ঢাকা, মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী বিশ্ব

মাথা গুঁড়িয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি

প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান এরদোগানের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

তুরস্কের প্রেসিডে›রজব তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ১২০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পর কুর্দি গেরিলারা প্রস্তাবিত সেফজোন ছেড়ে চলে না গেলে তাদের মাথা গুঁড়িয়ে ফেলা হবে। এর পাশাপাশি এরদোগান এ কথাও বলেছেন যে, নিরাপদ অঞ্চলে সিরিয়ার সেনাদের অবস্থানের ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে যদি তুরস্ক সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তা হলে আঙ্কারা তার নিজের মতো করে ব্যবস্থা নেবে। খবর বিবিসি ও আনাদোলুর। রাশিয়ার উপক‚লীয় শহর সোচিতে আগামী মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এরদোগানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় সই হওয়া ১২০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ওই দিনই শেষ হবে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের মধ্যে নিরাপদ অঞ্চল থেকে কুর্দি গেরিলাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে। কুর্দি গেরিলারা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সরকার সমর্থন দিয়ে আসছেন। আঙ্কারা চাইছে, সিরিয়ার ভেতরে সীমান্তবর্তী ৩২ কিলোমিটার এলাকায় নিরাপদ অঞ্চল গঠন করতে হবে, যেখানে ২০ লাখ সিরীয় উদ্বাস্তু পুনর্বাসন করা যায়। খবরে বলা হয়, শনিবার দুইপক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে কুর্দিরা বিগত ৩৬ ঘণ্টায় ১৪ বার হামলা চালিয়েছে। তবে তুরস্ক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে বলে দাবি করেন তারা। সামনের সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে এরদোগানের। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি আলোচনায় কোনও সমাধান বের হয়ে না আসে তবে তাদের নিজেদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবে তারা। অপর দিকে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তুরস্কের যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। শনিবার আঙ্কারায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর ৫ দিনের এ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তুরস্ক। এরদোগান বলেন, ৫ দিনের সময়সীমার পর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ফের অভিযান শুরু করবে আঙ্কারা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হলে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে তুর্কি বাহিনী। তুরস্ক সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য সেফ জোন তৈরির ব্যাপারে আঙ্কারার অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। সেফ জোনের জন্য তুরস্কের নির্ধারিত কিছু স্থানে রাশিয়ার সহযোগিতায় আসাদ বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, এ ইস্যুতে আমরা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলবো। আমাদের একটি সমাধান খুঁজে বের করা দরকার। ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর ৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় আঙ্কারা। তুরস্ক বলছে, দেশটি আশ্রয় নেওয়া ৩৬ লাখেরও বেশি সিরীয় শরণার্থীকে পুনর্বাসনের জন্য সেখানে তারা একটি সেফ জোন গড়ে তুলতে চায়। ১৭ অক্টোবর আঙ্কারায় তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ এ ব্যাপারে একমত যে, উত্তর-প‚র্ব সিরিয়ার স্থলভাগে আঙ্কারা ও ওয়াশিংটনের আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। দুই দেশই ন্যাটো সদস্য হিসেবে পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করছে। নিজ দেশের সীমান্ত নিয়ে তুরস্কের বৈধ উদ্বেগের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র অনুধাবন করে। রয়টার্স, আল-জাজিরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন