ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর সফল অস্ত্রোপচার

প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশু মোহাম্মদ আলীর সফল অস্ত্রোপচার শেষে জ্ঞান ফিরে এসেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা তাকে পোস্ট অপারেটিভ থিয়েটারে রেখে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা প্রদান করা হবে। পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. রুহুল আমিনের নেত্বত্বে ১৮ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গতকাল শিশুটির সফল অস্ত্রোপচার করে। দুপুর আড়াইটায় এ আলাপকালে ডা. রুহুল আমিন জানান, তিনি কিছুক্ষণ আগেই শিশুটিকে পোস্ট অপারেটিভে দেখে এসেছেন। তার জ্ঞান ফিরে এসেছে। অস্ত্রোপচার পরবর্তী তাৎক্ষণিক যেসব জটিলতা দেখা দেয়, সেরকম বড় ধরনের কোনো জটিলতা হয়নি। শিশুর শারীরিক অবস্থা আপাতত ভালোই আছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত না হলে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাবে না। তিন মাস ১৩ দিন বয়সী শিশু মোহাম্মদ আলীকে গতকাল সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় কেবিন ব্লকের ৯ তলার ওটিতে অ্যানেসথেশিয়া দেয়ার পর ৯টা ৫০ মিনিটে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটে অস্ত্রোপচার শেষ হয়। প্রফেসর ডা. রুহুল আমিনের বরাত দিয়ে বিএসএমএমইউয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মজুমদার এ তথ্য জানান।
চিকিৎসকরা জানান, আগে যে কোন রোগীর অস্ত্রোপচার হলে তাদের স্বজনরা ওটির বাইরে অপেক্ষা করতো। ওটি থেকে একজন পিয়নকে বের হতে দেখলেও ছুটে গিয়ে অপারেশন কতক্ষণ হয়েছে, আর কতক্ষণ লাগতে পারে, রোগী সুস্থ রয়েছে কি না ইত্যাদি জানতে চাইতেন। কিন্তু প্রযুক্তির সহায়তায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের ঘটনাটি শিশুটির বাবা-মাসহ অসংখ্য মানুষ ওটির বাইরে লাগানো বড় স্ক্রিনে সরাসরি দেখতে পেয়েছেন। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটির দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যকৃৎ, খাদ্যনালী, কিডনি, মূত্রাশয় ও পুরুষাঙ্গসহ নিম্নাংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ দেহ থেকে সফলভাবে অপসারণ করা হয়।
বিএসএমএমইউ ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান অস্ত্রোপচার শুরুর আগে ওটি কমপ্লেক্সে গিয়ে অস্ত্রোপচারে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের শুভকামনা জানান। আলাপকালে মোহাম্মদ আলীর বাবা মো. জাকারিয়া জানান, তার ছেলের অস্ত্রোপচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা ওটির বাইরে স্থাপিত টিভি স্ক্রিনে দেখেছেন। ছেলের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়াও চান তিনি।
আরেকটি শিশুর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ নিয়ে জন্মানো মোহাম্মদ আলী নামের পূর্ণাঙ্গ শিশুটি গত ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করে। জন্মের তিনদিন পর থেকে সে বিএসএমএমইউতেই চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসায় গঠিত ১৮ সদস্যের মেডিকেল টিমের মধ্যে উপদেষ্টা সার্জন হিসেবে ছিলেন পেডিয়াট্রিক বা শিশু সার্জারি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. শফিকুল হক, প্রফেসর ডা. মো. মতিউর রহমান ও প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সার্জিক্যাল পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রফেসর ডা. মো. রুহুল আমিন, প্রফেসর ডা. মো. তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম দিদারুল ইসলাম, ডা. দিনেস প্রসাদ কৈরালা, ডা. এ কে এম খায়রুল বাসার, ডা. নূর মোহাম্মদ ও ডা. মাফিয়া আফসিন লাজও অংশগ্রহণ করেন অস্ত্রোপচারে। অ্যানেসথেসিয়া টিমে ছিলেন- অ্যানেসথেশিয়া, এনালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. দেবব্রত বনিক, সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল হাই, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মনজুরুল হক লস্কর, ডা. মো. আব্দুল আলীম ও ডা. সাফিনা সুলতানা সম্পা।
নবজাতক বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা, নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল মান্নান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে প্রমুখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন