ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

হাসিনা-মোদি বৈঠকে এনআরসি নিয়ে আলোচনা হবে

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে আসামের এনআরসি’সহ দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়ে আলোচনা হবে। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর হতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শুরু হয়েছে। ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছবেন। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো,. শাহাব উদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবং কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিউইয়র্কে সাক্ষাৎ হবে। তবে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে বিশদ আলাপ হবে। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যকার যে ধরনের সমস্যা আছে সব তুলে ধরা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকে নিয়েই করতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে গত দুই বছরে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্ববাসী এখন বাংলাদেশকে সমর্থন করছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের বন্ধুদেশগুলোও আমাদের সমর্থন করছে। চীন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে আমরা আশাবাদী।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন। আমরা মূলত তার কথা শুনেছি ও আমাদের অবস্থানটা তাদের জানিয়েছি। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল প্রসঙ্গে আমরা বলেছি, এটা ভারতের সংসদের তৈরি আর্টিকেল। তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে বাংলাদেশ শান্তি চায়, মানুষের উন্নয়ন চায়। মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী মানবপাচারকারী ও দালালদের চিহ্নিত করে ফেরত আনা হবে। এ বিষয়ে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশুনগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চার কারণে এবারের জাতিসংঘ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, যে সকল কারণে এবারের অধিবেশন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হবে তার প্রথম কারণ হল, সাধারণ বিতর্ক পর্বের মূল প্রতিপাদ্যের আলোকে এবং বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সকলের সুস্বাস্থ্য নিশিচতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ণ এবং অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সকল বিষয়সমূহে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারের অধিবেশনে সাধারণ বিতর্ক পর্বের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য তথা এসডিজি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাগুলোতে এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং এসডিজি›র লক্ষ্য পূরণে রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবে একযোগে কাজ করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

জাতিসংঘের এ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ কারণেও এ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘের এ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচনায় আসবে এবং এ বিষয়ে বেশ কিছু ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরা জরুরী। এছাড়াও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী গত ৭২তম অধিবেশনে দেওয়া ৫ দফা প্রস্তাব ও ৭৩তম অধিবেশনে ৩ দফা এখনো প্রাসঙ্গিক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের আগ্রহ, সার্বিক অবস্থান অব্যাহত রাখা এবং দ্রুত প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এ বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের জোরালো বক্তব্য ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরাকে চতুর্থ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরা এবং দেশে চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের কর্মপরিকল্পনা বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন