ঢাকা, রোববার , ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

বাড়ছে পানি বাড়ছে আতঙ্ক, উপকূলবাসী ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রে

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৩:৪৯ পিএম

গতিবেগ বেড়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়টি। বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূল থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহত্তর খুলনার দাকোপ-কয়রা-পাইকগাছা-সাতক্ষীরা-মংলা উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ ঝড়ের আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে ছুটছেন।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অঞ্চলের আকাশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উপকূলের নদীগুলোতে পানির উচ্চতা বেড়েই চলেছে। পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক। উপকূলীয় এসব অঞ্চলের মানুষের ভয়, পানি বাড়লেই যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে যেতে পারে। তাই উপকূলীয় এসব এলাকার অনেকেই প্রাণের মায়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন কেউ কেউ।

খুলনার জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক করছেন। এতসব আয়োজনের পরেও আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ যেতে চাচ্ছেনা। তাই উপজেলা প্রশাসন ও সিপিপি এর সদস্যরা স্থানীয়দের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ পরবর্তী প্রস্তুতি হিসেবেও শুকনো খাবার, টিআর চাউল, নগদ অর্থ ও ঢেউটিন মজুদ রয়েছে। মাঝি ও উপকূলবাসীদের সতর্ক করতে চলছে মাইকিং।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জেলার ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছায় ২৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেবার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা আছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি এবং নয়টি উপজেলায় নয়টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা: ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পটুয়াখালী জেলার সর্বত্র গুমোট আবহাওয়া সহ দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে।গতকাল দিনভর গুড়ি বৃষ্টির পর মধ্যরাত থেকে একটানা বর্ষন শুরু হলেও আজ সকাল থেকে থেমে থেমে মাঝারী ভারী বৃষ্টি চলছে।

এ দিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারী হওয়ার পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় চরাঞ্চলের ঝুকিপূর্ন এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোড় চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ লোকজনই আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করছে।

এ দিকে ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সবচেয়ে বেশী ঝুকির মধ্যে থাকা কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: শওকত হোসেন বিশ্বাস জানান, নেওয়াপাড়া থেকে পশরবুনিয়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ভেড়ীবাধহীন এলাকার কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ হাজার লোকের বসবাস,দীর্ঘবছর পর্যন্ত ভেড়ীবাধহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঐ এলাকা। ঐএলাকায় ৯ টি সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে, এতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার লোক আশ্রয় নিতে পারবেন।আজ দুপুর ১ টা পর্যন্ত সিমীত আকারে লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন ,প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজন কে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জোড় চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি আশা করেন সন্ধ্যার মধ্যে সব লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে পারবেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন