ঢাকা, বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

মশার ওষুধ কেনায় দুর্নীতি

সারা দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু দুই শতাধিক

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

অনিয়ম-দুর্নীতি, লোকদেখানো কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিংয়ের অভাব, প্রশিক্ষিত জনবল ঘাটতি, যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ক্রয় আইন অনুসরণ না করে কীটনাশক ক্রয়-নির্ভর হওয়ায় দুর্নীতির এই ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সময় মতো এডিস মশা নিধন করা যায়নি। এ কারণে সারাদেশে লক্ষাধিক মানুষ এডিস মশার দংশনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তের হারের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্র দিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মাত্রা কম দেখানো হয়। এডিস মশার উৎস গৃহস্থালীতে বেশি উল্লেখ করে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের দায় জনগণের ওপর চাপানো হয়। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে স্থায়ীভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ১৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় টিআইবি’র উপদেষ্টা নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম. আকরাম, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন, মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টারে অবস্থিত টিআইবি’র নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থানা বিষয়ক গবেষণায় দেখা যায়, প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি রয়েছে। অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। মশার কীটনাশক দেয়া এবং উৎস নির্মূলের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা সেটি মনিটরিং কার্যক্রম ছিলো খুবই দুর্বল। দুই সিটিতে গড়ে ওয়ার্ড প্রতি ৫ জন মশক নিধন কর্মী যা মশক নিধন বিশেষত এডিস মশার উৎস নির্মূলের জন্য অপ্রতুল। পক্ষান্তরে কলকাতা পৌরসংস্থায় প্রতি ওয়ার্ডের জন্য গড়ে ১৫ জন কর্মী রয়েছে। ২০১৮ সালে উত্তর সিটির ৬৫২টি মেশিনের মধ্যে অর্ধেক মেশিন ছিলো নষ্ট। বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে নতুন কিছু মেশিন কেনা হয়েছে। কিছু মেশিন মেরামত করা হয়েছে। তবে এখনো ৪০-৪৫টি মেশিন নষ্ট। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯৪০টি মেশিনের মধ্যে ৪২৮টি মেশিন নষ্ট। ৪৪২টি হস্তচালিত মেশিনের মধ্যে ২০৮টি, ফগার মেশিন ৪৪৭টির মধ্যে ২০২টি নষ্ট। হুইলব্যারো ৫১টির মধ্যে ১৮টি নষ্ট। অধিকাংশ নষ্ট মেশিনের যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। যন্ত্রপাতির অভাবে দক্ষিণ সিটির নতুন ওয়ার্ডে এখনো মশক নিধন কাজই শুরু হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকলেও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকে গুরুত্ব না দেয়া, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা না রেখে দুই সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম শুধু রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা-কেন্দ্রিক ও যথাযথভাবে সরকারি ক্রয় আইন অনুসরণ না করে কীটনাশক ক্রয়-নির্ভর হওয়ায় দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে লোক দেখানো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য অংশীজনের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় লক্ষাধিক মানুষের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এবং দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর কারণ।

‘ঢাকা শহরে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আজ টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই (ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ) সিটি কর্পোরেশনের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এই সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করে টিআইবি। বিশেষত ঢাকায় ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হওয়া সত্তে¡ও তা প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কতটুকু কার্যকর হচ্ছে এবং কার্যকর না হলে কেন হচ্ছে না সেটি উদঘাটন করাই ছিলো এ গবেষণার উদ্দেশ্য। গবেষণায় ডেঙ্গুর আগাম পূর্বাভাসকে গুরুত্ব না দেয়া, ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র চিহ্নিতকরণের ঘাটতি, এলাকাভিত্তিক বা আঞ্চলিক পরিকল্পনা না থাকা, মশা নিয়ন্ত্রণে সকল পদ্ধতির সমন্বয় না করা, উপযুক্ত কীটনাশক নির্ধারণ না করা, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় অনিয়ম, দরপত্রের নথি/দলিল প্রস্তুতিতে অনিয়ম, দরপত্র পদ্ধতিতে অনিয়ম, দরপত্র পদ্ধতির ফলে আর্থিক ক্ষতি, দরপত্রের দলিল প্রক্রিয়াকরণ ও কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়ম, কীটনাশকের মাঠ পর্যায়ের কার্যকরতা পরীক্ষায় অনিয়ম, কীটনাশকের কার্যকরতা পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা, কীটনাশকের নিবন্ধনে অনিয়ম ও দুর্নীতি, মশক নিধন কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অপ্রয়োজনীয় ও লোক দেখানো ব্যবস্থা গ্রহণ, অবকাঠামো, যন্ত্রপাতির এবং প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি, বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বয়, পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের সুযোগের ঘাটতির মতো বিষয়গুলো উঠে আসে গবেষণায়।

গবেষণালব্ধ তথ্যমতে, ডেঙ্গুর ব্যাপকতাকে স্বীকার করে দুই সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন কর্তৃক বিলম্বে হলেও কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কীটনাশক সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ মাসের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। বিতর্কিতভাবে বন্ধ রাখা কিছু জনস্বাস্থ্য কীটনাশকের আমদানি প্রক্রিয়া পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়। নতুন কীটনাশক কেনার লক্ষ্যে উভয় সিটি কর্পোরেশন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কারিগরী উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ‘ওয়ার্ড ডেঙ্গু প্রতিরোধ সেল’ গঠন করে। নতুন কীটনাশক আমদানি ও প্রয়োগ করে। ডেঙ্গু মশার উৎস ধ্বংসে ‘চিরুনি অভিযান’ চালায়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও জরিমানা আরোপ করে। বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী এডিস মশার জরিপ শুধুমাত্র ঢাকা-কেন্দ্রিক হওয়ায় ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলায় আগাম সতর্কবার্তা দেয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি,ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র চিহ্নিত করায় ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সংখ্যা বিবেচনা করে- সক্ষমতার ঘাটতির কারণে ঢাকায় সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৪১টির তথ্য সংকলন করা হয়। রোগ-নির্ণয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া ডেঙ্গু রোগী- যারা আক্রান্ত হয়েছে কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হয়নি, তাদের তথ্য সংকলন করা হয়নি। ঢাকায় শুধু বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যাই প্রায় ৬ শতাধিক। রোগ-নির্ণয় কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। খন্ডিত পরিসংখ্যান দিয়ে অন্যান্য দেশের ডেঙ্গু আক্রান্তের হারের সাথে তুলনামূলক চিত্র দিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মাত্রা কম দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাভিত্তিক বা আঞ্চলিক পরিকল্পনা না থাকা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে সকল পদ্ধতির সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ ও ক্রয়ের সুযোগ বেশি থাকায় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয় বিধায় দুই সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সব সময় ‘অ্যাডাল্টিসাইড’ কেন্দ্রিক বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। অ্যাডাল্টিসাইডের চেয়ে লার্ভিসাইড এবং উৎস নির্মূল অনেক বেশি কার্যকর ও স্বল্প খরচের।
গবেষণা থেকে জানা যায় যে, কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে আগাম পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেয়নি। কীটনাশকের কার্যকরতা নিয়ে আইসিডিডিআর,বি-একটি গবেষণায় ( মে-২০১৮) কয়েকটি কীটনাশকের সহনশীলতা পরীক্ষায় পারমিথ্রিনে এডিস ও কিউলেক্স মশার মধ্যে অতি উচ্চ মাত্রায় কীটনাশক সহনশীলতা দেখা যায়। এক্ষেত্রে কার্যকর ওষুধ হিসেবে ‘ বেন্ডিওকার্ব’ নিবন্ধন না হওয়া পর্যন্ত ম্যালাথিউন বা ডেল্টামেথ্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের বছর হওয়ার কারণে একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা আইসিডিডিআর,বি’র এই গবেষণার তথ্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার জন্য নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আইসিডিডিআর,বির গবেষণা পদ্ধতি ও গবেষণা করার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন এবং প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কীটনাশক সহনশীলতা পরীক্ষা না করেই ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যথাক্রমে ১৪ কোটি এবং ১৭.৩৯ কোটি টাকার একই কীটনাশক (পারমিথ্রিন) (জ্বালানিসহ) পুনরায় ক্রয় করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডেঙ্গুর ভয়াবহতাকে গুরুত্ব না দিয়ে সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি একে ‘গুজব’ বলে অভিহিত করেন। এডিস মশার উৎস গৃহস্থালীতে বেশি উল্লেখ করে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের দায় জনগণের ওপর চাপানো হয়। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ মশা জরিপে সবচেয়ে বেশি এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় বাস টার্মিনাল, বাস ডিপোর পরিত্যক্ত টায়ারে ও রেলস্টেশনে।

উভয় সিটি কর্পোরেশনেই উপযুক্ত কীটনাশক নির্ধারণ না করার অভিযোগ উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। বিশেষজ্ঞ ছাড়াই কীটনাশক নির্ধারণ, উপযুক্ত কীটনাশক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গবেষণাকে আমলে না নিয়ে একই কীটনাশক বারবার ক্রয়, এক সিটি কর্পোরেশনের কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য সিটি কর্পোরেশনের বাতিল করা কীটনাশক ক্রয় এবং পরিকল্পনা ছাড়াই কীটনাশকের মেশিন ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে। ‘কীটনাশক আইন ২০১৮ (ধারা ৪)’ অনুযায়ী উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং-এর অধীনে নিবন্ধিত নয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে (ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জকে) সরাসরি কার্যাদেশ প্রদান করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রতি লিটার কীটনাশক ৩৭৮ টাকায় সরাসরি ক্রয়ের কার্যাদেশ দেয়ায় প্রতি লিটার কীটনাশক ক্রয়ে ১৬১ টাকা ক্ষতি হয়েছে (কারণ তারা লিমিট এগ্রোপ্রোডাক্ট নামে যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই কীটনাশক কেনে সেই একই প্রতিষ্ঠান উত্তর সিটির উন্মুক্ত দরপত্রে একই কীটনাশকের জন্য প্রতি লিটারের দর ২১৭ টাকা প্রস্তাব করে) এই হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ক্রয়মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায় যে, কীটনাশক ক্রয়ের বিল উত্তোলন থেকে শুরু করে গুদামে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত ধাপে ধাপে কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দুই সিটি কর্পোরেশনেরই কীটনাশক প্রতিরোধী ক্ষমতা পরীক্ষা করানো বা কীটনাশক পরিবর্তন করার কোনো উদ্যোগ ছিল না। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব কোনো ল্যাবরেটরি ও কীটতত্ত্ববিদ নেই। কোনো কীটতত্ত্ববিদ ছাড়াই আইইডিসিআর এর কীটতত্ত্ব বিভাগ চলছে। চিকিৎসক দিয়ে কীটনাশকের কার্যকারতা পরীক্ষা করানো হতো; তবে বর্তমানে এই জরুরি পরিস্থিতিতে একজন কীটতত্ত্ববিদ সাময়িকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, কীটনাশকের কার্যকরতা পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হয়ে থাকে, েেযমন নিয়ম-বহির্ভূত অর্থের মাধ্যমে কার্যকরতার সনদ প্রদান, ঢাকার বাইরে থেকে কীটনাশক প্রতিরোধী নয় এমন মশা নিয়ে এসে পরীক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে পরীক্ষা না করেই প্রতিবেদন দেয়া ইত্যাদি।

ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা মহানগর প্রতিষ্ঠায় টিআইবি ১৫ দফা সুপারিশ করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রচলিত সিটি করপোরেশন আইনের সংস্কার, এডিস মশা জরিপ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, ডেঙ্গুর আগাম সতর্ক বার্তা প্রদান, নগরীর জনসংখ্যা ও আয়তন অনুসারে জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, কীটনাশক ও উপকরণ ক্রয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন