ঢাকা, মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৭ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

শিক্ষাদিক্ষা

জাবির ভিসির অপসারণ ও হল খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ৩:০৪ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ এবং হল খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২ টায় মিছিলটি কলা ও মানবিকী অনুষদ( নতুন কলা) সংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পুরাতন রেজিষ্ট্রার ভবনে গিয়ে শেষ হয় । পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

সমাবেশে শোভন রহমানের সঞ্চালনায় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, এই আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করার আন্দোলন । ৫ নভেম্বর ছাত্রলীগের হামলার পর শতশত শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানাতে হল থেকে বের হয়ে এসেছিল। যদি ভূল পথে হাটি তাহলে হল খুলে দেওয়া পর আবারও শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষের এই আন্দোলনে অংশ নিবে। তাহলে কালক্ষেপন করে লাভ কী ? আমরাদের সমাধানের পথে আসতে হবে। ভূল পথে না হেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনের নিয়ে সমাধানের পথে আসতে হবে । শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছে দূর্নীতির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উপাচার্য নির্দোষ প্রমানিত হলে তিনি নিজ পদে বহাল থাকবেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে । এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যের তদন্তে সহায়তার করার সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় যতই বিলম্বে খুলে দেওয়া হোক না কেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তের সদিচ্ছা না থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা আবার মাঠে নেমে আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় আবারও সংকটের দিকে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় চলমান সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও ইউজিসি থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।তারা তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিবে বলে জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কে অনিরাপদ করে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে, হল ভ্যাকেন্ড করে দিয়েছে। সন্ত্রাসী হামলা, মামলা দিয়ে আন্দালন দমন করার পথকে মাড়িয়ে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

ছাত্র ইউনিয়নে জাবি সংসদের সহ-সভাপতি ওয়ালিউর রহমান সান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক আন্দোলনে তারা হামলা চালিয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ভ্যাকেন্ড করেও আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন দমাতে পারেননি । শুধু দুর্নীতি নয়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে তার জন্যও এই উপাচার্যকে পদত্যাগ করা উচিৎ।

এক সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলাকে গনঅভ্যুত্থান বলে উপাচার্য ৬৯এর গনঅভ্যুত্থানকে অপমান করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আমরা আন্দোলনের শুরুতে তদন্ত কমিটির দাবি করে। যখন দেখলাম প্রশাসনের দুর্নীতির তদন্ত করার কোন ইচ্ছাই নাই। তখন আমরা এই উপাচার্যের অপসারণ দাবি জানাই। তারপর আমাদের শান্তিপূর্ণ অবরোধে শিক্ষক-কর্মচারী তারপর ছাত্রলীগ হামলা করলো । তারপর আমাদের থাকার জায়গা কেড়ে নেওয়া হলো। খাবারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হলো ।উপাচার্যকে উদ্দেশ্য তিনি বলেন, থাকার জায়গা নষ্ট করে, খাবার কেড়ে নিয়ে, হামলা করে আন্দোলন দমানো যায় না।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস , অধ্যাপক শামিমা সুলতানা , অধ্যাপক তারেক রেজা , অধ্যাপক জামালুদ্দিন রুনু, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জাবির সাংস্কৃতিক জোট ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা কর্মীরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন