ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

পরিবহন সেক্টরকে অশান্ত করার চেষ্টা শাজাহান খান গ্রুপের

প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৫১ পিএম, ২০ জুন, ২০১৬

বিশেষ সংবাদদাতা : পরিবহন সেক্টরকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দেশের পূর্বাঞ্চলকে টার্গেট করে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাজাহান খানের পরিবহন শ্রমিক গ্রুপ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বঙ্গভবনের পূর্ব দিকে একটি অফিসের দখল নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বেলা দুপুর ১২টার দিকে এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নীচে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
জানা গেছে, বঙ্গভবনের কাছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের (রেজি: নং ৪৯৪) অফিস। এই অফিসটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন অদুদ নয়ন ও করম আলীর নেতৃত্বাধীন শ্রমিক কমিটি। শ্রমিকরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই শাজাহান খান সমর্থিত ওসমান-সফর আলী গ্রুপের শ্রমিকরা অফিসটি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করে আসছিল। ইতোমধ্যে তারা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বিভিন্ন রুটে নতুন করে কমিটি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকে। এ নিয়ে মালিকরাও বিব্রত।
শ্রমিকরা জানান, শাজাহান খান গ্রুপ মূলত গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর টিকাটুলির অফিস দখল করে। গতকাল বেলা ১২টার দিকে দুই গ্রুপ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বাধে। এর জের ধরে বেলা পৌনে ১টার দিকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে যান
চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সংঘর্ষ চলার সময় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সায়েদাবাদ বাসটার্মিনালেও আতঙ্ক চড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা দিগি¦দিক ছুটোছুটি করতে থাকে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে দূর-পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দু’দল শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় এতে হাজার হাজার গাড়ী রাস্তায় আটকা পড়ে। লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যাত্রাবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার আনোয়ার হোসেন শীর্ষ বলেন, ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ দখলদার শ্রমিকদের বিতাড়িত করে অফিসটি দখলে নেয়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একজন মন্ত্রী দখলদারদের পক্ষে কাজ করার জন্য উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। তারপরেও পুলিশ শান্তি রক্ষার জন্য অফিসটি দখলদারমুক্ত করে। এ বিষয়ে মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, মন্ত্রী শাজাহান খান বহুদিন ধরেই সায়েদাবাদ টার্মিনালকেন্দ্রীক শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা পরিবহন সেক্টরকে অশান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ঈদের আগে অফিস দখলকে সেই ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের জন্য বলেছিলাম। কিন্তু মন্ত্রীর গ্রুপ কোনো কথাকেই পাত্তা না দিয়ে দখলদারিত্বে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে সরকারের ভাবমর্যাদা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্ক রয়েছে উল্লেখ করে আরেক নেতা বলেন, শাজাহান খানের শ্রমিক নেতারা পদ্মা সেতুকে টার্গেট করে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন সেক্টরকে অশান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গতকালের ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাস চলাচল বন্ধ : যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
গতকাল সোমবার সকাল থেকে ঢাকার সঙ্গে নারায়গঞ্জের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আগাম ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যস্ততম এ রুটে চলাচল করা হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে সকালে অফিসগামী লোকজনদের দুর্ভোগ ছিল অনেক বেশি।
জানা গেছে, ঢাকায় ৪৯৪ শ্রমিক সংগঠনের কি একটি সমস্যায় তারা ঢাকায় বাস চলাচল করতে দিচ্ছে না। তাই মালিক ও শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন বলে পরিবহন নেতারা দাবি করেছেন।
এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ট্রেনে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। ট্রেনের সবগুলো বগিতেই ছিল মানুষের অসহনীয় ভিড়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রায় ৫ শতাধিক বাস চলাচল করে।
এই বাসগুলো নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, নারায়ণগঞ্জ-পাগলা-ঢাকা রুটে বাস চলাচল করে থাকে। কিন্তু সোমবার ভোর থেকেই এসব রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে এসে যাত্রীরা ফেরত যান। পরে তারা ট্রেনে করে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রেনে প্রচ- ভিড় থাকায় অনেকেই ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হন। এই অবস্থায় অফিসগামী লোকজন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, চাষাঢ়া এলাকা থেকে বাস চলাচল বন্ধের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকেও বাস চলাচল কমে গেছে। দূরপাল্লার বাস ঢাকার দিকে আসছে না। শিমরাইল মোড় এলাকা থেকেও ঢাকার দিকে তেমন বাস চলাচল করছে না।
নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ বাস-মিনিবাস, কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্যজোটের সভাপতি মোক্তার হোসেন জানান, বাস বন্ধ রাখতে সমিতির কোনো নির্দেশনা ছিল না। ঢাকায় ৪৯৪ সংগঠনে কি একটি সমস্যা হয়েছে তাই তারা ঢাকায় বাস চলাচল করতে দিচ্ছে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
মোবারক ২১ জুন, ২০১৬, ৭:৩৮ এএম says : 0
শাজাহান গ্রুপের বক্তব্য কোথায় ?
Total Reply(0)
জাবের ২১ জুন, ২০১৬, ৭:৩৮ এএম says : 0
মন্ত্রী বলে কথা !
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন