ঢাকা, বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রশাসনের দুর্নীতিবাজরা নজরদারিতে

শুদ্ধি অভিযানে বিশেষ সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

শুদ্ধি অভিযান শুরু এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পর আতিঙ্কত হয়ে পড়েছেন প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করছে গোয়েন্দা সংস্থা, এমন খবর রটে গেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানে যারা টার্গেটে রয়েছেন, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান হচ্ছে একটি প্রশাসনিক অভিযান। প্রশাসনের কর্মকর্তারা সর সময় দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে সব সময় দায়িত্ব পালন করে।

বালিশ কান্ড, পর্দা কান্ড, বালিশের কভার কান্ড, মেডিক্যালের সরঞ্জাম ক্রয় কান্ড ও কর্মকর্তাদের কারণে-অকারণে বিদেশ সফর কান্ডের মতো নিজেদের অপকান্ডের কারণেই কর্মকর্তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বড় বড় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সবিচালয়ে জনপ্রশাসনসহ সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নিজেদের গুটিয়ে রাখছেন বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনে কর্মরর্তা জেলা প্রশাসক (ডিসি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সহকারী কমিশনার ভূমি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু যেখানে শেষ করেছিলেন, এবার সেখান থেকেই তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু করেছেন। তবে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে। এর আরো বিস্তৃতি ঘটবে। ক্যাসিনোয় জুয়া-মদের আড্ডায় শুরু হওয়া অভিযান ইতোমধ্যে কার্যত দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে রূপ নিয়েছে। প্রশাসনে তেমন শুদ্ধি অভিযান চলবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
সরকারি দল থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নের যে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে, প্রশাসনে তেমন কিছু ঘটে গেলে তার দায়িত্ব কে নেবে তা নিয়েই দুশ্চিন্তা। আদর্শিক চিন্তাভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মকর্তার তালিকা যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় যাচ্ছে। কিন্তু জানা যায়, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা কিছু কর্মকর্তার পছন্দের ব্যক্তিকে পদোন্নতির তালিকায় ঢুকাতেই যাচাই-বাছাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণ চলছে।

জানা গেছে, বর্তমান সরকার টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর বালিশ ক্রয় কান্ড, পর্দা ক্রয় কেলেঙ্কারি এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজউক, ওয়াসাসহ বিভিন্ন অধিদপ্তর ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে এখন এক ধরনের থমথমে ভাব বিরাজ করছে। নানা প্রশ্নে আলোচনা-সমালোচনাও হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন বেশ তৎপর। পাশাপাশি এই সংস্থার স্বাভাবিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও চলছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই সংস্থা গ্রেফতারও করেছে। মূলত সরকারি দল আওয়ামী লীগের ঘর থেকে শুরু হওয়া দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযানের পর থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সারাদেশেই বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এবং ভারত সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন রুখতেই এই অভিযান। এই অভিযান চলবে। দুর্নীতিবাজ যেই দলের হোক কাউকে ছাড়া দেয়া হবে না। আত্মীয়স্বজনকেও ছাড় দেয়া হবে না।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও থানা পর্যায় পর্যন্ত এক ধরনের ইতিবাচক নেতিবাচক আলোচনা চলছে। তবে বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ এই অভিযান পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ওপর খুশিই হয়েছেন এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে দলের অভ্যন্তরে বিশেষ কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপি এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগে এ নিয়ে বেশ অস্বস্তি থেকে অসন্তোষই প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিব পদের পদোন্নতির সভা মাসখানেক আগে শেষ হলেও এ পর্যন্ত পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। বলা হচ্ছে আদর্শিক চিন্তাভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মকর্তার তালিকা যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় যাচ্ছে।

উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে চাহিদা না থাকলেও পদোন্নতির ধারা থামছেই না। প্রশাসনে এই তিনটি পদের বিপরীতে এখনই কয়েক গুণ বেশি কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ অতিরিক্ত সচিব পদে আছেন চার গুণ। তার পরও এই পদে নতুন পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে। নতুন পদোন্নতি প্রক্রিয়া শেষ হলে এই পদে কর্মকর্তার সংখ্যা বেড়ে হবে ছয় থেকে সাত গুণ। এতে করে প্রশাসন আরো ভারসাম্যহীনতার দিকে যাচ্ছে।

বাস্তবে সচিব পদ ছাড়া প্রশাসনের সব পদেই উল্টো অবস্থা বিরাজ করছে। অর্থাৎ যেখানে কর্মচারীর সংখ্যা বেশি থাকার কথা সেখানে কম আছে। যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানেই আছে বেশি। প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত পদ ১২২টি। বর্তমানে এই পদে আছেন ৪৫৮ জন। যুগ্মসচিবের পদ ৩৮৮টি, বর্তমানে আছেন ৮৪১ জন। উপসচিবের পদসংখ্যা এক হাজার ৩৩০টি, কর্মরত এক হাজার ৭০০ জন। কিন্তু এর উল্টো চিত্র নিচের দু’টি পদের ক্ষেত্রে। সিনিয়র সহকারী সচিবের অনুমোদিত পদসংখ্যা দুই হাজার ১৩১টি, এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত এক হাজার ৫২৭ জন। সহকারী সচিবের প্রায় দুই হাজার পদের চাহিদার বিপরীতে কর্মরত এক হাজার ৫৫৯ জন। তবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সচিব পদে ভারসাম্য বরাবরই বজায় রাখা হয়। বর্তমানে সচিব ও সচিব মর্যাদায় কর্মরত ৮২ জন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
দীনমজুর কহে ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৩১ এএম says : 0
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশে দুর্নিতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে।ইহাতে কোন ছাড় নাই। স্বাধিনতা পরবর্তি এ সময়কাল ছিল ঐসব দুর্নিতি পরায়ন ব্যাক্তিদের ।সামনের দিনগুলি হউক জনগনের।
Total Reply(0)
Ashraful Islam ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
ক্যাসিনো কান্ডে জিরো টলারেন্স কি শেষ
Total Reply(0)
Calvin Klein ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
এরকম একটা অসম্ভব কাজে সফল হতে পারলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-আপনার ভোট ব্যাংক সবসময় পূর্ণই থাকবে আর রাজপথেও আপনার জনগনের অভাব হবেনা।শুভকামনা রইল।
Total Reply(0)
Atm Abdur Rahim ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
দূর্নীতি চলে আসছে এটাই মানুষের সবসময়ের ধারণা! কিন্তু সেটা দৃঢ়তার সাথে দমন করার দুঃসাহস দেখাতে পেরে শেখ হাসিনা জনগণের মনে নিজেকে অনেক উচ্চ স্তরে প্রতিষ্ঠিত করে নিলেন! সাফল্য কামনার সাথে ধারাবাহিকতা আশা করছি।
Total Reply(0)
Tawhidur Chowdhury ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৯ এএম says : 0
হতেপারে আই ওয়াশ!! কিন্তু আমরা আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে বাংলাদেশ।
Total Reply(0)
Aminur Rahman ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৯ এএম says : 0
সহজ সমীকরন এতো দিন উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবারে শুদ্ধি অভিযান। এরপর কাউন্সিলারদের সম্পত্তির একটা হিসাবও নেওয়া প্রয়োজন।
Total Reply(0)
Rezaul Karim ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:৩০ এএম says : 0
আমি মনে করি এই অভিযান আগে পুলিশের উপর তার পর সরকারি বড় বড় কর্মচারি কর্মকর্তাদের উপর প্রয়োগ করলে ভালো হতো
Total Reply(0)
Md Hãsäñ Måhmūd ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:৩০ এএম says : 0
এই দুর্নীতি বাজদের সমস্ত টাকা পয়সা উদ্ধার করে এই টাকা ও সম্পদ দিয়ে দেশের সমস্ত বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান করা উচিত
Total Reply(0)
নজির আহমেদ ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ৬:৩৬ এএম says : 0
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সেখ হাছিনা আপনাকে ধন্যবাদ এতদিন পরে আপনার ...সমস্যাটা দুর হয়েছে এখন আপনি সবকিছুই দেখতে পাচ্ছেন। এই দুর্নীতি বাজরা হচ্ছেন 1971এর রাজাকারদের সমতুল্য ওদের বিচার দেশের রাজাকারদের মত হওয়া উচিত।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন