ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

জিম্বাবুয়েকে গুড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ফিফটি

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:২০ পিএম | আপডেট : ১০:২১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ব্যাট হাতে অবদান রাখলেন লিটন, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক। বল হাতে তার প্রতিদান দিলেন সাকিব, শফিউল, মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিন আর অভিষিক্ত আমিনুল। আর তাতে জিম্বাবুয়েকে গুড়িয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের দলের জয়টি ৩৯ রানের।

বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লিটনের (২২ বলে ৩৮) ঝড়ো শুরু, মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত ফিফটি (৪১ বলে ৬৯) আর মুশফিকের (২৬ বলে ৩২) ক্যামিওতে ১৭৫ রানের লড়াইকু পুঁজি পায় সাকিব আল হাসানের দল।

বড় রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ বলে অলআউট হবার আগে ১৩৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন মুতাম্বামি। অভিজ্ঞ মাসাকাদজা করেন ২৫ রান ও কাইল জার্ভিসের ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান।

৩ উইকেট নেন অনেক দিন পর দলে ফেরা শফিউল। দুটি করে উইকেট নেন অভিষিক্ত বিপ্লব ও কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। একটি করে শিকার অধিনায়ক সাকিব ও পেসার সাইফউদ্দিনের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (শান্ত ১১, লিটন ৩৮, সাকিব ১০, মুশফিক ৩২, মাহমুদউল্লাহ ৬২, আফিফ ৭, মোসাদ্দেক ২, সাইফ ৬*, আমিনুল ০*; এনডিলোভু ৩-০-৩২-০, জার্ভিস ৪-০-৩২-৩, এমপোফু ৪-০-৪২-২, উইলিয়ামস ৪-০-২৬-০, বার্ল ১-০-১৩-১, মাতুমবদজি ৩-০-১৭-১, মাদজিভা ১-০-১০-০)।

জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৩৬ (টেইলর ০, মাসাকাদজা ২৫, চাকাভা ০, উইলিয়ামস ২, মাতুমবদজি ১১, বার্ল ১, মুতুমবামি ৫৪, মাদজিভা ৯, জার্ভিস, এনডিলোভু ২, এমপোফু ০*; সাইফ ৪-০-১৪-১, সাকিব ৪-০-২৮-১, শফিউল ৪-০-৩৬-৩, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৮-২, আমিনুল ৪-০-১৮-২)।

ফল : বাংলাদেশ ৩৯ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

মাহমুদউল্লাহ বীরত্বে লড়াইয়ের পুঁজি

নেমেই ছক্কা দিয়ে খুলেছিলেন রানের খাতা। শেষ পর্যন্ত সেই বড় শটের আশাতেই হলেন বাউন্ডারিতে আউট। তবে তার মাঝে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই লড়াইয়ের পুঁজি পেল বাংলাদেশ।

ত্রিদেশীয় টিটোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৫ রান তুলেছে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশ। তিন বল আগে আউট হওয়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলেছেন ৬৯ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। ৪১ বলের ক্যামিওটিতে একটি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো।

এছাড়া মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ নিয়ে চতুর্থ উইকেটে গড়েছেন ৭৮ রানের জুটি। আর ঝড়ো শুরু করে দিয়ে যাওয়া লিটন কুমার দাসের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৮ রান। আরেক ওপেনার অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে খেলেছেন ৪৯ রানের জুটি। আর তাতেই লড়াকু সংগ্রহ পেয়ে যায় স্বাগতিক শিবির।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (শান্ত ১১, লিটন ৩৮, সাকিব ১০, মুশফিক ৩২, মাহমুদউল্লাহ ৬২, আফিফ ৭, মোসাদ্দেক ২, সাইফ ৬*, আমিনুল ০*; এনডিলোভু ৩-০-৩২-০, জার্ভিস ৪-০-৩২-৩, এমপোফু ৪-০-৪২-২, উইলিয়ামস ৪-০-২৬-০, বার্ল ১-০-১৩-১, মাতুমবদজি ৩-০-১৭-১, মাদজিভা ১-০-১০-০)।

মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

ঝড়ো শুরু করেছিলেন লিটন দাস। অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্তও দিয়েছিলেন তাকে যোগ্য সঙ্গ। তবে খুব একটা দীর্ঘ হয়নি, ১১ রানে নাজমুলের বিদায়ে ভাঙে জুটি।

দলীয় ফিফটি পেরিয়ে লিটনও (২২ বলে ৩৮) ফিরে যান দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হয়ে। এসে থিতু হতে পারেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও।

তবে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে রানের চাকা রয়েছে সচল, ১২ ওভার শেষে ৩ উেইকেট হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১২। মুশফিক ১৭ বলে ২১ ও রিয়াদ অপরাজিত আছেন ২১ বলে ২৬ রান নিয়ে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ম্যাচটি শুরু হবে। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মনে করেন, আগে ব্যাটিং পাওয়ায় ভালোই হয়েছে। রান তাড়ার চাপ না থাকায় দুর্ভাবনা ছাড়াই ব্যাটিং করতে পারবেন তারা।

শান্ত-বিপ্লবের অভিষেক, ফিরলেন শফিউল

সৌম্য সরকার স্কোয়াডে না থাকায় একটি পরিবর্তন আনতেই হতো। বাংলাদেশ এনেছে তিনটি পরিবর্তন। অভিষেক হচ্ছে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত ও লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের।

একাদশে জায়গা হারিয়েছেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান ও বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার শফিউল ইসলাম।

বাংলাদেশ একাদশ : সাকিব আল হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটস দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাইফ উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

জিম্বাবুয়ে দলেও জোড়া পরিবর্তন

সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েও দলে এনেছে দুটি পরিবর্তন। দলে জায়গা হারিয়েছেন টেন্ডাই চাতারা ও ক্রেইগ আরভিন। তাদের বদলে একাদশে ফিরেছেন ক্রিস এমপফু ও রিচমন্ড মুতুমবামি।

জিম্বাবুয়ে একাদশ : হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেইলর, রিচমন্ড মুতুমবামি, শন উইলিয়ামস, টিনোটেন্ডা মাতুমবদজি, রায়ান বার্ল, রেজিস চাকাবভা, নেভিল মাদজিভা, কাইল জার্ভিস, আইন্সলে এনডিলোভু, ক্রিস এমপফু।

জিতলেই ফাইনালে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কাছে হারের তিক্ত স্বাদ পাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে হেরেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেলেও হেরেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ডাবল লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এ সিরিজের ফাইনাল হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। আজ জিম্বাবুয়েকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখে চলে যাবে ফাইনালে। জিম্বাবুয়ে হারলে তাদের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। তবে আজ তারা জিতলে টুর্নামেন্ট জমে উঠবে।

জিম্বাবুয়ের বাঁচা-মরার ম্যাচ

প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ফাইনালে ওঠার আশা ফিকে হয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের। তবে আগের দুই ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর উপকরণ খুঁজে পাচ্ছে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার দল।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে যেমন প্রায় জিতেই যাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত তারা পেরে ওঠেনি আফিফ হোসেনের পাল্টা আক্রমণে। পরের ম্যাচে আফগানিস্তানকেও তারা চাপে রাখতে পেরেছিল একটা পর্যায় পর্যন্ত। চতুর্দশ ওভারে আফগানদের রান ছিল ৪ উইকেটে ৯০। সেখান থেকে নাজিবউল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবির ব্যাটিং তান্ডবে ধরাছোঁয়ার প্রায় বাইরে চলে যায় আফগানরা।

শন উইলিয়ামস তাই মনে করেন ছোট ছোট কিছু ব্যাপার ঠিকঠাক করতে পারলেই ধরা দেবে জয়। টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে জিম্বাবুয়ে।

পাঁচ বছর পর সাগরিকায় টি-টোয়েন্টি

২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়নি। পাঁচ বছর পর এ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি। বাংলাদেশ এ মাঠে ম্যাচ খেলেছে মাত্র চারটি। যার তিনটিতেই হেরেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দুই ম্যাচ হারের পর নেপাল ও হংকংয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশ হেরেছিল হংকংয়ের কাছে।

আশা জাগানিয়া অতীত

বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করতে পারে এ মাঠে সবশেষ সীমিত পরিসরের পারফরম্যান্স। গত বছর অক্টোবরে জিম্বাবুয়েকে আতিথেয়তা দিয়ে এ মাঠে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ।  ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বরূপে ফিরতে তেমনই একটি জয় চায় বাংলাদেশ। পারবে কি বাংলাদেশ? উত্তর জানা যাবে রাতেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন