ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ঈদকে সামনে রেখে তৎপর পুলিশ

প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : ঈদকে সামনে রেখে তৎপর পুলিশ। ঢাকাসহ সারাদেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। রেলওয়ে স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে বিশেষ টিম নিযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় শহরে বিপণিবিতান ও শপিংমল যথাসম্ভব সিসিটিভির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসাধারণের কেনাকাটার সুবিধার্থে এবং তারাবির নামাজের সময় অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে গভীর রাত পর্যন্ত নৈশ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনে হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশ বিশেষ তৎপর রয়েছে। সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করতে নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সদর দফতরের পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহছান। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বাড়লেও অপরাধ কর্মকা- সেভাবে বাড়েনি। বরং মানুষ সস্তিতে নির্বিঘেœ কেনাকাটা করতে পারছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি।
গত মাসে পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। সভায় ঈদকে কেন্দ্র করে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে তৎপর থাকতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি। একই সাথে তিনি খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেন। সভায় ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে মোতাবেক রেলওয়ে স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত আছেন। ইতোমধ্যে অজ্ঞান পার্টির ২১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় শহরে বিপণিবিতান ও শপিংমল যথাসম্ভব সিসিটিভির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়াতে এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। আলাপকালে পুরান ঢাকার বাসিন্দা রহমতউল্লাহ বলেন, ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা এখন যানজট। মার্কেট বা বিপণিবিতানগুলোতে গেলে যানজট ছাড়া অন্য কোনো বিড়ম্বনা নেই। এক সময় মার্কেট ও বিপণিবিতানে গেলে মাস্তান, পকেটমার, প্রতারকদের খপ্পড়ে পড়ত মানুষ। এখন তা নেই। প্রতিটি মার্কেটে রয়েছে পুলিশের টহল টিম। নিরাপত্তার কারণে মানুষ এখন গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করতে পারে। মিরপুরের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা পুলিশের সমালোচনা করি ঠিকই। অথচ পুলিশ ছাড়া কিন্তু আমাদের একমুহূর্তও চলে না। পুলিশ জনগণের বন্ধু। এ কথা প্রচলিত অর্থে ব্যবহার না করে সত্যি সত্যি তাই হতে হবে। পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীর বদনাম করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। কিন্তু এবার পুলিশের তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে কোনো প্রকার অবনতি ঘটনার আশংকা নেই। পুলিশের মনোভাব কঠোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার জানা মতে মিরপুরে রাস্তা বন্ধ হকারদের বসানোর জন্য সরকারি দলের রাজনৈতিক নেতারা বহু চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পুলিশের কারণে তারা পেরে ওঠেননি। গুলিস্তানের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, ডিএমপি কমিশনার বলেছিলেন গুলিস্তানের রাস্তা রমজান মাসে হকারমুক্ত থাকবে। পুলিশ হকারদের রাস্তা থেকে তুলে দেয়ার পর আর বসতে দেয়নি। সেই থেকে গুলিস্তান এখন যানজটমুক্ত।
রাজধানীর যানজটের ভোগান্তি নিয়ে মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রমজানে এই যানজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রমজানে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে যানবাহনের চাপ বাড়ে। এ কারণে ওই সময়গুলোতে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে ট্রাফিক পুলিশের চেষ্টায় যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। ঢাকার রাস্তায় ধারণক্ষমতার চেয়ে ২০-২৫ গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করে। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় যানজট অনেকটাই সহনীয়। পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, এবার মানুষ ফরমালিনমুক্ত মৌসুমী ফল খাচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে সারাদেশে র‌্যাব-পুলিশের তৎপরতার কারণেই। জেলা পুলিশ প্রশাসন থেকে আমবাগানগুলোতে মনিটরিং করা হয়েছে যাতে সময়ের আগে কেউ কাঁচা বা অপরিপক্ব আম না পাড়তে পারে। গত মাসের ২৫ তারিখ থেকে আম পাড়া উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এতে করে আমে ফরমালিন বা বিষাক্ত কার্বাইড দেয়ার প্রবণতা এবার নেই বললেই চলে।
ডিএমপি মিডিয়ার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, ঢাকা মহানগরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এতে করে অপরাধমূলক কর্মকা- নেই বললেই চলে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন