।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের এমপি আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমানের সম্পর্ক নেই। বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সিদ্দিক পাটোয়ারী একত্রে কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন না।

কক্সবাজার জেলার অনেক এমপির সঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, কারো সঙ্গে তার মতবিরোধ নেই। সদরের এমপি হলেও জেলা পরিষদের কোনো উন্নয়ন কর্মকান্ডে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় না।

কুষ্টিয়ায় সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দূরত্ব রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসক কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা জাহিদ হোসেন জাফর। জুনিয়র হওয়ায় স্থানীয় এমপিসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে তিনি অনেকটা উপেক্ষিত। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভাতেও অনুপস্থিত থাকেন প্রায়। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল ওয়াহেদ জোয়ারদারের সঙ্গে এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকীর সম্পর্ক খুবই খারাপ।

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আব্দুল মমিন মন্ডলের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাসের বিরোধ চরম পর্যায়ে। বলা হয়, জনপ্রিয়তা না থাকা সত্তে¡ও শুধু টাকার জোরে নির্বাচনে সরকার দলীয় মনোনয়ন পান মমিন মন্ডল। তখন লতিফ বিশ্বাসের সমর্থকরা মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল লতিফ বিশ্বাস।

দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ
বরিশাল জেলা চেয়ারম্যান মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ মুনাওয়ারুল ইসলাম অলিব। ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে পরিষদের সদস্যরা। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান মইদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ জন সদস্য বরিশাল জেলা পরিষদ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি। কিন্তু এর পর থেকেই চেয়ারম্যানের খামখেয়ালিতে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়। উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টনে অনিয়ম এবং অফিস খরচের নামে উৎকোচ গ্রহণ শুরু হয়। এসব বিষয়ে বারবার চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো সুফল পাননি সদস্যরা।

মুনাওয়ারুল ইসলাম অলিব অভিযোগে বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকলেও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অধিকাংশ প্রকল্প এখনো কাগজ-কলমে রয়ে গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী বরিশাল জেলা পরিষদের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিধিবহির্ভূত কোনো কাজ করার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে মহিলা আওয়ামী লীগের জেলা সভানেত্রী ও রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনেছেন পরিষদের কয়েকজন সদস্য। তারা চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য মোহসিনা বেগম বলেন, চেয়ারম্যান ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে রাজস্ব খাত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হেরফের করেছেন। দুই অর্থবছরে এডিপির ৪০% কাজ বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কিন্তু প্রকল্পের টাকা ব্যাংকে জমা রেখে চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করার পাশাপাশি মাসিক লভ্যাংশ নিচ্ছেন।

এদিকে গাইবান্ধার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি বেয়ারার চেকের মাধ্যমে নেয়ার অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জরিদুল হক। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, সাধারণ মানুষের উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাখ লাখ টাকা বেয়ারার চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। অবশ্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানালেন, এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে। পরিষদের শীর্ষ পদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার সুবাদে পাশ কাটাচ্ছেন মইনুদ্দিন মন্ডল। নাচোল আধুনিক মার্কেটের ১১টি দোকান বরাদ্দের দরপত্র দুর্নীতি এবং জেলা স্কুলের ভবন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি কাজের টেন্ডারেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একইভাবে নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
M. Ahmed ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৩ এএম says : 0
গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে রিপোর্ট করায় ইনকিলাবকে ধন্যবাদ। আমরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা শুধু চেয়ার পেয়েছি কিন্তু কোনো ক্ষমতা কার্যত পাইনি। এরকম চেয়ারে থেকে কী করা যায়।
Total Reply(0)
মা হোমিও হল ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৪ এএম says : 0
একচেটিয়া সব দখল করে রাখলে এই ধরনের কত সমস্যা তৈরি হবে। সব গণতন্ত্রের সংকট।
Total Reply(0)
তাইজুল ইসলাম ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 0
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের অবস্থা হচ্ছে ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিতীরাম সরদার।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৬ এএম says : 0
দুজনেই আওয়ামী লীগ নেতা হলে কে কাকে গোনে। সবাই তো লুটপাট করতে চাই, এক্ষেত্রে কেউই ছাড় দিতে চাই না।
Total Reply(0)
জাকের ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৭ এএম says : 0
সরকারের উচিত জেলা পরিষদের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া।
Total Reply(0)
মিনহাজ বকুল ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৮ এএম says : 0
সব ভাগ বাটোয়ারার দ্বন্দ্ব। অর কিছু না।
Total Reply(0)
কামরুজ্জামান ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:২৩ এএম says : 0
পঞ্চায়েত হাবিব অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি সুন্দর নিউজ করেছেন। এজন্য তাকে সাধুবাদ জানাই।
Total Reply(0)
MD Akash ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:২৪ এএম says : 0
আশা করি সরকারের উর্ধ্বতন মহল বিষয়টি নিয়ে ভাববেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন।
Total Reply(0)
Nasir Swapon ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:২৬ এএম says : 0
যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে, সেগুলো ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Total Reply(0)
Badal Hussain ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:২৭ এএম says : 0
দেশের উন্নয়নের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা দরকার।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন