ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ছাত্রলীগে আ.লীগের হস্তক্ষেপ

কি আরপিও ভঙ্গ হয় না

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্র ও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে বাই ফোর্স ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সেক্রেটারি রাব্বানীকে পদচ্যূত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সংশোধিত চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রের ২৫ (১) ধারা অনুযায়ী ছাত্রলীগ তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন মাত্র। এদিক থেকে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগকে কোনো আদেশ-নির্দেশ দেয়া বা তাদের ওপর হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা কেবল পরামর্শ দেয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু নিয়মনীতি, বিধি-বিধান আইন-কানুন সব লঙ্ঘন করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে হুমকী ধামকী দিয়ে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করছেন। এতে কি আরপিও ভঙ্গ হয় না? আইন-আদালতের মারপ্যাঁচে ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ থাকলে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে কোন আইনে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হলো? গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও এক সময়ের ছাত্রলীগ সভাপতি তোফায়েল আহমেদ (৫ আগস্ট ২০১৬ একটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়াকে) বলেছিলেন, নীতিগতভাবে ছাত্রলীগকে আমরা কিছু বলতে পারি না। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের শুধুমাত্র ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। জনপ্রতিনিধিত্ব (আরপিও) আইন অনুযায়ী তারা স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগঠন। ফলে ছাত্রলীগকে কোনো নির্দেশ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে আমরা পরামর্শ দিতে পারি মাত্র। কিন্তু বাস্তবে কী দেখতে পাচ্ছি? আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যূত করে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেকথা স্বীকার করে পরদিন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দেখভাল করছেন। ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন সম্পন্ন করতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। এটা কোন এখতিয়ার বলে করেছেন? আদালত এইক্ষেত্রে কি কোন জুডিশিয়াল নোটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট আওয়ামী নেতাদের পাঠাতে পারবেন?
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের অব্যহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ২৯তম কাউন্সিলের সময় ছাত্রলীগের নতুন নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ৬ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক-খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এনামুল হক শামিম। এবারও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে অব্যহতি দেয়ার আগে ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের ৪ নেতাকে।
বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন যদি কেউ এই অবৈধ কর্মকান্ড এবং শোভন-রাব্বানীর পদচ্যূতিকে চ্যালেঞ্জ করে ঐ একই ঢাকা চতুর্থ সহকারী জজ আদালতে একই ধারায় একটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করে, তবে বিএনপির উপরে যেমন শোকজ ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর একই রকম স্থগিতাদেশ এবং শোকজের আদেশ দিতে পারবে কি? ওবায়দুল কাদেরের কথা অনুযায়ী তারা যে আরপিও এবং দলীয় গঠনতন্ত্র লংঘন করেছেন সেটা বৈধ আর বিএনপি সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করেও অপরাধী? এখন আদালত বা নির্বাচন কমিশন চুপ কেন? এখন কেন তাদের টনক নড়ে না?
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আউয়াল খান প্রমুখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন