ঢাকা, শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:০১ এএম | আপডেট : ১:০১ পিএম, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

  • ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর আঘাত সন্ধ্যায় : গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার : অতিবৃষ্টির সাথে ৫-৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতি

বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আজ শনিবার আরও জোরদার হয়ে উঠেছে। ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনায় সুন্দরবন বরাবর ছোবল হানতে পারে। ‘বুলবুল’ এর গতিবেগ এখন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগর উত্তাল বিক্ষুব্ধ। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাতের সময় এবং তার আগে-পরে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে ৫-৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে দেশের চর উপকূল দ্বীপাঞ্চল।
এদিকে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গ এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা। সতর্কীকরণ ব্যবস্থাসহ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার।
সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া ও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিরাজ করছে দুর্যোগপূর্ণ এবং গুমোট আবহাওয়া। বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই ছুটছেন নিজেদের এলাকার উদ্দেশে।
এ মুহূর্তে দক্ষিণের উপকূলের ১৩টি জেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে মানুষ আল্লাহতায়ালার দরবারে ফরিয়াদ করছে। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে হাজার হাজার উপকূলবাসী। দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রফতানি কন্টেইনারসহ যাবতীয় মালামাল খালাস এবং ডেলিভারি পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে গতকালই। মংলা-পায়রা বন্দরেরও একই অবস্থা। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগ অচল। গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে এখনো ফিরেনি শতাধিক ট্রলার নৌযান।


সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর এবং উপকূলীয় জেলা-উপজেলাসমূহের মাঠ প্রশাসনের সর্বস্তরের জনবলকে নিজ নিজ এলাকায় থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে আজ ও আগামীকালের সরকারি ছুটি। বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগে চালু হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
সর্বশেষ অবস্থা
আজ সকালে সর্বশেষ আবহাওয়া ও ‘বুলবুল’ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশেষ বুলেটিনে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরো উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (২০.০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি আজ সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৫২৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৫১০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৫০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৭৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরও উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা নাগদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের নিকট দিয়ে) অতিμম করতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আজ দুপুর থেকে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৩০ কি.মি.। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগর খুবই উত্তাল বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ (নয়) নম্বর মহবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ (নয়) নম্বর মহবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অতিμমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১০০ থেকে ১২০ কি.মি. গতিবেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের সক্রিয় প্রভাব ও চাঁদের আকর্ষণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন