ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সন্তানকে আটকে রেখে মাকে ধর্ষণ

খুলনায় শিশুসহ শিকার আরো ৩ : আটক ৪

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অপহরণের পর শিশু সন্তানকে আটকে রেখে মাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণ শেষে পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ধর্ষক এনামুল। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে রাতভর প্রেমিকাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। খুলনায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক শিশু। ঝিনাইদহে ঘরে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলার আসমিসহ বিভিন্ন স্থানে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বরিশাল : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অপহরণের পর শিশু সন্তানকে আটকে রেখে মাকে ধর্ষণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে বরিশাল আদালতে মামলা করা হয়েছে। গত রোববার এক সন্তানের জননী ধর্ষিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু শামীম আজাদ মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভালুকশী গ্রামের এক গৃহবধূর স্বামী চট্টগ্রামে চাকরি করে। চাকরির সুবাদে স্বামী চট্টগ্রামে বসবাস করেন। এই সুযোগে প্রায়ই এনামুল তাকে কুপ্রস্তাব দেয়।
এনামুলের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই গৃহবধূর শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি দেয় সে। ভয়ে গৃহবধূ চট্টগ্রামে তার স্বামীর কাছে চলে যায়। সেখানে থেকে গত ২২ জুলাই রাতে গৃহবধূকে অচেতন করে শিশু সন্তানসহ অপহরণ করে আগৈলঝাড়া উপজেলার ভালুকশী গ্রামের কাজী আব্দুর রহমানের ছেলে এনামুল কাজী।
পরে ঢাকার সাভারে একটি বাসায় শিশু সন্তানকে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে এনামুল। ধর্ষণ শেষে গৃহবধূকে মুক্তি দিতে ৮ লাখ টাকা দাবি করে এনামুল। গত ২ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ তার ভাইয়ের মাধ্যমে এনামুলকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়। ৩ সেপ্টেম্বর তাদের আবার অচেতন করে আগৈলঝাড়ার ঢাকা-পয়সা সড়কের বাইপাস ব্রিজের পাশে ফেলে রেখে যায়। এই ঘটনায় রোববার ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে এনামুল কাজীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক কিশোরীকে (১৭) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতভর ওই কিশোরীর কথিত প্রেমিক ও তার বন্ধুরা এ ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে গত সোমবার দুপুরে চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে কামারখন্দ থানায় মামলা করেছেন।

গণধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলায়। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন- কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর গ্রামের দুলাল সেখের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২০) এবং একই এলাকার মুকাদ্দেস আলীর ছেলে নাইমুল হক (২০)।

কামারখন্দ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) পলাশ চন্দ্র দেব জানান, অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সর্ম্পক ছিল। গত রোববার রাতে উল্লাপাড়া থেকে আশরাফুল ওই মেয়েকে নিয়ে আসে। এরপর কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে সেখানে আশরাফুল তার আরও তিন বন্ধুকে ডেকে আনে। এরপর ওই কিশোরীকে তারা রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ভোর হলে কুটিরচর এলাকায় ওই কিশোরীকে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। সকালে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে ওই কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নে প্রতিবেশি নারীকে ধর্ষণের দায়ে খায়রুল ইসলাম নামে হাঁসের এক খামারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে খায়রুলকে ওই ইউনিয়নের তার নিজ গ্রাম করাচাপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। গ্রেফতারের ঘন্টা সময় আগে খায়রুলের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনে তারই প্রতিবেশি মোহনগঞ্জ থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেন।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ঘরে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রথমে গ্রাম্য মাতবরদের কাছে বিচার দিয়েছিল ওই ছাত্রীর পরিবার। সালিশও বসে। কিন্তু সেখানে সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় সাত দিন পর গতকাল মঙ্গলবার থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর বাবা। মামলার পর সকালে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মশিয়ার রহমানকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার মশিয়ার রহমান উপজেলার একতারপুর গ্রামের মৃত ইবাদ আলীর ছেলে।

কিশোরীর বাবার অভিযোগ, মশিয়ার রহমান বাড়িতে ঢুকে তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য মাতবরদের মাধ্যমে সালিশ করা হয়। কিন্তু সেখানে সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় থানায় মামলা করেন তিনি।
খুলনা : খুলনায় সালমান শাহ (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে (সালমান শাহ) নগরীর নতুন বাজার চর এলাকার বাসিন্দা আলমগীর খার ছেলে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে নগরীর নতুন বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল সকালে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সালমান শাহ পলাকত রয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম বাহার বুলবুল জানান, সালমান শাহ নগরীর নতুন বাজার ওয়াপদা স্কুল গলি এলাকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে আসা এক শিশুকে মোকছেদ গলির স্বপন-রিপনের অটো গ্যারেজে নিয়ে একটা ইজিবাইকের মধ্যে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Babul Reja ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৪ এএম says : 0
ধর্ষকের শাস্তি চাই।
Total Reply(0)
Kabir Humayun ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৫ এএম says : 0
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে ,তাহলেই মহামারী আকার থেকে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোন দেশ ই এটা চিরতরে বন্ধ করতে পারে নাই হয়তোবা সম্ভব ও নয়।
Total Reply(0)
Sabbir Ahamed ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৫ এএম says : 0
বিচারহীনতা বন্ধ হলেই এইগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।
Total Reply(0)
Mahmud ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৬ এএম says : 0
প্রতিটি ধর্ষকের বিচার জনসন্মূখে হওয়া উচিত, কেননা তারা সবসময় আইনের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বের হয়ে যায় ।
Total Reply(0)
সোয়েব আহমেদ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৬ এএম says : 0
সারাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ মহামারীর রূপ নিয়েছে
Total Reply(0)
শফিক রহমান ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৭ এএম says : 0
কর্মক্ষেত্রে, পরিবহনে, স্কুল, মাদ্রাসায় এমন কি কোচিং সেন্টারেও নারীর শীলতাহানী করা হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যাও করা হচ্ছে। এ সকল ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ অভিযোগ নিতে টালবাহানা করে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সালিশের নামে অভিযুক্তকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
Total Reply(0)
জাবের ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৭ এএম says : 0
দ্রুত বিচার আইনে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড, পুলিশ কর্তৃক অভিযোগ আমলে নিতে টালবাহানা বন্ধ করা, নারীদের অভিযোগ শোনার জন্য প্রতি থানাায় নারী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি
Total Reply(0)
Mahfuz Ahmed ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:১৯ এএম says : 0
কি হবে যুবক নামের ভূষণ পড়ে সমাজের, যেখানে ধর্ষিতা হয় মা-বোনেরা দিনে-রাতে যৌবনের সার্থকতা বুঝবে সকল ব্যথা যদি পারো বলি দিতে মানুষরূপী পশুটাকে
Total Reply(0)
মোঃ আকরাম খাঁন ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৪২ এএম says : 0
বাংলাদেশ আজ ধর্ষণের রঙ্গমঞ্চ! দেশ আজ হুমকির মুখে,দেশে নেই কোন আইনের সুশাসন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন