ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আবিষ্কারের ৬শ’ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলমানদের আগমন ঘটে

মুনশী আবদুল মাননান | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাপ্টেন কুকের অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের অন্তত ৬শ’ বছর আগে এই দেশটির সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। সেখানকার অধিবাসীদের মুসলিম সভ্যতার সঙ্গে সরাসরি পরিচয় ঘটেছিল। আফ্রিকার মুসলিম সালতানাতের সময়কার পাঁচটি তাম্র মুদ্রা আবিষ্কারের পর এ ধারণার জন্ম হয়েছে। তাম্র মুদ্রা পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপক‚লে বালুর ভেতর পাওয়া গেছে ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে। ম্যরে আইজেনবার্গ নামের একজন সৈনিক সেগুলো খুঁজে পান। ১৯৭৯ সালে ম্যরে আইজেনবার্গ মুদ্রা পাঁচটি একটি জাদুঘরে জমা দেন।


দুর্লভ ওই মুদ্রাগুলো অস্ট্রেলিয়ায় গেল কিভাবে, গবেষকরা সেটা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। প্রচলিত মত এই যে, অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেন ক্যাপ্টেন কুক নামের একজন নাবিক। কিন্তু আবিষ্কৃত মুদ্রাগুলো বিবেচনায় নিলে বলতে হবে, তারও বহু আগে মুসলমানরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ গড়ে তুলেছিল। তারাই হয়তো মুদ্রাগুলো সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।


যতদ‚র জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় ডাচদের আগমন ঘটে ১৬৯০ সালে। এ থেকে এটা স্পষ্ট হয় ক্যাপ্টেন কুকেরও বেশ আগে ডাচরা সেখানে যায়। এই হিসাবে ক্যাপ্টেন কুককে অস্ট্রেলিয়ার আবিষ্কর্তা বলা যায় কি না সেটা ভেবে দেখার বিষয়। আফ্রিকার মুসলিম শাসকদের আমলে প্রচলিত মুদ্রা আবিষ্কারের পর ক্যাপ্টেন কুক কেন, ডাচদের দাবিও আর টেকে না। জানা যায়, আফ্রিকার মুসলিম সা

লতানাতের সঙ্গে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ও জাতির নৌ-বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াও তার বাইরে ছিল না, তাম্র মুদ্রা আবিষ্কার তারই প্রমাণ বহন করে।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ও বিজ্ঞানী ম্যাকনটোসের মতে, আফ্রিকার মুসলিম শাসনামলেই মুদ্রাগুলো অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল। এটা এও প্রমাণ করে, পূর্ব আফ্রিকা, ভারত, আরব প্রভৃতি দেশের মধ্যে পারস্পরিক নৌ-বাণিজ্য চালু ছিল। বলাবাহুল্য, ম্যাকনটোসের এই অভিমত যদি সত্য হয়, তাহলে ইতিহাসের প্রচলিত ধারা ও ধারণা পাল্টে যেতে পারে।
এখন গবেষক বিজ্ঞানীদের কাজ হল, মুদ্রা পাঁচটির আগমনের বিষয়ে আরো তথ্য খুঁজে বের করা। যে এলাকায় সেগুলো পাওয়া গেছে সেখানে বা তার আশপাশের এলাকায় আরও মুদ্রা অথবা অন্য কোনো প্রত্মনিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায় কি না যাতে এটা আরো স্পষ্ট হয় যে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দূর অতীতে মুসলিম দেশ ও সভ্যতার সম্পর্ক নির্মিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যও গড়ে উঠেছিল।


স্মরণ করা যেতে পারে, ইসলামের আবির্ভাবের পর আরব বিশ্বের সঙ্গে এবং পরবর্তীকালে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিস্তার লাভ করে। এই মুসলিম বণিকদের সঙ্গে ইসলাম প্রচারকরা বিশ্বের দেশে দেশে গমন করে। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমরা জানি না, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আফ্রিকার মুসলিম সালতানাতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, লেনদেন ও যাতায়াত কতটা গড়ে উঠেছিল এবং পরে কিভাবে তাতে ছেদ পড়ল, এটা গবেষণা ও বিবেচনার বিষয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
মহীয়সী বিন্তুন ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০৯ এএম says : 0
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম যে মুসলমানরা পদার্পন করে তারা ছিল ব্যবসায়ী। ইন্দোনেশীয়ার ম্যাকাছান(Macassan) এবং বুগিস(Bugis) ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের স্বজাতীয় লোকদের সম্পর্ক ছিল যারা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় বাস করত।
Total Reply(0)
তানিম আশরাফ ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১০ এএম says : 0
যখন বৃটিশ বণিকরা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করে, তখন প্রথম দিকে তারা এই দ্বীপকে সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত, যে উদ্দেশ্যে তারা কালাপানিকে ব্যবহার করত। অর্থাৎ, যারা ব্রিটিশ আইনে দেশান্তরের সাজা পেত, তাদেরকে এখানে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। ক্রমে ক্রমে দেশান্তরিত সেই লোকদের বংশধর এখানে বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে বহু ব্রিটিশ অধিবাসী এ মহাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ দ্বারা উপকৃত হওয়ার জন্যও এখানে এসে বসবাস শুরু করতে থাকে।
Total Reply(0)
মোঃ নাজমুল ইসলাম ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১১ এএম says : 0
একসময় অস্ট্রেলিয়া বিনির্মানে মুসলমানদের ইতিহাস ও অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও এখ্ন বেশীরভাগ অস্ট্রেলিয়ান ঐতিহাসিকরা তা স্বীকার করে।
Total Reply(0)
মুক্তিকামী জনতা ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১১ এএম says : 0
যেসব মুসলমানরা এ মহাদেশ গড়ার পেছনে অবদান রেখেছিলেন তাদের বের করে দেওয়া হলেও আল্লাহর রহমতে আন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত মুসলমান এবং সেখানে জন্মগ্রহণকারী মুসলমানদের মাধ্যমে আশাব্যঞ্জক ভাবেই মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে। তবে শুধু মুসলমানদের সংখ্যা বাড়লেই চলবে না, সেখানকার মুসলমানদের উচিৎ তাদেরকে ঈমান আমলচরিত্রকে ঠিক রাখতে যাতে তারা সেখানে নিজেদেরকে একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
Total Reply(0)
কাজল খান ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১২ এএম says : 0
পাদ্রি প্রফেসর গেরি ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে মন্তব্য করেন : ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তিতে বহু সাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, আর এতে অস্ট্রেলিয়া হবে শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে হয়েছে; আরো সমৃদ্ধ হবে মুসলমানদের কর্মপ্রচেষ্টা, জ্ঞান ও কলাকৌশল দিয়ে।
Total Reply(0)
Firoz Khan ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:৩৭ এএম says : 0
ইতিহাসভিত্তিক এই লেখাটির জন্য লৈকককে অসংখ্য ধন্যবাদ
Total Reply(0)
সফিক আহমেদ ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:৩৮ এএম says : 0
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক ইতিহাস জানার তৌফিক দান করুক
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন