ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রার্থীদের পাশে কেউ নেই

রংপুর-৩ উপ-নির্বাচনে বিএনপি-জাপা মুখোমুখি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় বর্তমানে প্রার্থী সংখ্যা ৬ জন। ভোটে প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে মূলত জাতীয় পার্টির রওশন পুত্র রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ, বিএনপির রিটা রহমানের মধ্যে। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা হুসেইন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ, এনপিপির শফিউল আলম, গণফ্রন্ট্রের কাজী শহিদুল্লা এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রিটা রহমান প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় পাশে পাচ্ছেন না বিএনপির নেতাকর্মীদের। দলের বড় একটি অংশকে ছাড়াই একলা চলো নীতিতে ভোটযুদ্ধে মাঠে নেমেছেন বিএনপিতে সদ্য যোগ দেয়া এই প্রার্থী।

গতকাল বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর মেডিক্যাল পূর্বগেট এলাকায় স্থানীয় বিএনপির অল্প কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে তাকে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। রংপুরে যাদের মূলত বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচিত তাদের কেউ নেই তার সঙ্গে। তবে দলের তৃতীয় ও চতুর্থ সারির নেতাদের কয়েকজনকে দেখা গেছে।

বিএনপির স্থানীয় সিনিয়র নেতারা তার সঙ্গে প্রচারণায় নামবেন দাবি করে গতকাল রিটা রহমান বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ দলের সিনিয়র নেতারা দুই-একদিনের মধ্যে রংপুরে এসে সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। সেখানে নির্বাচন কর্মপরিকল্পনা ও দিক-নির্দেশনা দেবেন। আমরা তাদের নির্দেশনাতেই কাজ করব। তবে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, আমরা দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গেই আছি। মামলা-মোকাদ্দমাসহ বিভিন্ন কারণে এখনও দলের সিনিয়র নেতারা একত্রিত হয়ে মাঠে নামেননি। তবে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় আগ্রহী নন। কারণ অপরিচিত ব্যক্তিকে ধানের শীর্ষ প্রতীক দিয়ে প্রার্থী করায় তারা নিজেরাই অপমানবোধ করছেন।

এদিকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন রওশন পুত্র রাহগীর আল মাহী সাদ। তিনি গতকাল পল্লী নিবাসে পিতা এরশাদের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। এ সময় তিনি এরশাদের কবরের কাছে কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত করেন। গতকাল জাতীয় পার্টির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সাদ এরশাদ বলেন, বাবার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে নির্বাচনে নেমেছি। আমি প্রবীণদের সহযোগিতায় তরুণদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। এসময় তার সাথে ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আজমল হোসেন লেবু, হাজী আব্দুর রাজ্জাক, শাফিউল ইসলাম শাফী, মুনসী আব্দুল বারী, হাসানুজ্জামান নাজিম। এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে শোডাউন নিয়ে নেতাকর্মীরা তাকে পল্লী নিবাসে আসেন সাদ। কিন্তু লাঙ্গলের প্রার্থী সাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নেই রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সিনিয়র নেতা ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, নগর সভাপতি রংপুর সিটির মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির। জাতীয় পার্টির নেতারা জানান, তারা রওশন পুত্র এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় নেই।

উল্লেখ, রংপুর সদর উপজেলা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড (এলাকা) নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৩ জন। এ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৩০টি, ভোটকক্ষ ৯১০টি। গত ১৪ জুলাই রংপুর-৩ আসনের এমপি এরশাদের মৃত্যুর পর ১৬ জুলাই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ৫ অক্টোবর আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন