ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

অসহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দোকান ও স্কুল বন্ধ রেখেছে কাশ্মীরীরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

শাবির আহমেদ প্রতিদিন তার দোকান মাত্র দুই ঘণ্টা খোলা রাখার পর সকাল সাড়ে নয়টায় বন্ধ করে দেন। ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন বাতিলের পর এর প্রতিবাদে ‘নাগরিক অসহযোগিতা আন্দোলনের’ অংশ হিসেবে এই কাজ করছেন তিনি।
শাবির তার দোকানে পর্দা ও বিছানার চাদর বিক্রি করেন। বিগত চার দিনে তার একটি পয়সারও পণ্য বিক্রি হয়নি। কিন্তু ৬০ বছর বয়সী এই দোকানদার তার ‘নিরব প্রতিবাদের’ ওপরও জোর দিচ্ছেন বেশি। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যবসায়ীদের এই প্রতিবাদ তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বেশি গুরুত্বপ‚র্ণ।
তিনি বলেন, “আমাদের জীবন এখন শেষ হয়ে গেছে। আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভয় পাই”। তার দোকানটি পুরনো শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থল নওহাট্টাতে অবস্থিত, যেটা তরুণ কাশ্মীরী আর ভারতের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সঙ্ঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
“আমাদের প্রতিবাদের সকল উপায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এই একটা উপায়ই শুধু অবশিষ্ট আছে”।
ভারত সরকার ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের মানুষের বিশেষ মর্যাদা বিলুপ্ত করেছে। এর প্রতিবাদে কাশ্মীরের ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘন্টার জন্য তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখে।
ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও নাগরিক কর্মকান্ড প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে থাকায় সরকার বাধ্য হয়েই স্থানীয় পত্রিয়ায় পূর্ণ পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যেখানে নাগরিকদের প্রতি দোকানপাট খোলা ও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনের শিরোনাম দেয়া হয়েছে “বন্ধ দোকান, নেই সরকারী যানবাহন, কার লাভ হচ্ছে?” এতে মানুষকে তাদের পছন্দ বেছে নিতে বলা হয়েছে। তবে, এতে মানুষের মধ্যে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলেছে, এবং মানুষ তাদের ‘অসহযোগিতার মাধ্যমে’ প্রতিবাদ বজায় রেখেছে।
কর্তৃপক্ষ সোমবার পোস্টপেইড মোবাইল সেবা খুলে দিয়েছে। এ অঞ্চলের সাত মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রায় ১.৮ মিলিয়ন মানুষ এই সুবিধার আওতায় পড়ে।
কিন্তু ইন্টারনেট ও প্রিপেইড ফোনের সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে বিশাল একটি জনগোষ্ঠি এই নিয়ে ৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছে।
শাবির বলেন, ৫ আগস্ট থেকে সব মিলিয়ে ১০০ ডলারের মতো রোজগার করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তার দোকানের পাশেই ৪৫ বছর বয়স্ক জালিস আহমেদের মোবাইলের দোকান। মোবাইল সার্ভিস বন্ধ থাকায় এই পুরো সময়টাতে তার কিছুই বিক্রি হয়নি।
৫ আগস্টের সিদ্ধান্তের পর থেকে কর্তৃপক্ষ বহু হাজার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, বিক্ষোভকারী ও এমনকি ভারতপন্থী কাশ্মীরী রাজনীতিবিদদেরকেও আটক করেছে। একইসাথে এই অঞ্চলে বহু হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিকায়িত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে এই এলাকা। সূত্র : আল-জাজিরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন