ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নিখোঁজ ৯ জেলের লাশ উদ্ধার ভোলায় ট্রলার ডুবি

বরিশাল ব্যুরো ও ভোলা জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

 ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কবলে পরে ভোলার ইলিশা এলাকায় মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ ১০ জেলের মধ্যে নয়জনের লাশ সোমবার রাতে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের কাছে মেঘনা ও মাছকাটা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নদী থেকে ভাসমান নিখোঁজ ৯ জেলের লাশ উদ্ধার করে।

জেলেরা ভোলার চরফ্যাশন থেকে ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে চাঁদপুর মোকামে তা বিক্রি করে ফেরার সময় রোববার দুপুরে ইলিশা এলাকায় মেঘনা নদীতে প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পরে। এসময় ২৪ জেলে ও চালকসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। ১৩ জনকে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করে। একজনের লাশ পাওয়া যায় দুপুরের পরে। নিখোঁজ ছিল ১০ জন। এর মধ্যে সোমবার রাতে ৯ জনের লাশ মিললেও অপরজনের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যায়নি। উদ্ধারকৃত জেলেদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নিহতরা হলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার আবুবক্করপুর এলাকার কামাল দালাল (৬৫), একই এলাকার মফিজ মাতাব্বর (৩৫), নূরাবাদ এলাকার হাসান মোল্লা (৩৮), একই এলাকার নুরুন্নবী বেপারী (৩০), ফরিদাবাদ এলাকার নজরুল ইসলাম (৩৫), একই এলাকার কবির হোসেন (৪০), আব্দুল্লাহপুর এলাকার মো. বিল্লাল (৩২), চরফ্যাশন থানার উত্তর শিবা এলাকার আব্বাস মুন্সি (৪৫), একই এলাকার লতিফ বিশ্বাসের (৫৫) বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আগের দিন রোববার কোস্টগার্ড আরেকটি লাশ উদ্ধার করেছিল। লাশগুলো চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক সরকারের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ভোলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে। এডিসি সার্বিক মৃধা মুজাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক।

এদিকে, বরিশালের হিজলা উপজেলার মিয়ারচর এলাকা থেকে রোববার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পরা ৩০ শ্রমিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও কোস্ট গার্ড। মেঘনার শাখা নদীতে খননকাজে ব্যবহৃত বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজারের একটি সহায়ক বোটের ওয়ার রোপ ছিঁড়ে গেলে শ্রমিকদের নিয়ে বোটটি উত্তাল মেঘনায় ভাসতে থাকে। রোববার দুপুর ৩টার দিকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে রমজান নামে এক ব্যক্তি জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রবল ঝড়ে সৃষ্ট ঢেউয়ের তোড়ে একটি পন্টুন নোঙর থেকে ছিঁড়ে ২৫-৩০ জন শ্রমিকসহ নদীতে ভেসে গেছে। রমজান তাদের উদ্ধারের অনুরোধ জানালে সঙ্গে সঙ্গে তার সাথে হিজলা থানার ওসির কথা বলিয়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ৯৯৯ এর পক্ষ থেকে বিষয়টি বরিশাল জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডকেও অবহিত করা হয়।

খবর পেয়ে উত্তাল নদীর বুকে প্রায় পৌঁনে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পুলিশের উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে ভাসমান পন্টুন থেকে ১৮ শ্রমিককে উদ্ধার করে। একইসাথে কোস্ট গার্ডও সেখানে পৌঁছে ১২ শ্রমিককে উদ্ধার করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন