ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

হাইকোর্টের নির্দেশ মানছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ

প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

শেখ জামাল: হাইকোর্টের নির্দেশ মানছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টের আদেশ থাকার পরও প্রস্তাবিত বাজেটে সিলড লেড অ্যাসিড ব্যাটারির শুল্ক ইউনিটের পরিবর্তে কেজিপ্রতি দুই ডলার ট্যারিফ নির্ধারণ করায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অনেকে। এর আগে শ্রেণীভেদে ব্যাটারির শুল্ক ছিল ইউনিটপ্রতি ৪ ডলার, সাড়ে ৬ ডলার ও ৯ ডলার। ব্যাটারিতে শুল্কের হার ৯০.৮৪ শতাংশ। কেজিপ্রতি নির্ধারণ করা হলে প্রতিটি ব্যাটারির শুল্ক দিতে হবে ৪০ থেকে ৮০ ডলার বা তারও বেশি। এতে সোলার সিস্টেম, আইপিএস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ব্যাটারির দাম দিগুণেরও বেশি বেড়ে যাবে, যা সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে ক্রয় করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
জানা গেছে, অটোরিকশা, আইপিএস ও সোলার সিস্টেমে ব্যবহারের জন্য সিলড লেড অ্যাসিড ব্যাটারি আমদানিতে ইউনিটপ্রতি শুল্কায়নের পরিবর্তে কেজি হিসাবে নির্ধারণের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ একটি প্রস্তাব পাঠায়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বশির উল্লাহ সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রুল জারির মাধ্যমে এ আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। সরকার পক্ষ চেম্বার জজের কাছে হাইকোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ চান। চেম্বার জজ কোনো আদেশ না দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত আপিল শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। সে অনুযায়ী কাস্টমস হাউজ পণ্য ছাড়ও করে। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত বাজেটে পুনরায় কেজিপ্রতি দুই ডলার শুল্কের প্রস্তাব করা হয়। আমদানিকারকরা আদালতের আদেশের কপিসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের পরিবর্তে প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি জানিয়ে দেন আমদানিকারকদের। এতে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ থেকে সংশ্লিষ্ট কাস্টম হাউজগুলোয় দেয়া চিঠিতে কোরিয়া ও জাপান ছাড়া এশিয়ার অন্য দেশে তৈরি ব্যাটারি আমদানিতে কেজিপ্রতি ২ ডলার এবং এশিয়ার বাইরে অন্য দেশ থেকে আমদানি করা ব্যাটারির ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ২ ডলার ৫০ সেন্ট হারে ট্যারিফ নির্ধারণের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে গ্রামীণ গ্রুপের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে এক রিট আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পর সিলড লেড অ্যাসিড ব্যাটারি আমদানিতে চট্টগ্রাাম কাস্টম হাউজের কেজি হিসাবে শুল্কায়নের নির্দেশনাটি কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না,  তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিবাদিদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। রিট আবেদনে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, এনবিআর চেয়ারম্যান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে বিবাদি করা হয়। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে লেড ব্যাটারির শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক দিকে ইউনিটপ্রতি আবার অন্য স্থানে কেজিপ্রতি প্রতি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই পণ্যে এভাবে দ্বিমুখী প্রস্তাব করায় নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
আবেদনটিতে বলা হয়, সারাদেশে পণ্যটির বাজারব্যাপ্তি ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার। এ ধরনের ব্যাটারি তিন মাস ব্যবহার করা যায়। দীর্ঘদিন ধরে পণ্যটি বন্দরে আটকে থাকলে সেগুলোর মেয়াদ কমে যায়। সারাদেশে পাঁচ থেকে আট লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা এসব ব্যাটারির ওপর নির্ভর করে নিয়মিত চলাচল করে। বাজারে ব্যাটারি সঙ্কট দেখা দিলে রিকশাচালকরা বেকার হয়ে পড়বেন। পাশাপাশি বাসাবাড়ির সোলার বিদ্যুৎ সিস্টেমও বন্ধ হয়ে যাবে।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগে যায় রাষ্ট্রপক্ষ। তবে এ আবেদনের পর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে গত ১৮ মে বিষয়টি শুনানির জন্য ২১ জুলাই দিন ধার্য করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার।
রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার অরুণীমা দত্ত অরুণী জানান, চেম্বার বিচারপতি স্থগিতাদেশ না দেয়ায় হাইকোর্টের আদেশই বহাল রয়েছে। ফলে এ মুহূর্তে বন্দরে আটকে থাকা ব্যাটারি ইউনিটপ্রতি শুল্ক নির্ধারণ করে ছাড়ার বিষয়ে আইনগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
পুরান ঢাকার সাদিফ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো: নজরুল ইসলাম জানান, দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সিলড লেড অ্যাসিড ব্যাটারির ওপর নির্ভরশীল। অত্যধিক শুল্ক আরোপ করা হলে রিকশাচালক, সোলার বিদ্যুৎ ও আইপিএস ব্যবহারকারী নি¤œ আয়ের মানুষের পক্ষে এসব ব্যাটারি ক্রয় করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ ধরনের ব্যাটারির আমদানি বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। গ্রামে বিদ্যুৎহীন এলাকায় যেখানে সোলার বিদ্যুৎ চলে তাদের ঘরও অন্ধকার হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা আগের মতো ইউনিটপ্রতি শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, বাজেট প্রস্তাব করার আগেই হাইকোর্ট মামলাটির আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি বিচারাধীন থাকার পরও কেজিপ্রতি শুল্ক প্রস্তাব করায় আদালতের আদেশের পরিপন্থী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন