ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ভোলায় ১০ নম্বর বিপদ সংকেত

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

ভোলা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১:০২ পিএম

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জরুরী সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা প্রশাসক। এই ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও গুরুত্বের কথা জানালেন জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক। এদিকে ইলিশায় পুরাতন বেড়িবাঁধ কেটে ফেলায় আতংকে রয়েছেন মেঘনা পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। ১০ নাম্বার বিপদ সংকেত চললেও ডাল চর, কলাতলির চর, চর জহিরুদ্দিন, কুকড়ি মুকরি, ধুবলার চর সহ সাগর বুকের চরের মানুষ ফেরেনি আশ্রয়কেন্দ্র, বিপর্যয়ের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ত্রাণ মন্ত্রনালয় ইতোমধ্যে নগদ ১০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন সাথে ২০০ মেট্রিকটন চালও দিয়েছেন।আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠিয়েছে। তার ১০০০ প্যাকেট সকালেই চরফ্যাশনের আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এছাড়স ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ভোলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছ ৯২টি মেডিক্যাল টিম। এছাড়াও জেলা সদরসহ সাত উপজেলায় ৮টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং সহ বিভিন্নভাবে উপকূলে চলছে প্রচারণা।
প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৩ হাজার স্বেচ্চাসেবী। ২হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ছাড়াও ত্রান মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে মজুদ রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও শুকনো খাবার।
ঝড়ের বিষয়ে মানুষকে জানাতে সিপিপি ও রেডক্রিসেন্ট কর্মীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিপিপির ১০ হাজার ২শ’ স্বেচ্চাসেবী প্রস্তুত রয়েছে। তথ্য অফিস থেকে মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভোলায় আজ সকাল খেকে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত চলছে।লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান রুমি জানান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে আমরা উপজেলার সকলের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমুলক সভা করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
ভোলা সিপিপির উপ-পরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন জানান, ঝড়ের বিষয়ে মানুষকে জানাতে সিপিপি ও রেডক্রিসেন্ট কর্মীরা প্রচার-প্রচারনা শুরু করে দিয়েছেন। সিপিপির ১০ হাজার ২০০ সেচ্চাসেবী প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে রাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও আজ সকাল থেকে বাতাসের বেগ বেড়েছে, ভারী বর্ষণ হচ্ছে। পুরো জেলা মেঘাচ্ছন্ন। নদী এবং সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। অনেক জেলে তীরে চলে আসলেও চরবাসীরা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি। ইলিশা জংসন
নদী পারের মানুষ জানান, নতুন বেড়িবাঁধ তৈরী করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরাতন বেড়িবাধ কেটে তার মাটি নতুন বাঁধে দেয়া ও নতুন বেড়িবাঁধের কাজ শেষ না করতে পারায় অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

তবে এ ব্যাপারে বাপাউবো ডিভিশন ১ এর কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। অন্য দিকে বাপাউবো ডিভিশন ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ ও উপ সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল জানান তার এরিয়ায় তেমন একটা সমস্যা নেই। তারা অাগেই এব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়েছেন। এদিকে দুপুর ১২ টার মধ্যে অাশ্রয়কেন্দ্রে সকলে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন উপস্থিতির কোন খবর পাওয়া যায়নি।

চরের মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনার ব্যাপারে কোষ্ট গার্ডের দায়িত্বরত লেপ্টেনেন্ট কমান্ডার নাজিউর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, বিচ্ছিন্ন চরবাসিকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সেখানে আমরা বোট পাঠিয়েছি তবে চরের মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসছেন না। প্রয়োজনে আমরা আরো বোট পাঠাবো।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, চরের মানুষ তাদের সহায় সম্বল ও গবাদি পশু রেখে আশ্রয় কেন্দ্র আসতে চাচ্ছেন না। আমরা তাদের নিশ্চিত করেছি তাদের সকল সম্পদের নিরাপত্তা দিবো। আশা করি যথা সময়ে সবাই আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসবে। তবে লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে ভোলার সাথে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা। বৃস্টি কিছুটা বৃধ্বি পাচ্ছে, বাতাসও বাড়ছে। ঝড়ের কারনে অামন ধানের ক্ষতির অাশংকা করছেন কৃষকরা।তারা বলছেন বাতাষের কারনে ধানের রেনু ঝরে গেলে ধান চিটা হয়ে য়েতে পারে। তাতে ধান নস্ট হয়ে যাবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন