ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সাহিত্য

মসনবী শরীফ

মাওলানা জালাল উদ্দীন রূমী রহ. | প্রকাশের সময় : ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

কাব্যানুবাদ : রূহুল আমীন খান
১৯৩৯. ‘খোদার খুদী’* যেন সরস ভেজাল বিহীন গম
তার তুলনায় ‘লোকের খুদী’ খড়-কুটা এক দম।

১৯৪০. খোদাই মূল খুদী, সে মূল খোদায়ী খুদী থেকে
সৃষ্টি-মাঝে এসেছে সব খুদী একে একে।

১৯৪১. থাকুক এ কথা, অভিযোগ মোরÑ সর্বদা আমি তাঁর
শিকার হয়েছি হেলা-অবহেলা বিরাগ অবজ্ঞার।

১৯৪২. একারণে আমি সর্বদা কাঁদিÑ কাঁদাই সে ভালবাসে
উভয় জগতে খুশি হন তিনি ক্র’দন উ’ছ¡াসে।

১৯৪৩. তাঁহার বিরাগে, ক্রোধে কোপে কেন ভাসিবনা আখি জলে
কেন গিয়ে আমি যাবনা ভিড়িয়া তার পাগলের দলে।

১৯৪৪. কেন কাঁদিবনা? আমিও তো ওই বিরহী রাতের মত
তাঁহার আনন-আলোক বিহনে আঁধারে নিমজ্জিত।

১৯৪৫. তাঁর না-খুশিতেÑ প্ররম খুশীতে ভরে যায় মোর মন
মোর ই’ছাকে ই’ছাতে তাঁর দিয়েছি বিসর্জন।

১৯৪৬. চরম পরম প্র্রেমিক আশিক আমি দুঃখ-বেদনার
কেননা এসবি মোর মাশুকের প্র্রেমভরা উপহার।

১৯৪৭. দুখের মাটিকে সুরমা বানিয়ে লাগাব যতন করে
যায় যেন মোর আখি সরোবর রতন মানিকে ভরে।
১৯৪৮. যেই আখি জল তাঁহার কারণে ঝরায় মানবগণ
দৃশ্যতঃ পানি হলেও সে পানি হিরা মনি কাঞ্চন।

১৯৪৯. প্র্রাণের প্র্রাণ বন্ধুর কাছে অভিযোগ করি পেশ
মূলতঃ এ মোর অভিযোগ নয় বিবরণী সবিশেষ।

১৯৫০. অন্তর বলে : তাঁর প্র্রতি হৃদে বেদনার হাহাকার
আমি শুধু হাসি, অলসতা আর মুনাফিকী দেখে তার।

১৯৫১. সততা দেখাও, সৎ লোকদের তুমি যে অহংকার
তুমি মূল গেহ আমি চৌকাট গৃহের দরোজার।

১৯৫২. হৃদয় জগতে উপর বা নিচ বলিতে কিছুই নাই
আমি বা আমরা থাকে না কিছুই মিলনে মাশুক-ঠাঁই।

১৯৫৩. তোমার সত্তা সব কিছু হতে চিরপাক হে মহান
এ কায়ার মাঝে রূহ্্ রূপে তুমি শতত বিরাজমান।
১৯৫৪. পুরুষ ও নারী এক হলে সব, একতো থাকিবে তুমি
একও যখন হইবে বিলীন তখনও এক তুমি।

১৯৫৫. আমি, আমরা-কে করেছ সৃষ্টি করিতে তোমার সেবা
তুমিই তোমার সেবা কর মূলেÑ তোমা হতে জুদা কেবা!

১৯৫৬. তুমি আর আমি হইব যখন এক সত্তাতে লীন
এক শুধু এক, দুই বলে কিছু থাকিবেনা সেই দিন।

১৯৫৭. এ সকল কথা বর্ণনা থেকে তুমি পাক ওহে ধাতা
রেখে এই সব, এসো তুমি এসো কুনের হুকুমদাতা।

১৯৫৮. দেহের এ চোখ পারেকি দেখিতে ? দেখিতে যদিও চায়
কান্না-হাসির মানুষ কি পায় তোমাকে কল্পনায় ?

১৯৫৯. যে মন ব’িদ দুখ ও বেদনা, পুলকÑ সুখের কাছে
তুমিই বল গো, তোমাকে দেখার মুরোদ কি তার আছে?
১৯৬০. যে জীবন শুধু সুখ দুখ নিয়ে হামেশা ব্যস্ত থাকে
ধার করা এই দুটি নিয়ে সেতো নিজেকে যি’দা রাখে।

১৯৬১. আল্লা-প্র্রেমের সবুজ বাগের নেই যে সীমা ও কুল
সুখ দুখ ছাড়া সে বাগানে আছে সুস্বাদু ফল মূল।

১৯৬২. সুখ ও দুখের অনেক ঊর্ধে প্র্রেমের অবস্থান
বসন্ত শীত ছাড়া হোথা চির সবুজ বিদ্যমান।

১৯৬৩. প্র্রেমময় ওই আননের তব প্র্রদান করো যাকাত
বিরহ-আঘাতে বিদীর্ণ হিয়াÑ দাও দাও মুলাকাত।

১৯৬৪. ওগো প্র্রিয়তম তব মনোরম মদির অক্ষি-ধার
আরেক নতুন দাগ বসিয়েছে উপরে এই হিয়ার।

১৯৬৫. ‘তোমার জন্য আমার রক্ত বৈধ’Ñ বলেছি তায়
বলি বার বার বৈধ বৈধ তবুও সে চলে যায়।

১৯৬৬. মাটির শিশুর কান্না শুনেও পালিয়ে বেড়াও কেন ?
বিরহ কাতর হৃদে বার বার কেন দাও ব্যথা হেন ?

১৯৬৭. প্র্রতিটি প্র্রভাতে জাগ তুমি যবে দিগন্তে নিলীমার
উছলে আলোর ঝর্নাÑ তখন কে পায় তোমাকে আর !

১৯৬৮. তব মধুময় অধরে অমিয় সুধারস সঞ্চিত
সেই সুধা থেকে তোমার পাগলে কেন কর বঞ্চিত ?

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন