ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

পীরগাছায় ১০৮ ইউপি সদস্যের গণপদত্যাগের হুমকি

পীরগাছা (রংপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬:৩২ পিএম | আপডেট : ৬:৩৪ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের(ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ১০৮ জন ইউপি সদস্য গণপদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদে এক সমাবেশে  তারা এ ঘোষণা দেন। 

এর আগে পারুল ইউনিয়নের ১২ জন ইউপি সদস্য বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন। ওই অভিযোগের বিষয়ে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদে বিষয়টি তদন্ত করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এদিকে তদন্ত চলাকালীন সময়ে পারুল ইউনিয়নের ১২ ইউপি সদস্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সমাবেশ করেছেন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বাকি ৮ ইউনিয়নের ৯৬ জন ইউপি সদস্য। 

ইউপি সদস্যদের অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ২ নং পারুল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খাঁন নিজ খেয়াল খুশিমত ইউনিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ রয়েছে।  ভিজিএফ-ভিজিডি, এডিবি, বয়স্ক-বিধবা, মাতৃত্ব ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সুবিধাভোগিদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে থাকেন। এদিকে প্রতিবছর এলজিএসপি প্রকল্পের সমুদয় টাকা ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে আতœসাত করেন। এতে ইউনিয়নটিতে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে হতদরিদ্র পরিবারের বসতবাড়ি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি কথিত সুবিধাভোগিদের নিকট অর্থের বিনিময়ে ঘর প্রদান করায় প্রকৃত হতদরিদ্ররা বঞ্চিত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তায় লাগানো গাছ বিক্রির কমিশনের ৮ লাখ টাকা এ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের নামে পকেটস্থ করেছেন। 

ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা (ইউপি অংশ) তিন বছর যাবত প্রদান না করে তালবাহনা করে আসছেন। চেয়ারম্যানের এসকল কাজের প্রতিবাদ করলে ইউপি সদস্যদের লাঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হতে হয়। 

গত ১২ সেপ্টেম্বর পারুল ইউনিয়নের ১২ জন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অনাস্থা প্রস্তাব এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি)  বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। তিনি রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদে অভিযোগকারী ইউপি সদস্যদের ডেকে বিষয়টি তদন্ত করেন। 

এসময় উপজেলার বাকি ৮ ইউনিয়নের ৯৬ জন ইউপি সদস্য পারুল ইউনিয়নের ১২ জন ইউপি সদস্যদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সমাবেশ করেন। সমাবেশে তারা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প একাই বাস্তবায়ন করেন। 

সমাবেশে পারুল ইউনিয়নের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ১০৮ জন ইউপি সদস্য গণ পদত্যাগের হুমকি দেন। 

পারুল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগসহ তার বিরুদ্ধে ইউপির ১২ সদস্যের একটি অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। তদন্তের সময় অনিয়মের সকল প্রমাণপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

পীরগাছা উপজেলা ইউপি সদস্য এসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবীতে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা একাত্মতা ঘোষণা করেছি। দাবী বাস্তবায়ন না হলে সকল ইউপি সদস্য সমাবেশের মধ্য থেকে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে ইউপি সদস্যরা যেন সকল প্রকল্পের সমান বন্ঠন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত ভাতা পাই তা নিশ্চিত করতে হবে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ইউপি সদস্যদের ডেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানকে ডেকে তদন্তের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Md.Rafiqul islam ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:২৩ পিএম says : 0
সঠিক ভাবে তদন্ত করে রিপোর্ট পাওয়া গেলে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । যাহাতে কোন ভাবেই পালাতে না পারে ।।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন