ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

আফগান জয়রথ থামালেন মাসাকাদজা

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:৩২ পিএম | আপডেট : ১২:০৭ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

দৌলাত জদরানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। এগিয়ে এসে তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে পিট চাপড়ে দিয়ে গেলে রশিদ খান, এরপর মোহাম্মদ নবী। একে একে আরও অনেকে।

দেড় যুগের লম্বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন মাসাকাদজা। বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাতেই রশিদ-নবিদের ওই এগিয়ে আসা। মাথাটা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েন ৩৬ বছর বয়সী ওপেনার। ব্যক্তিগত ৭১ রান করে যখন তিনি সাজঘরে ফিরছেন দল তখন জয়ের শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে। সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়েই  শুক্রবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের জয়রথ থামিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে।

ত্রিদেশীয় টি-২০ টুর্নামেন্টের পঞ্চম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে মাসাকাদজার দল। রশিদ খানদের দেওয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্য ৩ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

প্রথম তিন ম্যাচ হেরে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল জিম্বাবুয়ের। দুই জয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আফগানিস্তানও আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে রেখেছিল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের এই ম্যাচটি তাই ছিল কেবল নিয়ম রক্ষার। এমন ম্যাচেই টানা ১২ জয়ের রেকর্ড গড়ার পর হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে আফগানিস্তান।
অথচ আফগানদের শুরুটা কী দুর্দান্তই না ছিল! টস জিতে ব্যাটে নামা দলটিকে বড় সংগ্রহের ভীত গড়ে দিয়ে যায় রহমতউল্লাহ গুরবাজ ও হযরতউল্লাহ জাজাই। কিন্তু সেই ধারাটা ধরে রাখতে পারেননি বাকি ব্যাটসম্যানরা। এরপরও ধুকতে থাকা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৫ রানের পুঁজিকে হেলাফেলা করার মত না। বিশেষ করে দলে যদি রশিদ খান, মুজিব উর রহমানদের মতো বোলার থাকেন।

কিন্তু মাসাকাদজার সামনে এদিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেননি রশিদ-মুজিব-নবিরা। ত্রয়োদশ ওভারে মাসাকাদজা যখন আউট হন জয়ের জন্য তখন দরকার ৪৩ বলে ৪৬ রান, হাতে ৮ উইকেট। ব্রান্ডন টেইলরকে নিয়ে ৪০ রানের ওপেনিং জুটির পর দ্বিতীয় উইকেটে রেগিস চাকাভাকে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়েন মাসাকাদজা। ক্যারিয়ারের ৬৬তম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১১তম ফিফটি তুলে নিয়ে আউট হন ৪২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ৭১ রান করে। উইলিয়ামসকে নিয়ে বাকি কাজ সারেক ৩২ বলে ৩৯ রান করা চাকাভা। ২৪ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন উইলিয়ামস। ৪ ওভারে ২৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে আফগান দলের সফলতম বোলার মুজিব।

এর আগে রহমতউল্লাহ ও হজরতউল্লাহর ব্যাটে দিনের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল আফগানিস্তানের। জিম্বাবুয়ের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগে ওপেনিং উইকেটে রান আসছিল তরতরিয়ে। শেষ পর্যন্ত জুটি বিচ্ছিন্ন করেন তিনোতেন্ডা মুতোম্বদজি। দশম ওভারে দলীয় ৮৩ রানে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রান করে যান হযরতউল্লাহ। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট পড়ায় রান সেভাবে আসেনি। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দলীয় ১১৬ রানে উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হন রহমতউল্লাহ। এর আগে বাহারী সব শটে চারটি করে ছক্কা ও চারে ৪৭ বলে দলীয় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন চলতি সিরিজ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ১৭ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

মারকুটে নাজিবুল্লাহ জদরানকে দ্রুত ফিরিয়ে আফগানদের রাশ টেনে ধরেন এই লেগ স্পিনার মুতোম্বদজি। বাকি কাজ সারেন ক্রিস এমপোফু। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই তিনে নামা শফিকুল্লাহ ও পাঁচে নামা মোহাম্মাদ নবিকে ফেরান এই মিডিয়াম পেসার। শেষ ওভারে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের সফলতম বোলার তিনিই।

আজ চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। পরশু সোমবার মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন