ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি দেশবাসী মেনে নেবে না

বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৪২ এএম

দেশের সমুদ্র বন্দর, ফেনী নদীর পানি এবং জ্বালানি সঙ্কটময় বাংলাদেশের গ্যাস ভারতের হাতে তুলে দেয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি দেশবাসী মেনে নেবে না। ভারত থেকে বাংলাদেশ কী পেল দেশবাসি তা’ জানতে চায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান একযুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ভারতের সাথে সম্পাদিত দেশবিরোধী চুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা’ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি দেশবাসী কোনভাবেই মেনে নেবে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের নিরাপত্তার কথা না ভেবে উপকূলীয় নজরদারির জন্য ভারতকে বাংলাদেশে রাডার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে সংসদে পেশ করার কথা রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের সীমান্তে হত্যার সমস্যার সমাধান হয় না, তিস্তার পানির সমস্যার সমাধান হয় না, বর্ষায় ফারাক্কার বাঁধ খুলে দিয়ে প্রবল বন্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভারত তার স্বার্থ বুঝে নিচ্ছে আর ক্ষমতালোভী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ সরকার বারবার নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল নুরপুরী ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এক বিবৃতিতে বলেছেন, সম্পাদিত সাতটি চুক্তির সব কটিতেই ভারতের স্বার্থ হাসিল ও বাংলাদেশের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। এদেশের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে বরং ফেনী নদীর পানি নিয়ে যাওয়ার চুক্তি করে। বাংলাদেশে গ্যাস সঙ্কটের কারণে বার বার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ ভারত তাদের সুবিধার্থে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে এলপিজি গ্যাস সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করার চুক্তি করে। এছাড়াও চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয় যা বাংলাদেশের জন্য চরম হুমকিরও বটে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারত কী পেল তা সবার কাছেই স্পষ্ট হলেও ভারত থেকে বাংলাদেশ কী পেল তা দেশবাসি জানতে চায়। জনগণকে ধোকা দিয়ে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।
মুসলিম লীগ
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নিজে জ্বালানি ও পানি সঙ্কটে থেকেও ভারতের সাথে কোনো বিনিময় ছাড়াই গ্যাস রফতানির চুক্তি, মানবিক কারণের কথা বলে ভারতকে ফেনী নদীর পানি তোলার অনুমতি দিয়ে দেয়া, সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সমঝোতা ইত্যাদি দেখে মনে হচ্ছে এ কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয় বরং স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতীয় সমর্থনের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে দলের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্প্রতি ভারতের সাথে সম্পাদিত অসম সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির প্রতিবাদে আয়োজিত এক সভায় দলীয় নেতৃবৃন্দ এসব কথা করেন।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন, দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, খোন্দকার জিল্লুর রহমান, আকবর হোসেন পাঠান, কাজী এ.এ কাফী, খান আসাদ, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গণি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে ভারতের সাথে চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়বস্তু জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। জনগণ এখন আর কি পেলাম তা খুঁজে না, বরং দেখতে চায় নতুন করে আর কি কি হারিয়েছি!

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন