ঢাকা, শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গীকার শুধু কাগজে

ক্যাম্পাসে সরব শিক্ষক রাজনীতি

কুবি থেকে মেহেদী হাসান মুরাদ : | প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:২০ এএম

ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায়ই নিয়ন্ত্রিত আবাসিক হল
প্রকাশ্যেই ধূমপান করে ছাত্র-শিক্ষক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভর্তির অঙ্গীকারনামায় রাজনীতি ও ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার প্রতিশ্রুতি নিলেও ক্যাম্পাসটিতে রাজনীতি ও ধূমপান চলছে লাগামহীন।
ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি যেমন সরব তেমন শিক্ষক রাজনীতিও। অঙ্গীকারনামায় এসব নিষিদ্ধ থাকলেও ক্যাম্পাসে এর প্রভাব দেখে নিতান্তই বিস্মিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। যে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি সরব এবং প্রকাশ্যেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা করে ধূমপান সেখানে ভর্তির সময় এমন অঙ্গীকার করা নিতান্তই হাস্যকর বলে মনে করেন বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।

জানা যায়, শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীসহ শিক্ষার্থীরা জড়িত রাজনীতিতে। দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যতীত হয়না নিয়োগ, মেলে না পোস্ট পদবী। এখানে সাধারণ শিক্ষক বা শিক্ষার্থী বলতে শুধুই মরিচীকা। যেখানে রাজত্ব সব ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
এ ক্যাম্পাসটিতে ছাত্র রাজনীতির প্রভাব বিস্তার করছে সর্বত্র। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দই নিয়ন্ত্রণ করে আবাসিক হলগুলো। এমনকি ছাত্র রাজনীতির নিয়মিত কর্মকা-ে যোগদান না করলে মিলে না হলগুলোতে সিট। বাধ্যও করা হয় হল ছাড়তে।

বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষক লাঞ্ছনা, সাংবাদিকদের মারধর ও লাঞ্ছনা, দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ থাকলেও বিষয়গুলো বারবারই এড়িয়ে গেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে আজীবন, সাময়িকসহ বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার করলেও বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ছিল নিরব।

অপরদিকে শাখা ছাত্রদলের কমিটি থাকলেও তাদের নেই কোন কার্যক্রম। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসের দিকে তাদের অবস্থান করার চেষ্টা করলেও ছাত্রলীগের কারণে তা ব্যর্থ হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে ভর্তি হই একটি রাজনীতি ও ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে। কিন্তু ভর্তির পরেই তা ভঙ্গ করতে হয় আমাদের। আবাসিক হলগুলোতে যেখানে থাকবে পরাশুনা করার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ সেখানে হল ছাড়তে বাধ্য হয় পরাশুনা করার জন্য। হলে সিনিয়র হয়েও যেখানে সিট পাওয়া যায় না সেখানে রাজনীতির আধিপত্যে প্রথম দিন উঠেই পেয়ে যায় সিট।

এদিকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ধূমপান না করার অঙ্গীকার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীরা হর হামেশাই করছে ধূমপান। শুধু ধূমপানই নয় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে ও আবাসিক হলগুলোতে বসে মাদকের আসর।
শিক্ষার্থীরা জানান, হলগুলোতে মাদকের আগ্রাসন এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে এখান থেকে অনেকেই বেরিয়ে আসতে পারছে না। এ বিষয়ে হল প্রশাসন একেবারেই উদাসীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশের কোথাও রাজনীতির প্রভাব ব্যাতীত নেই। কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয় তো আর তার বাহিরে নয়। তারপরেও এখানে শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি যে প্রকট আকার ধারণ করেছে সেটা ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরুপ। বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, প্রভোস্টবৃন্দও যেখানে ছাত্রলীগে নেতাদের কথার বাহিরে যেতে পারে না সেখানে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী তো কিছুই না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন,এ বিশ^বিদ্যালয়ের পূর্বের অবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইলেই একবারে সম্ভব না। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা শিক্ষক, ছাত্রনেতা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে বসে একটা সমাধানে আসবো। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের আধিপত্যই ক্যাম্পাসে দেখা যায়। এটা একটা রীতি হয়ে গেছে ক্যাম্পাসগুলোতে। যদি ছাত্রনেতারা একসাথে ২০-২৫ জন এসে কোন বিষয়ে চাপ দেয় সেখানে আমারও তো তেমন কিছু করার থাকে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন