ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

চার বছরে ২৯ হাজার ৩১৫ জনের প্রাণহানি

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও নিরাপদ হয়নি সড়ক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও আগের মতোই অনিরাপদ রয়ে গেছে সড়ক। গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীতে দুই শিক্ষার্থী নিহতের পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন শুরু হয়। যদিও নানা আশ্বাস ও উদ্যোগের মধ্যেই চাপা পড়ে গেছে নিরাপদ সড়কের দাবি। এর মধ্যেই প্রতিদিন ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। গত ৪ বছরে সারা দেশে ২১ হাজার ৩৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সব দুর্ঘটনায় ২৯ হাজার ৩১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও ৬৯ হাজার ৪২৮ জন। এছাড়া একই সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ৩১ হাজার ৯৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, চলতি বছরের গত ৮ মাসে সারাদেশে ২ হাজার ৮০৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নিরাপদ সড়ক দিবসকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজে লাগানোসহ দিবসটিকে সামাজিক গণজাগরণ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বান জানায়। যাত্রী কল্যাণ সমিতি ছাড়াও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বেচ্ছসেবী প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে তারা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। যদিও দুর্ঘটনার সিংহভাগ খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। সমিতির মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ৪ বছরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাস। এরপরে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন। সংস্থাটির তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের মধ্যে ২১.৩৩ শতাংশ বাস, ২১.১৮ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬.৮৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ১৪.২৫ শতাংশ অটোরিকশ, ১৮.৩৩ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯.১৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ৮.৮৩ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ট্রাক্টর রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ হাজার ৬৪২ জন নিহত ও ২১ হাজার ৮৫৫ জন আহত হয়েছেন। ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২ দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯ দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত, ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৫১৪ দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, নিরাপদ সড়ক দিবসকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজে লাগাতে হবে। এর পাশাপাশি দিবসটিকে সামাজিক গণজাগরণ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়কে প্রাণ দিচ্ছেন। আহত হচ্ছেন আরও অনেকে। তাদের সুরক্ষা দিতে দিবসটি অন্যান্য জাতীয় দিবসের ন্যায় গতানুগতিকভাবে একদিন পালন না করে ব্যতিক্রমীভাবে পালন করতে আহবান জানান। তিনি বলেন, মাসব্যাপী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা সভা, মসজিদ-মন্দির-গির্জায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনাসহ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরলে দিবস উদযাপনের সুফল পাওয়া যাবে।
সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বর্তমান সময়ে সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়নের ফলে যানবাহণের গতি বেড়েছে, এ সময়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং বিপজ্জনক ওভারটেকিং বেড়ে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। আয়তন ও জনসংখ্যার ঘনত্বের তুলনায় বাংলাদেশে যেভাবে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দুর্ঘটনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।
এদিকে, সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) প্রকাশিত এক তথ্যে দেখা গেছে, গত ৮ মাসে সারাদেশে ২ হাজার ৮০৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ফেব্রুয়ারি মাসে। সড়ক দুর্ঘটনায় ওই একমাসে ৪১৫ জন প্রাণ হারায়।
গত ৬ সেপ্টেম্বর এসসিআরএফ কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক, আন্তঃজেলা সংযোগ সড়কে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়। সংস্থাটির মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান ১০টি কারণের মধ্যে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইনের অবমাননা ইত্যাদি প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের ২২টি জাতীয় পত্রিকা, ১০টি স্থানীয় পত্রিকা ও ৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (15)
Neel Kosto ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৪ এএম says : 0
যেখানে দেশটাই বিশৃঙ্খল সেখানে ড্রাইভাররা কিভাবে সুশৃঙ্খল হবে?
Total Reply(0)
বেদনার কুড়ে ঘর ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৪ এএম says : 0
গণপরিবহনে আরও উশৃঙ্খলতা বাড়ছে।
Total Reply(0)
Alamin Sheikh ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৫ এএম says : 0
আরো বেড়েছে নৈরাজ্য,আরো বেপরোয়া গাড়ির অশিক্ষিত ড্রাইভার। আরো কত কঠিন পরিনতি ভোগ করবে জনগন? মাথা মোটা জনগনের জন্য এটাই উচিৎ শিক্ষা।
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 0
সড়ক দুর্ঘটনা রোধের কোন পথ আছে বলে মনে হয়না।এভাবেই দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন আট/দশ টি প্রান ঝরতে থাকবে, আরও বাড়বে ভবিষ্যতে। কারণ সড়ক দুুর্ঘটনার মূল কারন যে লাখ লাখ ভুয়া লাইসেন্স ধারী, বেপরোয়া চালক তা সরকারের উচ্চ মহলের কেউ মানেন না। বর্ং সড়ক দুর্ঘটনার ঠেকাতে পথচারিদের এবং ক্ষুদ্র যান বাহন গুলোকে আরও সচেতন হবার উপদেশ দিয়ে, তারা প
Total Reply(0)
Zonayed ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
জাতি হিসেবে আমরা কত বেশী ব্যর্থ এটা তাই প্রমাণ করে... মানুষ হতে পারিনি...
Total Reply(0)
Maruf Ahmed ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
সবসময় চালককে দোষী মানার প্রবণতা বাদ দিতে হবে । এটা করলে দূর্ঘটনার অন্যান্য সঠিক কারনগুলো চাপা পড়ে থাকবে । নগরীর বাসগুলোতে কমপক্ষে এইচ. এস. সি. পাশ ড্রাইভার নিয়োগ দিতে হবে । ড্রাইভার ও হেলপার মাদকাসক্ত কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে ।
Total Reply(0)
সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
পুলিশ 'ঠিকমতো' দায়িত্ব পালন করলে , আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে এই সব বিশৃংখলা অনেকাংশেই কমে যেত। 'On the spot' বড় অংকের জরিমানা হলে রাস্তার অনেক শৃংখলা ফিরে আসত।
Total Reply(0)
Alamin Rahman ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
ছাত্রছাত্রীরা গলায় #আইডি কার্ড ঝুলিয়ে ক্লাস করে, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে অফিস করতে হয়, ব্যাংক, বীমা-র মত প্রতিষ্ঠানে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে অফিস করতে হয়, শপিংমল, চেইনশপ, সুপারশপে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে কর্মীরা বেচাকেনা করেন। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে হলে আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) লাগে..... #প্রশ্ন হচ্ছে ড্রাইভাররা কেন আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে গাড়ী চালাবে না.????
Total Reply(0)
Амена Хан ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
সরকার দায় এড়াতে পারে না,নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য জনগণের করের টাকায় বেতন দেওয়া হয়।
Total Reply(0)
Mamun ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
রাস্তায় চলাফেরা বা গাড়ী চালানোর জন্য যে কিছু নিয়মকানুন আছে তা স্বাধীনতার পর থেকেই জাতিকে শেখানো হয়নি । গ্রাম, শহর কোথাও কেউ নিয়ম মানে না । নিজস্ব নিয়মে গাড়ী, রিকশা, মোটর সাইকেল, সাইকেল চালায় । দায়িত্ববানরা আছেন শুধু নতুন রাস্তা, ব্রিজ বানানো বা নতুন যানবাহন কেনাকাটায় । মৃত্যুই নিয়তি
Total Reply(0)
মশিউর ইসলাম ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
What is the remedy?
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
এখন রাস্তায় নেমে সুস্থ হাত-পা নিয়ে জীবিত অবস্থায় ঘরে ফেরাই এক পরম সৌভাগ্যের বিষয়। সামনে পেছনে পুলিশের গাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন (দশ বছর) চলাচলকারী দের মনে সে অনুভূতি কি জাগবে?!
Total Reply(0)
জিয়াউল হক চৌধুরী ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১৭ এএম says : 0
June মাসে মারা গেছে ৫৯৫জন।
Total Reply(0)
জিয়াউল হক চৌধুরী ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১৭ এএম says : 0
June মাসে মারা গেছে ৫৯৫জন।
Total Reply(0)
জিয়াউল হক চৌধুরী ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১৭ এএম says : 0
June মাসে মারা গেছে ৫৯৫জন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন