ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ধর্ষণের পর খুন লাশ বটগাছে

মাদরাসা ছাত্রীসহ বিভিন্ন স্থানে শিকার ৮

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

প্রতিবেশী ফুফুর বাড়িতে রান্না করা তরকারী নিয়ে যাওয়ার পথে নেত্রকোনায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক ১২ বছরের কিশোরী। এ ঘটনায় ধর্ষক ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। গৃহবধূকে ধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই মনপুরায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক তরুণী আর চর ফ্যাশনে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে এক গৃহবধূকে। এসব ঘটনায় আটক করা হয়েছে একজনকে। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বড়াইগ্রামে। মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো বটগাছে। নরসিংদীতে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কলেজ ছাত্রী। এ ঘটনায় একজন আটক হলেও বাকিরা পলাতক। অন্যদিকে গাজীপুরে চলন্ত বাসে ফের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বাসের চালক ও সহকারীরা। ধস্তাধস্তির সময় ওই ছাত্রী লাথি দিয়ে জানালার কাচ ভেঙে ফেললে পথচারীরা টের পান। এছাড়া ঝিনাইদহে চানাচুরের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে। রংপুরে নানা প্রলোভনে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে এক দোকানী।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) : নাটোরের বড়াইগ্রামে হালিমা খাতুন (১২) নামে এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

ও নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় একই গ্রামের মুছা দেওয়ানের ছেলে লাদেন দেওয়ান হালিমাদের বাড়ির সামনে বসে ছিল। এক পর্যায়ে সে হালিমাকে কিছু কথা বলার জন্য ডেকে নেয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাত ১২ টার দিকে লাদেন কয়েকজন প্রতিবেশিকে জানায় যে, হালিমা গলায় ফাঁস নিয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনেরা বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দুরবর্তী একটি বটগাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হালিমার লাশ দেখতে পান। পরে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

নিহতের পিতা হাসান আলী জানান, লাদেন আমার মেয়েকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গিয়ে সাতইল বিলের নির্জন জায়গায় ব্রিজের উপর ধর্ষণ করেছে। সেখানে এমন কিছু আলামতও রয়েছে। পরে সে আমার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে।

নেত্রকোনা : জানা যায়, বড় গাড়া গ্রামে ১২ বছরের ওই কিশোরী রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারই প্রতিবেশী ফুফু’র বাড়িতে রান্না করা তরকারী নিয়ে যাওয়ার পথে একই গ্রামের রব্বানী মিয়ার ছেলে বখাটে রুহুল আমিন (২০) তার অপর সহযোগী খোকন মিয়ার ছেলে স্বাধীন মিয়ার (২০) সহযোগিতায় তাকে জোর পূর্বক ধরে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতার আর্ত-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরকে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সোমবার সকালে কিশোরীর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।

ভোলা : জানা যায়, গত ছয় মাস পূর্বে অভিযুক্ত আসামী যুবক রাকিব সওদাগর মাষ্টার হাট নানার বাড়িতে বেড়াতে গেলে ওই তরুণীর সাথে পরিচয় হয়। পরে সর্ম্পক প্রেমে পরিণত হয়। একপর্যায়ে রাতে রাকিব সওদাগর দেখা করতে গেলে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিয়ের প্রলোভনে এই ঘটনা কাউকে বলতে বারণ করে। একইভাবে রাকিব সওদাগর দীর্ঘদিন ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। ৩ নভেম্বর রোববার রাতে রাকিব সওদাগর একই প্রলোভনে ধর্ষণ করলে চিৎকার করলে রাকিব পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে, চরফ্যাশন উপজেলায় এক গৃহবধ‚কে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, ঢালচর ইউনিয়নের এই নারীকে সোমবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তারা ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

নরসিংদী : ভিকটিমের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাকিব মিয়া (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সে উপজেলার গৃষ্টিগড় গ্রামের রবিউল্লাহর ছেলে। এছাড়া আরিফ (২৫) নামে এক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। সে একই এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে।

শিবপুর থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি রায়পুরা উপজেলায়। সে স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। বাবা ভ্যানচালক। কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আরিফ মিয়া নিজেকে একটি কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে তাকে চাকরির প্রলোভন দেখায়। এরপর শুক্রবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলে। তার কথায় বিশ্বাস করে কলেজছাত্রীটি শিবপুরের বড়ইতলা এলাকায় স্যামসাং কারখানার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় আরিফ তাকে পণ্য প্রচারের জন্য সেলসম্যান হিসেবে কাজের প্রস্তাব দেয়। পরে তাকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে আরিফ ও তার সহযোগী রাকিব কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করে। এরপর রাতে হাজীবাগান এলাকায় নিয়ে তাকে লাথি দিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে মুখ বেঁধে একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

গাজীপুর: মাওনা মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় নাটকের শুটিং ছিল তার। শুটিংয়ে অংশ নিতে মিরপুর থেকে রাত সাড়ে আটটার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় নামে সে পরে সেখান থেকে সে ঢাকাÐময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী চ্যাম্পিয়ন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে উঠে। কিছুদ‚র যাওয়ার পর চালকের ‘সমস্যা আছে’ বলে সহকারীরা বাস থেকে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয়।ওই সময় চালক স্কুলছাত্রীকে আশ্বস্ত করে জানায়, তার সমস্যা থাকলেও তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। পরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে শ্রীপুরের মাওনা উড়াল-পথে চলে আসে তারা। সেখানে উড়াল-পথের ওপর বাসের তারা স্কুলছাত্রীকে মুখবেঁধে ধর্ষণচেষ্টা চালায়। ধস্তাধস্তিকালে স্কুলছাত্রী পা দিয়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেললে মহাসড়কের দুই পাশে পথচারীরা টের পায়। পরে তারা মহাসড়ক পুলিশকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিক ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে।

রংপুর : একই এলাকার প্রতিবেশী মুদি ব্যবসায়ী আবু রায়হান লাবুর কাছে জিনিসপত্র কিনতে দোকানে যেতো ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী। একপর্যায়ে নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে প্রায় চার মাস আগে আবু রায়হান মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এরমধ্যে মেয়েটি শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। এক সপ্তাহ আগে মেয়েটির পেট ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের সন্দেহ পেটে টিউমার হয়েছে। এ কারণে রবিবার মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রংপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধরা পড়ে মেয়েটি চার মাসের অন্তঃসত্ত¡া। এসময় কৌশলে হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয় অভিযুক্ত আবু রায়হানকে। পরে তাকে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় মেয়েটির স্বজনরা।

এ ঘটনায় মেয়ের বাবা আবু রায়হানকে অভিযুক্ত করে বদরগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। আবু রায়হানের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঝিনাইদহ : নির্যাতিতার মা জানান, শনিবার বিকেলে শিশুটি খেলতে খেলতে প্রতিবেশী হাফিজুরের বাড়িতে যায়। হাফিজুর শিশুটিকে চানাচুর কিনে দেওয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যায়। এরপর বাজারে নিয়ে চানাচুর কিনে দেওয়ার পর জোরপূর্বক একটি কলাবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। একথা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন