ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

‘একটি সেতুর অভাব’ শ্রীপুরে সাঁকোই তিন গ্রামের ভরসা

শ্রীপুর (গাজীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৪ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুর শালগাছের সাঁকো তিন গ্রামের হাজার হাজার লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। গত কয়েকবছর ধরে নিজেদের প্রয়োজনে দু’টি শাল গাছ দিয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই স্থানীয় সেরার খালের উপর এই সেতুটি নির্মাণ করে পারাপার হচ্ছেন। সেতুর অভাবে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে গ্রামবাসীর।

শ্রীপুর সদরের দুই কিলোমিটার দুরেই গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রাম। ওই গ্রামের সবুজ অরণ্যের পাশেই সেরার খালটি অবস্থিত। খালটির দুই পাশে রয়েছে বাউনী ও সিটপাড়া গ্রাম। তিনটি গ্রাম দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে খালটি। এই খালের দুই পাশে দুটি পিচ ঢালা পাকা সড়ক থাকলেও হেরা পটকা এলাকায় একটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে পাকা সড়কগুলো। বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে এই খালে পানির প্রবাহ থাকায়, খালের ওপর দুটি গজারি গাছ দিয়ে তৈরি সাঁকোই গ্রামবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। তবে সাঁকো পারাপারে বয়স্ক, স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিশু-কিশোর ও নারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এর ফলে তিনগ্রামের লোকজনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখন সেতুকে ঘিরেই। সেতুর অভাবে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে স্থানীয়দের যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়।

পটকা গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ জানান, আমাদের মত বৃদ্ধ ও শিশুদের তিন চার কিলোমিটার রাস্তাঘুরে শ্রীপুর সদরে যেতে হয়। সেতুটি নির্মাণ করলে আমাদের কষ্ট লাঘব হতো। ভয়ের কারণে অনেক বৃদ্ধ ও শিশুরা খোলা সাঁকোতে উঠে না।
হতাশা নিয়ে স্থানীয় ফজলুল হক জানান, যুগ ধরেই এখানে একটি সিতু নির্মাণ হবে বলে শুনে আসছেন। তবে কবে যে হবে, সে কথা কেউ বলে না। দুটি গাছ দিয়ে কোনমতে একটি সাঁকো তৈরি করায় তা ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে ওঠলেই পা কাঁপা শুরু করে।

হেরাপটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তার জানান, এই বিদ্যালয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা পাঠদানে অংশ নেয়। তবে বিদ্যালয়টির অবস্থান হচ্ছে হেরাপটকা এলাকায়। পাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে অনেক শিশু শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে পাঠদানে অংশ নিতে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করেন।

গোসিঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ফারুক আহমেদ জানান, উপজেলা সদরের খুব কাছের এই জনপদ সবচেয়ে অবহেলিত। সারাবছর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাবিখা, টিআর, কাবিটা ও অতি দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে সরকারের এসব প্রকল্পে সেতু নির্মানের কোন বরাদ্ধ রাখা হয় না। এরপরও তিনি যখন ইউপি সদস্য ছিলেন দায়িত্ব নিয়েই গ্রামবাসীদের সহায়তায় গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে আপদকালীন ব্যবস্থা করেছিলেন।

গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাগবে খালের ওপর এখানে শীগ্রই একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শামসুল আলম প্রধান। তার মতে, তিনি উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব নিয়েছেন ৬ মাস হলো, এরই মধ্যে স্থানীয়রা দুর্ভোগের বিষয়টি তাকে অবহিত করায় অগ্রাধিকার ভিক্তিতে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন