বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আধা ঘণ্টায় অগ্রিম টিকিট হাওয়া ভিড় নেই সায়েদাবাদ-মহাখালীতে

বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু : বিআরটিসির টিকিট বিক্রি ২৬ জুন থেকে

প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

পলাশ মাহমুদ : আসন্ন ঈদ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) থেকে প্রায় ৬০টি রুটে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। টিকিট পেতে প্রথম দিনেই রাজধানীর গাবতলীতে বাস টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল ৭টায় কাউন্টার খুললে আধ ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বলে জানানো হয়। টিকিট সঙ্কটকে সাজানো নাটক বলে মনে করছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তবে সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় লক্ষ করা যায়নি। অন্যদিকে বিআরটিসি’র বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি আগামী ২৬ জুন (রোববার) থেকে শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ‘টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে এসব কথা ধোঁকাপূর্ণ ও সাজানো নাটক। সামান্য কয়েকটি টিকিট বিক্রি করেই কাউন্টার ম্যানেজাররা টিকিট নেই বলে। কিন্তু পরে বেশি দামে বিক্রি করে এবং কালোবাজারিতে সেসব টিকিট বিক্রি করা হয়।’ এজন্য বিআরটিএর ভিজিল্যান্স টিমকে শুধু নামে না রেখে কাজে রূপান্তর করার দাবি জানান তিনি।
বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ (সোমবার) সকাল থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিন হওয়ায় প্রচ- ভিড় হয়েছে। টিকিটের মূল্য হিসেবে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে সমিতির পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এছাড়া অগ্রিম টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গাবতলীতে টিকিট সঙ্কট : গতকাল সকালে অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গেলে যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের একরকম বেশি টাকা গচ্চা দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে। এছাড়া গন্তব্যের চেয়ে বেশি দূরত্বের টিকিট কিনতে হচ্ছে। যেমনÑবগুড়ার যাত্রীকে রংপুরের টিকিট, দিনাজপুরের যাত্রীকে ঠাকুরগাঁওয়ের টিকিট, রংপুরের যাত্রীদের লালমনিরহাটের টিকিট ক্রয়ে বাধ্য করছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ফলে টিকিট না পাওয়ার শঙ্কায় বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিয়ে এসব টিকিট কিনছেন যাত্রীরা।
টিকিট প্রত্যাশী অনেক যাত্রী সাহারির সময় থেকেই বাস কাউন্টারগুলোর সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। সময় যত বাড়তে থাকে লাইনও দীর্ঘ হতে থাকে। কেউ আবার পত্রিকা বিছিয়ে বসে পড়েন। এত কষ্টের মাঝেও ঈদের বাড়ি যাওয়ার আনন্দ থাকলেও তাদের অভিযোগ, এত কষ্টের পরও কাক্সিক্ষত রুটের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। আকরাম হোসেন নামে এক টিকিট প্রত্যাশী বলেন, দীর্ঘ লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়েও কাক্সিক্ষত টিকিট পাচ্ছি না। আমাকে কুড়িগ্রামের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়েছে। যদিও আমার গন্তব্য রংপুর। শুধু রংপুরের নাকি ভালো মানের টিকিট নেই।
তবে এসআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার মো. আমিন নবী জানান, টিকিটের দাম বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত। বগুড়া ৩৮০ টাকা, নওগাঁ ৪৭০, গাইবান্ধা ৫২০, রংপুর ৫৯০, নীলফামারি ৬৮০ টাকা। এর বেশি নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু যারা বগুড়ার টিকিট পাচ্ছেন না কিংবা ভালোমানের টিকিট চাচ্ছেন তাদের একই রুটের অন্য জেলার টিকিট দেয়া হচ্ছে।
সিদ্ধান্তহীনতায় মহাখালী : গাবতলী বাস টার্মিনালে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও মহাখালীতে তার রেশ নেই। সেখানকার বাস মালিক সমিতি বলছে, অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কিছু কিছু কাউন্টারে চলছে টিকিটের আগাম বিক্রি।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চললেও অগ্রিম টিকিটের বাস চলে হাতে গোনা কয়েকটি রুটে। ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মো. মানিক মিয়া জানান, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, ফেনী, কক্সবাজার ও রংপুর রুটে অগ্রিম টিকিট দেওয়া হয়। তবে এখনো এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তাদের দাবি, এ কারণে টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি।
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে চলাচলকারী একতা ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার আলতাফ বলেন, মালিকপক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না আসায় অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে বিক্রি শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি। এসআর ট্রাভেলসে খোঁজ নিয়েও একই তথ্য জানা যায়। অবশ্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হলেও কিছু কিছু কাউন্টারে অগ্রিম টিকিটের বিক্রি চলছে।
নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলাচলকারী দেশ ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার মো. গোলাম আজম বলেন, তারা ৩০ জুন থেকে আগামী ৪ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ২৯ জুন পর্যন্ত টিকিট কাউন্টারে বিক্রি করা হচ্ছে। দুর্নীতি কমাতেই অনলাইনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চাপ নেই সায়েদাবাদে : ঈদ যাত্রায় রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া কিছু পরিবহনের অগ্রিম টিকিট গতকাল বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে টিকেট সংগ্রহে ভিড় দেখা যায়নি যাত্রীদের। কাউন্টার মাস্টার ও টিকেট বিক্রেতারা বলছেন, গতকাল (সোমবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকেটে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তারা যে কোন দিনেরই অগ্রিম টিকেট দিচ্ছেন। তবে ঈদের এখনও বেশ কিছু দিন বাকি থাকায় যাত্রীরা টিকেট সংগ্রহ শুরু করেননি।
সরেজমিন ঘুরে অধিকাংশ কাউন্টারই দেখা যায় ফাঁকা। যে দুই একজন যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা গেলো তারা সবাই চলতি বাসের জন্য অপেক্ষমাণ। অগ্রিম টিকেট সংগ্রহকারী কাউকে দেখা যায়নি। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, বৃহত্তর সিলেট ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিলাসবহুল ও সাধারণ মানের পরিবহন চলাচল করে।
শ্যামলী পরিবহনের সিলেট জোনের অপারেশন ইনচার্জ চঞ্চল বলেন, আমরা যেকোন দিনের অগ্রিম টিকেট দিচ্ছি। তবে ২০ রোজার আগে সেভাবে বিক্রি করতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না। এ সময় তিনি ফাঁকা কাউন্টারের দিকে নির্দেশ করে বলেন, ‘দেখতেই পাচ্ছেন অবস্থা।’
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার ওয়াহাব বলেন, আমরা টিকেট বিক্রির জন্য প্রস্তুত। তবে ঈদের অনেক দিন বাকি থাকায় যাত্রীরা এখনও কিনতে শুরু করেননি। অন্যান্য বছরও ২০ রোজার আগে সাধারণত অগ্রিম টিকেট বিক্রির চাপ সে ভাবে থাকে না। তাই ২০ রোজার পরে টিকেট বিক্রি বাড়বে।
বিআরটিসি’র অগ্রিম টিকিট ২৬ জুন : আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের সেবায় এবারও থাকছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) ঈদ স্পেশাল সার্ভিস। ঈদ সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আগামী রোববার (২৬ জুন) থেকে বিআরটিসি’র টিকিট বিক্রি শুরু হবে। গতকাল (সোমবার) বিকেলে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক পথে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। রেলপথেও ২২ জুন থেকে শুরু হবে।
এ ব্যাপারে বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, দেশের অধিকাংশ রুটেই আমাদের বিআরটিসি’র ঈদ স্পেশাল সার্ভিস থাকছে। সাড়ে ৪০০ বাস এজন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রুট অনুযায়ী টিকিটপ্রতি দাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রত্যেকটি ডিপো থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে। সেখান থেকে যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। সেখান থেকেই দাম নির্ধারণ হবে। টিকিটের দামে গত ঈদের তুলনায় হেরফের হবে না।
টিকেট পাওয়া যাবে যেখানে : মতিঝিল, জোয়ার সাহারা, কল্যাণপুর, মিরপুর দ্বিতল, মোহাম্মদপুর, উথলী (গাবতলী), গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো। অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হলে সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলোতে সরাসরি কিংবা বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিয়ে টিকেট কেনার সুযোগ এবার থাকছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন