ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি পেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:০৪ পিএম | আপডেট : ৫:১৯ পিএম, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

সবধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট নিয়ে বেশ কিছু দাবিদাওয়া জানিয়েছেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) মিরপুরে সংবাদ সম্মেলন করে দেশের প্রথম সারির ক্রিকেটাররা বোর্ডের কাছে ১১ দফা দাবি পেশ করেন। ১১ দফা দাবির মধ্যে ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে নবরূপায়নের বিষয়টিও।

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি
নানা অভিযোগ, বঞ্চনা নিয়ে ক্রিকেটারদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা ছিল অনেক দিন ধরেই। গত কিছুদিন থেকে সেটি সংঘবন্ধ রূপ নিতে থাকে। ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করেছেন করণীয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের একটি সংগঠন আছে বটে, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা কোয়াব। তবে তাদের দৃশ্যত কোনো কার্যক্রম নেই। সংগঠনের সভাপতি সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান একই সঙ্গে বিসিবি পরিচালকও। সহ-সভাপতি খালেদ মাহমুদও বিসিবি পরিচালক। ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষার কিছুই এই সংগঠন দিয়ে হচ্ছিল না।
ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবির শুরুতেই তাই থাকল কোয়াব নিয়ে কথা।
দাবি ১-
প্রথম দাবি উপস্থাপন করলেন সিনিয়র ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম প্রথম দাবিটি উত্থাপন করেছেন, আমরা আপনাদের সামনে এসেছি, কারণ ক্রিকেটারদের কিছু সমস্যা আছে, কিছু দাবি-দাওয়া আছে যা আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানাতে চাই। প্রথমত বলতে চাই সম্মানের ব্যাপার। আমাদের মনে হয়, ক্রিকেটার হিসেবে যে সম্মান আমাদের প্রাপ্য, আমার মনে হয় না আমরা তা পাই। আর আমাদের যে প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন আছে, কোয়াব, তারা ক্রিকেটারদের পক্ষে কথা বলবে, সেটির কোনো কিছু আমরা তাদের কার্যক্রমে পাইনি। আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে, কোয়াবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, যারাই আছেন, তাদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। যেহেতু এটা প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, আমরা ক্রিকেটাররাই নির্বাচনের মাধ্যমে পছন্দ করব, কারা এখানে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হবেন।
দাবি ২-
দ্বিতীয় দাবি উপস্থান করেন জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ, আপনারা সবাই জানেন, গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পরিস্থিতি কেমন। যেভাবে এই লিগ হচ্ছে, তাতে সব ক্রিকেটারই অসন্তুষ্ট। এখানে পারিশ্রমিকের একটি মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি ক্রিকেটারদের অনেক সীমাবদ্ধতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা যেভাবে আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম, যেভাবে ক্রিকেটাররা ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিল করতেন, যেভাবে নিজেদের পারিশ্রমিক নিয়ে এবং কোন ক্লাবে খেলবেন তা নিয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, আমাদের দাবি, প্রিমিয়ার লিগ যেন আগের মতো করে আমরা ফিরে পাই।
দাবি ৩-
সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম জানালেন তৃতীয় দাবির কথা, আমাদের তৃতীয় দাবি বিপিএল সংক্রান্ত। এবার বিপিএল অন্যভাবে হচ্ছে, যেটিকে আমরা সম্মান করি। আমাদের মূল দাবি, আগের যে নিয়মে বিপিএল হচ্ছিল, সেটি যেন পরের বছর থেকে চলে আসে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, বিদেশী ক্রিকেটারদের সঙ্গে স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের সামঞ্জস্য যেন থাকে। আমরা সবসময় দেখি যে বিপিএলে বিদেশী ক্রিকেটারদের অনেক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, স্থানীয়দের ওভাবে দেওয়া হয় না। এটা অবশ্যই করতে হবে। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, বিশ্বের অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হয়, যেখানে ক্রিকেটাররা ড্রাফটে নিজেদের গ্রেড নির্ধারণ করতে পারেন যে তারা কোন গ্রেডে থাকবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও এই অধিকার থাকা উচিত। তার পর নিলামে কেউ না থাকলে তাদের ব্যাপার। কিন্তু সম্মানটুকু ক্রিকেটারদের দেওয়া উচিত।
দাবি ৪-
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছে চার নম্বর দাবি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমাদের ম্যাচ ফি অন্তত ১ লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমরা এই দাবি অবশ্যই জানাচ্ছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন অনেক কম। সেটি অন্তত ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। ক্রিকেটারদের অনুশীলন সুবিধা বাড়াতে হবে। জিম-মাঠ সবকিছু বাড়াতে হবে। ১২ মাসের জন্য কোচ-ফিজিও-ট্রেনার নিয়োগ দিতে হবে এবং তারাই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের একটি সিস্টেমের ভেতর নিয়ে আসবে, তাদের পরিকল্পনামতোই ক্রিকেটাররা কাজ করবে। এবং এটি প্রতিটি বিভাগে করতে হবে। আমরা চাই না সবাইকে সব ট্রেনিং সেশন ঢাকায় করতে হবে। অবশ্যই বিভাগীয় পর্যায়ে নিজেদের ঘরের মাঠে করবে সবাই, তাহলেই আমাদের ক্রিকেটের প্রসার হবে। এটা হয়তো আজকেই হবে না। তবে পরের মৌসুমের আগে নিশ্চিত করতে হবে। আরও কিছু ছোট ছোট ব্যাপার আছে, আমাদের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য ও সংস্কৃতি বদলানোর জন্য যেগুলো জরুরী। যেমন বল। যেটা আমাদের অনেক বড় সমস্যা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমরা মানসম্মত বল পাই না। ওটা নিয়ে আমাদের অনেক ভুগতে হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আসার পর অন্য বলে আবার মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। এটা যেন না করতে হয়।

দাবি ৫-

সবার হয়ে পাঁচ নম্বর দাবিটিও জানিয়েছেন সাবিক আল হাসান, দৈনিক ভাতা মাত্র ১৫০০ টাকা। যে ফিটনেস দাবি করছে, তাতেঅনেক স্বাস্থ্যকর খাওয়া খেতে হবে। ভালো হোটেলে থাকতে হবে। যেখানে খাবার ও যে কোনো জিনিসের দাম বেশি। সেটা বিবেচনা করে যে পরিমাণ ভাতা ঠিক করলে ভালো হয়, সেটি যেন করা হয়। ভ্রমণ ভাতা কেবল ২৫০০ টাকা। এখন যে রাজশাহী থেকে কক্সবাজার যাবে খেলতে, তার তো বাসে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই! এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন ক্রিকেটাররা বিমান ভাড়া পায়। আর কোনো ভ্রমণ ভাতা দরকার নেই। বিমানের টিকিট বিভাগ করুক বা যে করুক, আমাদের আপত্তি নেই। টিম হোটেলে জিম ও সুইমিংপুল অবশ্যই দরকার। কারণ চারদিনের ম্যাচে একজন ক্রিকেটারের অনেক কষ্ট হয়। দিনশেষে তার রিকভারির জন্য জায়গা থাকতে হবে। ওয়ান বা টু স্টার হোটেলে, কোনো রকমে শুধু রুম আছে, সেখানে সম্ভব নয়। আরেকটি হলো টিম বাস। মাঠে যে ধরণের বাসে আমরা যাওয়া-আসা করি, তা খুবই হতাশাজনক। অন্তত এসি বাস বা যে বাস ক্রিকেটাররা কমফরটেবল থাকবে, সেরকম একটি বাসে যেন আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

দাবি ৬-
ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এনামুল হক জুনিয়র জানিয়েছেন তাদের ষষ্ঠ দাবির কথা, জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা এখন অনেক কম, এটি ৩০ জন করা উচিত। করতে হবে এবং বেতন বাড়াতে হবে। তিন বছর ধরে বেতন বাড়ানো হয় না।

দাবি ৭-
সপ্তম দাবি নিয়ে নুরুল হাসান সোহান জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য একটা নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। আগে থেকে প্রস্তুত হবার জন্য এটি জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দাবি ৮-
এনামুল হক উত্থাপন করেন ক্রিকেটাদের অষ্টম দাবি, আমরা দুটি চারদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট খেলি, জাতীয় লিগ ও বিসিএল। কিন্তু একদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট কেবল একটি। শুধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। আরেকটি টুর্নামেন্ট বাড়ানো উচিত। আগে জাতীয় লিগে চার দিনের ম্যাচের পর একদিনের ম্যাচ হতো। জাতীয় লিগের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আমরা আবার খেলতে চাই। তাহলে এই সংস্করণে ম্যাচ আরও বেশি খেলতে পারব। পাশাপাশি বিপিএলের বাইরে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হওয়া উচিত, যেটি হতে বিপিএলের আগ মুহূর্তে।
দাবি ৯-
নবম দাবি তুলে ধরেন আরেক কিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান, ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। সেটি থাকলে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারব।
দাবি ১০-
পরের দাবিটির কথা জানান ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান জুনায়েদ সিদ্দিক, বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগের পাওনা টাকা যেন আমরা সময়মতো পাই। শেষবারের লিগ থেকে, আমরা ব্রাদার্স ইউনিয়নে যারা খেলেছি, এখনও ৪০ ভাগ টাকা পাইনি। বোর্ডে অনেকবার যাওয়া হয়েছে, কোয়াবকে অনেকবার বলা হয়েছে। বারবার আসা-যাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য এটি আসলে দৃষ্টিকটু। আমরা আশা করব, যে সময়টি দেওয়া থাকবে, সে সময়ের মধ্যেই যেন টাকা শোধ করা হয়।
দাবি ১১-
একাদশ দাবিটি উঠে আসে ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজার কণ্ঠে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ক্ষেত্রে দুটির বেশি টুর্নামেন্টে খেলতে না দেওয়ার একটি নিয়ম আছে। কিন্তু জাতীয় দলের খেলা না থাকলে যদি খেলতে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা খেলতে পারব ও অনেক কিছু শিখতেও পারব।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন