ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ২২৫০ মিটার

তিন মাস ২৩ দিন পরে বসল পঞ্চদশ স্প্যান

শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান ৪-ই বসানো হয়েছে ২৩ ও ২৪ নম্বর পিলারের ওপর। কয়েক দিনের চেষ্টায় অবশেষে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ২২৫০ মিটার (২.২৫ কিলোমিটার)। চতুর্দশ স্প্যান বসানোর তিন মাস ২৩ দিনের মাথায় স্থায়ীভাবে বসলো এই পঞ্চদশ স্প্যানটি। 

গতকাল সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ২২৫০ মিটার। সকাল থেকেই স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘের আর ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে বহন করে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ক্রেন ‘তিয়ান ই’। পদ্মা সেতুর প্রকৌশল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, দুই পিলারের মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে এনে ভাসমান ক্রেনটিকে নোঙর করা হয়। এরপর পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। রাখা হয় দুই পিলারের বেয়ারিং এর ওপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় এবং সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীরা স্প্যানটি বসাতে সক্ষম হন।
প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম ও নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মা সেতুতে কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। ড্রেজিং করেও অনুক‚ল পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছিল না। কয়েক দিন আগে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হলেও নাব্যতা সঙ্কট বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করেও অনুক‚ল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে নানা বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়। এর আগে গত সোমবার সকালে জাজিরা প্রান্তের চর এলাকা থেকে ‘৪-ই’ স্প্যানকে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারের সামনে নোঙর করে রাখা হয়।
পদ্মা সেতুর প্রকৌশল সূত্রে আরও জানা যায়, ড্রেজিং করেও স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। পলি অপসারণ করার ১-২ ঘণ্টা পরেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে নদীর তলদেশ। ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন বহন করে আনতে নাব্যতা সঙ্কট বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইতোমধ্যে পদ্মাসেতুর আরও ৩টি স্প্যান প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু নাব্যতা সঙ্কটের কারণে স্প্যানগুলো বসাতে দেরি হচ্ছে। সেতুর ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩ নম্বর পিলারের ওপর চারটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা আছে চলতি বছরের মধ্যে। সর্বশেষ ২৯ জুন মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ১৫ ও ১৬ নম্বর পিলারের ওপর বসে চতুর্দশ স্প্যান ৩সি।
জানা যায়, পুরো সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে সø্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে সø্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। একের পর এক স্প্যান বসিয়ে দৈর্ঘ্য বেড়ে চলছে পদ্মাসেতুর। গাড়ি ও ট্রেনে চড়ে পদ্মা পাড়ি এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে আর ২৬টি স্প্যান বসলেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন